শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৩

ফেসবুকের গল্প-কথা....



ফেসবুকের শুরুটা বলি আজ তাহলে। আরেহ নাহ! ফেসবুক কিভাবে শুরু হলো তা বলবো না। আমি বলতে যাচ্ছি কিভাবে 'আমি' ফেসবুকে আসলাম, আর তাকে বুঝতে শুরু করলাম সেই কথা।

সময়টা ২০০৬ এর শেষের দিকে। নেটে পড়ে আছি অনেকদিন হয়। ও হ্যাঁ, তখন নেট মানে হচ্ছে আফতাব আইটি (Aftab IT) বা BOL (Bangladesh Online Limited) এর কার্ড আর টেলিফোন লাইন ব্যবহার করে ইন্টারনেট সংযোগ। তাও আবার কাটায় কাটায় মিনিট হিসেব করে, সময় শেষ তো লাইন অফ, কোন ছাড় নেই।

তো সেই সময় মূলত নতুন নতুন সাইট আর ব্লগে ঢু মারতাম আর সামুতে পড়ে থাকতাম। বিশেষ কাউকে না চিনলেও দুই একজনের লেখা রেগুলার ফলো করতাম। আরো একটা কাজ করতাম। মজা নিয়ে নিজের নামের আরো কেউ আছে কিনা কোথাও সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতাম। আর মজার ব্যাপার হলো যে, তখন এমন নিজের নামের সাথে মিল আছে এমন দুইজনের সন্ধানও পেয়ে যাই। তবে তারা কেউ বাংলাদেশের ছিলো না। দুইজনই কোলকাতার, আবার তাদের মাঝে একজন ইউরোপ প্রবাসী।

দিন ভালোই কাটছিলো ঐভাবে। অল্প সময় নেট আর অল্প স্বল্প জ্ঞান আহরণ। প্রায় সব ওয়েব পেইজ গুলিকে পরে পড়বো ভেবে হার্ডডিস্কে সেভ করে পড়তাম, আর অনলাইনে সার্চ আর কমেন্ট করার কাজ করতাম। যদিও প্রতিটা সাইটে আলাদা আলাদা রেজিস্ট্রেশন করার বিপরীতেই কমেন্ট করতে দিতো সেই সময়ে। 

দেখতে দেখতে এভাবে ২০০৭ চলে আসলো। তখন সাইবার ক্যাফে আর ইন্সটিটিউটের ল্যাবে বসে ইন্টারনেটে সময় কাটাই। ল্যাব এসিস্টেন্টের সাথে খাতির থাকায় ক্লাসের পরেও তার সাথে ল্যাবে কাজ করতাম আর ইন্টারনেট একসেস করতে পারতাম। তখন একটা সাইটে একটা সফটওয়্যার রিভিউ দেখলাম। সফটওয়্যারটা অনেক কাজের কাজী। আর তাই তা পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠলাম। কিন্তু সে যেই লিংক দিয়েছে তা ততদিনে ডেড লিংকে রূপ নিয়েছে। 

তখন তার ঐ পোষ্টও প্রায় ২ মাসের পুরানো হওয়ায় শুধু মন্তব্য করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছিল না। আর সাইটেও পাচ্ছিলাম না তখন তাকে। সে জন্যেই অন্য চিন্তা শুরু করলাম। সাইট ঘাটিয়ে তার পরিচয় আর মেইল খুঁজে বের করলাম এবং তাকে মেইল করলাম। সেই মেইলের রিপ্লাই ও পেলাম প্রায় সপ্তা খানিক পর। আমাকে বললো ফেসবুকে যোগাযোগ করতে। তখনও আমার তো ফেসবুক একাউন্ট নাই, আর তার সাথে যোগাযোগ করার উদ্দেশ্যেই সেই ফেসবুকে রেজিস্ট্রেশন করি তখন। 

রেজিস্ট্রেশন শেষে তার মেইল এড্রেস দিয়ে তাকে ফেসবুকে খুঁজে বের করলাম। কিন্তু যখনই তার কোন একটা পোষ্টে কমেন্ট করতে গেলাম তখন বুঝতে পারলাম কারো সাথে যোগাযোগ করতে হলে তাকে আগে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। নতুবা তার পোষ্টে কমেন্ট করতে পারবো না আমি। তাই আইডির লিংক নিয়ে রিকোয়েস্ট দিয়ে আবারও মেইল দিলাম তাকে, আমাকে এড করার জন্যে। সে এড করে আমাকে সেই সফটওয়্যার এর লিংক দিলো এবং তারপর তার সাথে আরো কয়েকবার শুধুমাত্র প্রয়োজনেই কথা হয়েছিলো এই ফেসবুকে। কিন্তু আমার ফেসবুক তখনও ঐ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। 

২০০৮ এর শেষের দিকে ব্লগে খুব সময় দিচ্ছি। টেকি ব্লগ কোনটাই বাকি নেই যে সকাল সন্ধ্যায় চোখ বুলাই না। তবুও টেকটিউন্স আর বিজ্ঞানী.অর্গে ভালো সময় কাটতো আমার। নিজে কিছু পারতাম না, কিন্তু সবার কাছ থেকে শিখতে চেষ্টা করতাম। তখন আবার কয়েকজন টেকি বন্ধু বললো ফেসবুকের কথা। আমি তো আইডি যে আছে সেইটাই ভুলে গিয়েছিলাম ততদিনে। রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে দেখি আগে রেজিস্ট্রেশন করা আছে, তাই পাসওয়ার্ড রিকোভার করে লগইন করলাম। তখনও দুই তিনদিন চালিয়ে ফের অফ। আর কোন খোজ খবর নেই। 

ওদিকে ইন্সটিটিউটের অনেক ফ্রেন্ড তখন ফেসবুক কে লাভবুক বানিয়ে ফেলেছে। যাকেই দেখি ফেসবুকে তাকেই দেখি গার্লফ্রেন্ডের সাথে মেসেজ আদান প্রদান আর সব পোষ্ট গার্লফ্রেন্ডকে উৎসর্গ করে। তাই ঐদিকে ফেসবুকে আইডি আছে বলতে লজ্জা লাগতো, পরে লোকে কি মনে করে এই ভেবে।

সব শেষে ২০১২ তে আবার ফেসবুকে সময় দেয়া শুরু করলাম। ইন্সটিটিউটের বন্ধুদের সাথে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ালো এই ফেসবুক। সবাই মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করলেও ফেসবুক আইডি তো আর পরিবর্তন করছে না তাই এটাই ভরসা হয়ে দাঁড়ালো আমার জন্যে।

মৌলিক বিষয় গুলি তখন থেকেই বুঝতে শুরু করলাম ফেসবুকের। সাইটে যেমন ড্যাশ-বোর্ড থাকে এখানে পুরোটাই তার মিল আছে তবে ভিন্ন ভাবে সব উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্যাগ করা শিখলাম, শিখলাম ফটো আপলোড এবং তাতে ট্যাগ করে বন্ধুদের যুক্ত করার বিষয়টা। তবে কখনোই অসামাজিক কোন পেইজ বা গ্রুপে যুক্ত ছিলাম না, এবং প্রশ্ন করতে পারে এমন কারো সাথে বন্ধুত্বও তৈরি হয় নি। কিন্তু নিজেকে ঠিক ঐভাবে মুক্ত মনে হচ্ছিলো না প্রোফাইলটাতে।

২০১৩ এর মে মাসের ২৬ তারিখে একটা আইডি খুললাম যাতে আমার কোন পরিচিতি নেই এবং নেই পরিচিত কেউ সেখানে। সেখানে এসে হুট করেই অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে গেলাম। পরিচিত হলাম নতুন সব অপরিচিতের সাথে। দেখলাম একটা পরিবার এবং তাকে জড়িয়ে অনেক গুলি উজ্জ্বল মুখ। তাদের সাথে এই অল্প সময়ের পথ চলাতে অনেকের সাথে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আর পেয়েছি কিছু বড় ভাই আর বোন।

যে ভালবাসা পেয়েছি তার কোন কিছুই হয়তো ফেরত দেবার যোগ্যতা নেই আমার। তবে সবার মত এর খারাপ দিক গুলিকে বলবো না। অনেক ভাল কিছুই লুকিয়ে আছে এই ফেসবুক পাড়াতে...... :)




শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৩

নীরা, তোমার অপেক্ষায়.....



নীরা, তোমাকে তো বলা হয়নি। তোমার জন্যে ঐ দিন স্টেশনে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম। মিন্টু বলেছিল তুমি নাকি বাড়ি আসছো। আমি সেই শীতের রাতে প্লাটফর্মে বসেছিলাম তোমার জন্যে। জানো রাতে বেকার সময়টাতে প্লাটফর্মে তেমন কেউ থাকে না। তবে একেবারেই যে থাকে না তা কিন্তু নয়। আমাদের স্টেশনটা ছোট। গ্রামের স্টেশন অতবড় হয় না। কিন্তু তারপরও দেখলাম কয়েকটা বৃদ্ধ আর বেশ কিছু টোকাই গোছের বাচ্চা ছেলে এক কোনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে আছে। একটা পরিবারও মনে হয় আছে সেখানে। এই শীতেও তারা কি করে ঘুমুচ্ছে তা আসলেই চিন্তা করার মত বিষয়।

ভুল হয়ে গেছে নীরা। আসলে বাংলাদেশের ট্রেন গুলি যে সময় মত আসে না তা আমার জানা আছে। তবুও অনেক আগেই চলে এসেছি। আসলে তুমি আসছো এইটা শুনে আর অন্য কোথাও অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করছিলো না। এখন মনে হচ্ছে একটা বই নিয়ে আসার প্রয়োজন ছিলো। গল্পে ডুবে থেকে তোমার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকায় হয়তো সময়টা মন্দ কাটতো না। কিন্তু দ্রুত চলে আসলাম, মনেই ছিল না একটা বই সাথে করে নিয়ে আসার কথা। আচ্ছা কোন বইটা নিয়ে আসতে চাইছি বুঝতে পেরেছ তো? সেই যে তুমি "অপেক্ষা" নামের একটা বই খুঁজতে গিয়েছিলে লাইব্রেরিতে, সেই বইটা। আসলে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তো তোমার জন্যে, তাই আজ ওটার কথাই মনে হচ্ছিল বার বার।

নাহ, আজ মনে হয় অনেক বেশীই দেরি হচ্ছে কোথাও। না হয় ট্রেন তো চলে আসার কথা এই সময়ের মাঝে। কি জানি? হয় তো ট্রেনই লেট ছিল আজ। তাই সব কিছুতেই লেট হচ্ছে। আর ঠাণ্ডাটাও মনে হয় বেড়েছে। লেট যেহেতু হচ্ছে তাই চিন্তা করলাম স্টেশনের বাইরে থেকে চা খেয়ে আসি। দিনের বেলায় হলে বাইরে যাবার ঝামেলা ছিলো না। ছোট ছোট কতগুলি বাচ্চা ছেলেই তো চা'য়ের ফ্লাস্ক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এক ইশারাতেই চা হাজির হয়ে যেতো। কিন্তু রাতের বেলাতে তো আর তা সম্ভব না। তাই স্টেশনের বাইরে যেতেই হবে।

বাইরে বেরিয়ে দেখি এই রাত দুপুরেও একটা হোটেল খোলা রয়েছে। আর হোটেল দেখেই খিদেটা টের পেলাম। গিয়ে দেখি দোকানি আর দুইটা ছেলে আছে হোটেলটাতে। অলস সময় পার করছে। তারাও আমার মত অপেক্ষা করছে ট্রেনটার। অল্প কিছু সময়ের জন্যে ট্রেনটা থামলেও এর মাঝেই অনেকে চলে আসে এখানে পেট-পূজা করতে। অন্য সময় হলে ছেলে দুইটার যে কোন একজন দৌড়ে আসতো কি খাবো তা অর্ডার নিতে। কিন্তু এখন তাদের কোন ব্যস্ততা দেখছি না। একবার আমার দিকে তাকিয়ে দেখেই আগের মতই নিজেদের মাঝে আলাপ করছে তারা। আলাপ করার ভঙ্গি দেখে মনেই হবে না শীতের রাত জেগে থাকার কোন দুঃখ আছে এদের কারো।

ক্যাশে বসে থাকা লোকটাই জানতে চাইলো কি লাগবে। তাকে জিজ্ঞাস করলাম কি পাওয়া যাবে এখন। জানালো রুটি-পারোটা, মোঘলাই, ডিম ভাজি, আর সবজি হবে এই মুহূর্তে। খিদেটা আরো একটু বাড়লো কিন্তু হুট করে ট্রেন চলে আসলে তোমাকে এক পলক দেখার চান্সটা মিস হবে তাই বললাম একটা মোঘলাই আর চা দিতে। শুনে সে নিজেই মোঘলাই তৈরি করতে গেলো ক্যাশ ফেলে, ছেলেদের ডেকে আর বিরক্ত করলো না। আমি সামনের দিকের একটা টেবিলে বসে স্টেশনের দিকে চেয়ে আছি। দ্রুতই সে মোঘলাই দিয়ে গেলো। তার কাছে জানতে চাইলাম রাতের ট্রেনটা কখন আসে। জানালো এই সময়ের মাঝে চলে আসার কথা। হয়তো কোথাও দেরি হয়ে গেছে, তাই আজ লেট। তবে খুব দ্রুতই চলে আসবে বললো।

ট্রেন হুট করে চলে আসতে পারে ভেবে যত দ্রুত পারি খেয়ে নিলাম। তারপর প্লাস্টিকের কাপে চা নিয়ে বিল মিটিয়ে আবার এসে বসলাম প্লাটফর্মের টুলটাতে। চারদিক অন্ধকার আর প্লাটফর্মের অল্প আলোয় চারদিক আরো বেশী অন্ধকার মনে হচ্ছিলো। চা'টা শেষ করেও ট্রেনের দেখা পেলাম না। বসে অপেক্ষায় আছি আর মনে পড়ছে এভাবেই বসে থাকার কথা, তোমার পথ চেয়ে। সেই শীতের সকাল বেলায় অপেক্ষার কথা, তোমার কলেজে যাওয়ার পথে। সময়গুলি কত দ্রুত চলে গেলো। তুমি কলেজে পড়া শেষ করে ভার্সিটি ভর্তি হলে। ঢাকা চলে গেলে হোস্টেলে। আর আমি এখনো তোমার অপেক্ষায় বসে আছি এই নির্জনে......







শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৩

কালোর মিছিলে পদ্মবতীর ইচ্ছে-কথন...



সমাজ ব্যবস্থার শুরু থেকেই গায়ের রং নিয়ে বিভেদ তৈরি শুরু হয়েছিল। শুরু হয়েছিল বড় একটা ফারাক মানুষ মানুষে। চামড়ায় উজ্জ্বলতা থাকার দরুন একটা দল নিজেদেরকে একটু কম উজ্জ্বল বর্ণের মানুষ গুলি থেকে আলাদা করে নিয়েছিল এবং নিজেরা শাসক গোষ্ঠীতে প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করে গেছে আজীবন। পক্ষান্তরে এই কৃষ্ণ বর্ণের মানুষ গুলি সবসময় একটা হীনমন্যতায় ভুগে শোষণের স্বীকার হয়ে আসছিলো। সেখান থেকে দাস প্রথার ব্যাপ্তিও দেখা যায়। 

সময়ের স্রোতে ভেসে দাস প্রথা দূর হয়েছে। আমরা আধুনিক হয়েছি। সভ্য জাতি হিসেবে পরিচয় দিতে শিখেছি। নিজেদের সভ্যতা নিয়ে গর্ব করার মত কাজও করেছি অনেক। ভালবাসা দিয়ে আদায় করতে শিখেছি অনেক কিছু। কিন্তু মূল যে সমস্যা তা কিন্তু দূর করতে পারি নি।

হ্যাঁ, ঐ কৃষ্ণাঙ্গদের আমারা এখনো অবহেলার চোখেই দেখি। এখনো আমরা গায়ের রং দেখে মানুষ বিচার করি। তৈরি করি সমাজ, আমাদের তথাকথিত আধুনিক সমাজের মধ্যে থেকেই। আর এখনো তারা অনেক মেধা এবং গুনে গুণান্বিত হয়েও একটা সোজা লাইনে দাড়াতে সাহস পায় না। কারণ সমাজ তাদের দ্বিতীয় লাইনে দাড় করিয়ে বড় করেছে এবং মনে গেঁথে দিয়েছে যে তারা কখনো প্রথম লাইনের উপযুক্ত নয়।

দেখতে দেখতে সময় তো অনেক পেরুল। এখন তো আমরা আবার নিজেদের "সচেতন নাগরিক" বলেও পরিচয় দিয়ে থাকি। তবে এই ব্যাপারটা নিয়ে কেন সচেতনতার অভাব থাকবে? কেন আমরা একজন মেধাবী এবং গুন সম্বলিত ব্যক্তিকে পেছনের লাইনে দাড় করিয়ে রাখবো? কেন শুধু গুণগান করবো ঐ ত্বক ফর্সা ব্যক্তিটির?

তাই আসুন, নিজেদের মাঝে একটা জনমত তৈরি করি। তৈরি করি এমন একটা সমাজ যেখানে গায়ের রং দেখে কেউ কপাল কুচকে তাকাবে না। বরং কাজ এবং গুন দেখেই তার সাথে এক লাইনে দাঁড়াবে। তাকে আপন সম্পর্কে জুড়তে মন কোন কটু চিন্তা করা থেকে বিরত থাকবে।

কিভাবে হবে তা? কেমনে হবে? কে করবে?
এগুলির সহজ উত্তর হল- আমি, আপনি এবং আমরা সবাই :) আমাদের প্রত্যেকের এই ব্যাপারে যত আইডিয়া আছে তা একত্রিত করে একটা সিস্টেমে পরিণত করবো। সমস্যা সমাধানের রাস্তা তৈরি করবো। আর তখনই ভেদাভেদ হীন একটা কাঙ্ক্ষিত সমাজ ব্যবস্থা ফিরে পাবো আমরা।

এই নিয়ে ফেসবুকে "কালোর মিছিলে পদ্মবতীর ইচ্ছে-কথন" নামে একটা পেইজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমারা সবাই এই নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবো। দিতে পারবো নিজেদের মতামত এবং সামনে এগুনোর পথকে করতে পারবো উন্মুক্ত। সময় করে একটু চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন পেইজটা থেকে।

শুভ সূচনায় এবং শুভ উদ্যোগে সকলের অংশগ্রহণই কাম্য....... :)







বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৩

এখনো তোমার অপেক্ষাতেই আছি....



ঐ সেদিন থেকে অপেক্ষা করছি। যেদিন বলেছিলে, তোমার পক্ষে এইসব পাগলামি আর সহ্য করা সম্ভব নয়। তোমাকে কিছুই বোঝাতে পারি নি সেই দিন। শুধু জানতে চেয়েছিলেম, কখনো পাগলামিটা একটু কমিয়ে দিলে ফিরে আসবে কি না? তুমি তার প্রতি উত্তরে কিছুই বলনি আমায়...

ঐ সেদিন থেকে অপেক্ষা করছি। যেদিন তুমি কালো ঐ ট্যাক্সিতে চড়ে উঠলে, আর তা চলতে শুরু করলো। আর একবারও পিছু ফিরে তাকালে না তুমি। আমি এই একা ঘরটাতে একলা কিভাবে সময় কাটাবো তাও একবার ভাবলে না। আমি শুধু দাড়িয়ে দেখছিলাম, দেখছিলাম তোমার চলে যাওয়া টা। ঠিক সেই দিন থেকে অপেক্ষা করছি.....

এখনো অপেক্ষাতে আছি। জানি, তুমি ফিরে আসবে না। কারণ কেউ কোন দিন ঐ অবস্থা থেকে ফিরে আসে নি। আর ফিরে আসবে বলে এখনো কেউ আমাকে মিছে সান্ত্বনা দেয় নি। বলেছিল ভুলে যেতে। বলেছিল নতুন করে সব শুরু করতে। একেবারে শুরু থেকে শুরু করার কথা অনেকেই উপদেশ আকারে দিয়েছিল। কিন্তু কি করে শুরু করি বল? ঐ শুরু করাটা যে একমাত্র তোমার সাথেই করতে পেরেছিলাম। আর কারো সাথে তো শুরু থেকে শুরু হবে না। হলে সেটা হবে এক অধ্যায়ের শেষের থেকে কিছু একটা। কিন্তু আমি তো অধ্যায়টা শেষ করতে চাই না। তারচেয়ে বরং তোমার অপেক্ষাটাই ভালো.......

আমি এখনো অপেক্ষাতে আছি। অপেক্ষাতে আছি তোমার সাথে আরো কিছু সময় কাটাবার। পাগলামি করে তোমাকে রাগিয়ে দিয়ে তার আনন্দ নেবার। মাঝে মাঝে কিছু অবাধ্য আকাঙ্ক্ষা তোমাকে বলার। লোক চক্ষুর তোয়াক্কা না করে তোমার হাত জড়িয়ে রাজপথে হেঁটে হেঁটে বৃষ্টিতে ভেজার।

জানি তুমি আসবে না। ফিরে আসতে পারলে তুমি এদিনে চলে আসতে। ছোট্ট একটা দুর্ঘটনা তোমাকে আমার কাছে থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। দূরত্ব টা তোমার অভিমান থেকেও বাড়িয়ে দিয়ে গেছে হাজার গুন করে......

কিন্তু কি জানো?
আমি এখনো তোমার অপেক্ষাতেই আছি.......





সোমবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৩

একটা দিনের জন্যে সত্যিকারের "বাংলাদেশ" দেখতে চাই...

আমি "বিসমিল্লাহ" পড়লে বলবি, করি "জামাত-শিবির"
"Good bless you" বললে তোর মনে লাগবে ব্যথা,
আর "নম্ নম্"? 
সেটা না হয় বাদই দিলাম.....




আমি "জয় বাংলা" বললে হয়ে যাই "লীগ"

বললে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" হয়ে যাই "জাতীয়তাবাদী"
"রাজাকারের ফাঁসি চাই" বললে হই "নাস্তিক-ব্লগার"
আর "কিন্তু" বললেই, 
"তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!........"




আমি "হরতাল চাইলেই" তুই বলবি, 

......................আমি বিরোধী দলের লোক
আর "হরতাল বিরোধী" কথা বললেই, 
.....................হয়ে যাই সরকারের চাটুকার


.

.
.
.
.


আমি একটা দিনের জন্যে "মানুষ" হতে চাই,

গোত্র-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে দেখতে চাই আমারই মত "মানুষ"
চিন্তা-ভাবনা আর মতাদর্শের উপরে উঠে "জীবন" দেখতে চাই.......



বাংলাদেশী আমি, 

একটা দিনের জন্যে সত্যিকারের "বাংলাদেশ" দেখতে চাই.........





মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৩

দিনের শেষে একলা এই আমি...


শীত দরজার কড়া নাড়ছে জোরে জোরে। ইতোমধ্যে দখিনা হাওয়া বন্ধ হয়ে উত্তরের হিম শীতল বাতাস বইতে শুরু করেছে। দিনের সূর্যতাপ ইদানীং আর আগের মত পীড়া দেয় না। আর দুপুর গড়িয়ে কোন রকম বিকলে হলেই ঝুপ করে অন্ধকার নেমে যায় চারদিক থেকে।

হ্যাঁ শীত একেবারেই দরজার বাইরে দাড়িয়ে আছে।
পুরাতন কাঁথা আছে, কিন্তু এইবার শীতের তীব্রতা মনে হয় আমার এই কাঁথাকেও সহ্য করবে না। এখুনি রীতিমতো কাঁথা হাঁপিয়ে উঠে আমাকে উষ্ণ রাখতে গিয়ে।

একটু বাইরে গিয়েছিলেম বিকেলের দিকে একটা কাজে। ফেরার পথে মোড়ের চা'য়ের স্টল থেকে এক কাপ চা খাওয়ার লোভে পেয়ে বসলো। আর তাই গিয়ে সিদ্দিক মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শীতের আগমন আর হরতালের উত্তাপ মনে হয় বেচারার ব্যবসাকে একটু মিইয়ে দিয়েছে। আর তাই সে অন্য যেকোনো সন্ধ্যায় ব্যস্ততার এই সময়টাকে আজ টিভি দেখে পার করছে। আমি গিয়ে দাড়াতেই জিজ্ঞাস করলো
- কেমন আছেন? আজ এই সময়? কোন কাজে গিয়েছিলেন নাকি?
- হ্যাঁ, একটু বেরুতে হয়েছিল। কিন্তু হরতালের কারণে কাজটা আজ আর হলো না। তাই চলে এলাম দ্রুতই।
- বসেন, কি দিবো আপনাকে?
- আপাতত এক কাপ চা দিও।

সিদ্দিক মিয়া ধীরে সুস্থে চা বানাতে শুরু করলো। চা প্রস্তুত করাটাও একটা আর্ট। কাপ ধোয়া, তাতে চিনি আর কনডেস্ট মিল্ক দেয়া, ছাঁকুনি বসিয়ে তাতে কিছু আলাদা চা'পাতা দেয়া আর সব শেষে কেতলি থেকে গরম পানি ঐ ছাকনিতে ফেলা। ব্যাপারটা ঠিক এইভাবে মনোযোগ নিয়ে দেখিনি। আসলে সবসময় এত ব্যস্ততা থাকে যে, এইসব দেখার সময় কই থাকে হাতে?

সিদ্দিক মিয়া চা বানানো শেষ করে কাপটা এগিয়ে দিলো। আমি একটু আরাম করেই চা খাচ্ছি আর নিউজ চ্যানেল দেখছি সিদ্দিক মিয়ার দোকানের ভেতর দিকটায় বসে। রাজনীতির ব্যাপার স্যাপার নিয়ে কথা বলছে উপস্থাপক। এগুলি শুনতে শুনতে আর ভাল লাগে না। তাই সিদ্দিক মিয়াকে বললাম চ্যানেলটা পাল্টে দিতে। সে বললো কিছুক্ষণ পর নাকি কোন মন্ত্রী অনুষ্ঠানে আসবে। মন্ত্রী কি বলে সেটা শুনতে সে নাকি অনেকক্ষণ ধরে এই চ্যানেলটাই দেখছে। আমি আর কথা বাড়ালাম না। চা খেয়ে চারটা সিগারেট নিয়ে দাম পরিশোধ করে চলে আসলাম।

নাহ, সময় বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের বাতাসটাও বাড়ছে। একেবারে কাবু করে দিতে চায়। বিকেলে যখন বেরিয়েছিল তখন এতটা ঠাণ্ডা লাগবে বুঝতে পারলে চাদরটা সাথে করে নিয়ে বেরুতাম। কিন্তু তখন এমন হবে সেটা একটিবারের জন্যেও মনে হয়নি। আর কাজটা তো আরও সময় লাগতো, একবার ভেবেই নিয়েছিলাম যে আজ আর হয়তো আসা হবে না।

এখন বাসায় যেতে হবে। ভাতের রান্না করতে হবে। আলুসিদ্ধ করতে হবে। তারপর আলুভর্তা বানিয়ে খেতে বসতে হবে। নাকি চাল ডাল একত্রে বসিয়ে দিয়ে যেটা হয় ঐটাই করবো চিন্তা করতে করতে মেসে চলে আসলাম। হরতালের কারণে আগেই অনেকে বাড়িতে চলে গিয়েছে। দুই একজন যারা আছে তারা এই মুহূর্তে মেসে নেই। একেবারেই ঠাণ্ডা লাগছে মেসের পরিবেশ। অন্য সময়টাতে কারো কারো রুমে গান শুনতে পারতাম। সাথে তাদের টাস খেলার উচ্চ আওয়াজ। কিন্তু এখন সব নিস্তব্ধের আওয়াজ দিয়ে পরিপূর্ণ।

রান্না ঘরে গিয়ে ভাত বসিয়ে দিয়ে আসলাম। রুমে এসে পত্রিকাটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পড়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু এখন সব খবরেই ঐ একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা। এটা আর ভাল লাগে না। তাই পত্রিকা রেখে বাইরে আসলাম। মেসের বাইরে একটা ছোট্ট ফাকা জায়গা। প্রতিদিন বিকেলে কিছু ছেলে এখানে ক্রিকেট খেলতো। এখন ব্যাডমিন্টন খেলবে কিছুদিন পর থেকে। সেটাও দেখার মত বিষয়।

কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থেকে একটা সিগারেট বের করে জ্বালালাম। ধুয়াটা ছাড়লাম উপরের দিকে তাকিয়ে। ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। ছোট বেলায় শীতের সময় মুখ দিয়ে ধোয়া ছাড়ার চেষ্টার করতাম এখনকার এই সিগারেটের ধোয়ার মত করে।

আহ! সময় কত দ্রুত চলে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই কোথা থেকে কোথায় চলে এসেছি। এখনো মনে পড়ে এতিম খানাটার কথা। ছোট্ট জায়গা, খাবার হয়তো ভাল ছিল না। কিন্তু আমার ঐ জায়গাটাই ভাল লাগতো। যখন একত্রে কষ্ট করতাম আমার মত আরো কয়েকজন মিলে তখন কাউকে আলাদা করে কিছু বলতে হতো না। সবাই কিভাবে যেন ঠিকই বুঝে যেত সমস্যাটার কথা। নিজেরাই অন্য কোন একটা বিষয় নিয়ে আসতাম সমস্যাটাকে পেছনে ফেলে দিতে।

কিন্তু মেট্রিক পাশ করার পর তারা আর আমাকে কোন ভাবেই রাখতে চাইলো না। আর তারপর কিছুটা হোঁচট খেয়েই চলে এসেছি এতদূর। রাত বাড়ছে, ঠাণ্ডাটাও বাড়ছে। উপরে তাকিয়ে আকাশের তারা গুলিকে দেখলাম। আর হারাতে লাগলাম তরার মৃদু মনোমুগ্ধকর উজ্জ্বলতায়...







শনিবার, অক্টোবর ১২, ২০১৩

নিঃশব্দের গল্প...

- এই ছেলে এখানে কিভাবে আসলে? কাকে চাও?
কোন উত্তর নেই। একটু তাকিয়ে আবার তার দৃষ্টি মাটিতে নিয়ে গেল।

- এই ছেলে! আমি তোমাকে কি জিজ্ঞাস করলাম??
এইবার ছেলেটা ভাল করে তাকাল আর একটু হাসি দিল; যেন এটাই তার উত্তর।

- এখানে দাড়িয়ে আছো কেন?? কাকে চাই?? সমস্যা কি তোমার, কথার জবাব দিচ্ছ না কেন??

ছেলেটা কিছু না বলে পকেট থেকে ছোট্ট এতটা নোটবই আর একটা পেন্সিল বের করলো। তারপর নোটবই টা খুলে তাতে কিছু একটা লিখে বাড়িয়ে দিল। তাতে লিখা "দুঃখিত, আমি কথা বলতে পারি না। তবে শুনতে আর লিখতে পারি।"

এটা দেখে রাকিব সাহেবের হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে গেল। রাজপুত্রের মত একটা ছেলে, কিন্তু কত বড় অন্যায় করেছে বিধাতা তার সাথে। মনের কথা গুলি মুখে নিয়ে আসতে পারে না বেচারা। এটা ভাবতে ভাবতেই অন্য একটা ছেলের কথাও মনে পরে গেল। তার নিজের ছেলে, আবির। আবিরও কথা বলতে পারতো না এই ছেলেটির মত। ঠিক এই ছেলেটির মতই কথা শুনতে আর বুঝতে পারতো। হাসির শব্দ করতে পারতো না। তবুও মুখে সবসময় একটা মায়া-মাখানো হাসি ঝুলিয়ে রাখতো।

আবিরের কথা মনে পরেনা সেই কবে থেকে। হঠাৎ করেই খুব জ্বর হল। ঐ সময় ছেলেকে ডাক্তার পর্যন্ত দেখানোর সামর্থ্য ছিল না তার। দুইদিন ভোগার পর হঠাৎ করেই জ্বর ভাল হয়ে গেল। খুব দুষ্টামি করলো সারাদিন। সন্ধ্যায় ক্লান্ত হয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েও পড়লো। কিন্তু রাতে ঘুমিয়ে ছেলেটা আর সকালে উঠলো না, ঘুমিয়েই থাকলো। কত ডাকাডাকি করলো কিন্তু ছেলেটা তার ডাক যেন গা'ই করলো না। ঘুমিয়েই থাকলো নিজের মত করে।

ঐদিন থেকে বিধাতার উপর একটা আক্রোশ জন্মে গেছে মনে। আক্রোশ জন্মেছে দারিদ্রতার প্রতি। তার আক্রোশ তাকে এখন পাজেরো গাড়িতে চলার মত অবস্থা করে দিয়েছে। বিরাট এসি রুমে বসে বসে সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ইচ্ছে করলেই দেশের বাইরে চেকআপের জন্যে যেতে পারে সে।

ভুল করেও এত বছর সে আবিরের কথা মনে করে নি। কিন্তু আজ মনে হয়েই গেল। সাথে মেজাজটাও খারাপ হয়ে গেল তার। একটু রুক্ষ স্বরেই জিজ্ঞাস করলো ছেলেটিকে,
- তা এখানে দাড়িয়ে আছো কেন? কাকে চাই??
ছেলেটি আবারও একটা হাসি দিয়ে নোটবইটাতে লিখে তাকে দেখালো। সেখানে লেখা আছে, "আপনার সাথে"

রাকিব সাহেব এইবার আরো একটু বিরক্তি নিয়ে বললেন
- আমার সাথে মানে কি? তুমি কি জানতে আমি এই সময়ে এখানে আসবো? আর এখানে কেন আমার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে?
ছেলেটা আবারও নোটবইতে লিখে দেখালো "আমি এখানে প্রতিদিন অপেক্ষা করছি, গত ২মাস ধরে আপনার জন্যে"

এইবার রাকিব সাহেব একটু অবাক হয়ে বললেন
- টানা দুইমাস ধরে অপেক্ষা করছো আমার জন্যে? তাও আমার গ্যারেজের আড়ালে? ঠিক কি কারণে জানতে পারি?

ছেলেটা আবারও লিখলো, আর আস্তে করে তার চোখের সামনে ধরলো নোটবইটা। সেখানে স্পষ্ট করে লিখা
"বাবা আমি আবির"

রাকিব সাহেব এতটুকু পড়েই জ্ঞান হারালেন।

পরের দিন পেপারে একটা শোকবার্তা ছাপা হলো। সেটা স্বনামধন্য শিল্পপতি রাকিব সাহেবের মৃত্যু সংবাদ। সন্ধ্যায় তার ড্রাইভার তাকে গ্যারেজের পাশে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আবিস্কার করে। সাথে সাথে হাসপাতালেও নেয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সবাই ধারনা করলো হঠাৎ করেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। কিন্তু কেউ জানতে পারলো নিঃশব্দ ঐ ছেলেটির কথা।







বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৩

আমার আব্বার রসিকতা...

আব্বা প্রায় রাত্রেই দেরি করে আসে। আসেতে আসতে প্রায়ই রাত ১২টা বেজে যায়। আর দিনে আর যাই হোক রাতের খাবারটা আব্বার সাথে একসাথে না খেলে কেমন জানি অপূর্ণতা থেকে যায় ঐদিন। তাই প্রতিদিনই আব্বা আসলে তার সাথেই একত্রে খেতে বসি। আমার দাদী এখনো জীবিত আছে। আমাদের সাথেই ভাল-খারাপ সময়ের সাথী হয়েই আছেন। শারীরিক এবং মানুষিক ভাবে বলতে গেলে আমার দাদী এখনো অনেক ফিট রয়েছে। দাদী এত দেরী করে খেতে পারে না। রাত্র ৯টা নাগাদ খেয়ে নেয়। আর বলতে গেলে নিয়ম করেই রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে চেষ্টা করেন। ছোট্ট পরিবারে সবাই নিজেদের খোঁজখবর রাখতে পারে। আব্বা প্রায়ই খেতে বসে আম্মাকে জিজ্ঞাস করে দাদী খেয়েছে কিনা। যদিও সে জানে দাদী ঠিকই সময় মত খেয়ে নিয়েছে।

ঐদিনও আব্বার আসতে ১২টা বেজে গেল। তবে দাদী ঐদিন কোন কারণে সময় মত ঘুমাতে যায়নি। আব্বা এসে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং এ খেতে বসেছে। আর তখন দাদী ঘুমানোর জন্যে রুমে যাচ্ছিল। আব্বাকে দেখতে গম্ভীর মনে হলেও আব্বা মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুষ্টামি করে আমাদের নিয়ে। ঐদিন সেরকমই একটা করলো। দাদী শুতে যাবার সময় তাকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো- "আম্মা খেয়েছেন?" দাদী উত্তরে বললো "হ্যাঁ, খেয়েছি" এইবার আব্বা আবার জিজ্ঞাস করলো "কি খেয়েছেন?" আব্বা কিন্তু ততক্ষণে ঐদিনের খাবার মেন্যু সব জেনে গেছে। তবুও দুষ্টামিটা করার জন্যেই জিজ্ঞাস করলো। দাদী জানালো আজ কি খেয়েছে।

এইবার আব্বা আসল দুষ্টামি শুরু করলো। বললো-
"হয়নি আম্মা। জিদ করে বলতে হবে"

আমার দাদী তো পুরো অবাক আব্বার ঐ কথা শুনে। জিদ করে কিভাবে আবার বলে এই কথা? সে বললো-
"কি বলবো কি করে??"

আব্বা বললো-
"এইভাবে বলেন।
হুহ! কি দিয়ে আর খাবো? ডাল আর ভর্তা ছাড়া আর কি রান্না হয়েছে আজ ??"

দাদী আব্বার এই কথা শুনে কিছু না বলেই হাসতে হাসতে তার রুমে চলে গেল। আম্মা আর আমি ছিলাম খাবার টেবিলে। জোরে শব্দ করে না হাসতে পারলেও আমরা দুইজনই মনে মনে হাসছিলাম ঐ মুহূর্তে...






বুধবার, অক্টোবর ০৯, ২০১৩

সময়ের স্মৃতি...

মাঝে মাঝে ছোটখাটো ঝড় এসে জীবনের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে দিয়ে যায়। পরিবর্তন করে দেয় মানুষের মানুষিকতা, সম্পর্ক আর বিশ্বাস...

আরো পরিবর্তন করে দেয় জীবনের গতিপথ। তৈরি করে দেয় কাছের মানুষের সাথে বিশাল দূরত্ব...

তবে, যা কখনোই পরিবর্তন করতে পারে না তা হল স্মৃতি। জীবনের চলার পথ যতই পরিবর্তন হোক না কেন; দূরত্ব যতই থাকুক না কেন; বিশ্বাস যতই ভাঙ্গুক না কেন। পাশাপাশি থেকে কাটানো ভাল সময়ের স্মৃতিগুলোকে কখনোই পরিবর্তন করতে পারে না এই ঝড়গুলো...







শনিবার, অক্টোবর ০৫, ২০১৩

নিজেকে বুঝতে না পারা সময়ের কথা...

মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন কোন আবেগ থাকে না, থাকে না নিজের কিছু বলার। আর মনটা থাকে তখন একেবারেই ফাঁকা। সময়টা আনন্দের নাকি বিষাদের সেটাও বুঝে উঠা যায় না। বোঝা যায় না কি করতে হবে কিংবা কি করা উচিৎ।

নিজেকে অনেক অচেনা লাগে সেই সময়টাতে। অবাক হয়ে ভাবতে হয়- "এমন কেন আমি?"

দুরন্তপনা গুলি মন থেকে গায়েব হয়ে যায়। ঠাট্টা গুলি তখন আর মনকে আনন্দ দেয় না। কষ্টগুলি দিতে পারে না মানুষিক যন্ত্রণা। জড় বস্তুতে পরিণত হয়ে যায় মানুষ সেই সময়টাতে।


আমি এখন একটা জড় বস্তু। নিজের আবেগ গুলিকে বুঝতে পারছি না। তারা নিজেদের মত হাত পা গুটিয়ে বসে আছে। আর আমি তাদের পুনরায় জেগে উঠার অপেক্ষায় আছি...





বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৩

অচেনা সেই মেয়েটি...

বাস স্টপেজে বসে ছিলাম। আসলে জ্যামের কারণে এখন প্রায় ঘণ্টা খানেক হতে চলল বাসের দেখা নেই। রাস্তায় নাকি পানি উঠে কোথায় ভেঙ্গে গেছে তাই বিশাল জ্যাম লেগেছে। আর এমন জায়গায় এসেছি যে রিক্সা বা টেম্পো যোগে একটু এগিয়ে গিয়ে বাসে উঠবো তা ও না। যেখানেই যাই না কেন আমাকে অপেক্ষা করতে হবে এই স্টপেজ থেকে ছাড়ে যাওয়া বাসের জন্যে। তাই বসে আছি, পাশে আরো প্রায় ১২জন আছে বসে। আর সামনে আছে আরো ২০-২৫জনের মত দাড়িয়ে। আর সবাই অপেক্ষা করছি একটা নির্দিষ্ট বাসের জন্যে।

অপেক্ষা করছি আর নিজের উপর বিরক্ত হচ্ছি। কি দরকার ছিল আজ বেরুনোর! খালামনি তো বার বার করে বলল আরো একটা দিন থেকে যা। থেকে গেলেই পারতাম। কিন্তু তখন শুধু বাড়ির কথা আর আসাদ, সুমনের সাথে আড্ডা দেবার চিন্তাই বার বার মাথায় আসছিলো। তাই খালামনির অমতেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আর এখন এতদূর এসে বাসের জন্যে বসে থাকতে হচ্ছে। কোন মানে হয়?

সময় কাটাতে না পেরে শেষে একটা পত্রিকা নিলাম হকারের কাছ থেকে। আমাদের মত এই হকারও আজ অপেক্ষা করছে বাসটির। চুপ করে বসে আছে হাতে পেপারের বোঝা নিয়ে। আমি তার কাছ থেকে পেপার চাইলাম, তাতে তার একটু আনন্দিত হবার কথা, বসে থেকেও সে পেপারটা বিক্রি করতে পারছে বলে। কিন্তু সে পেপার চাওয়ায় কিছুটা বিরক্তই হল মনে হয়। তবুও বের করে দিল একটা পেপার তার হাতে রাখা পেপারের বোঝা থেকে। আমি দাম মিটিয়ে দিয়ে পেপার পড়তে মনোনিবেশ করলাম।

প্রথমে পেইজের রাজনীতির আলাপ আলোচনা দেখতে ইচ্ছে করলো না, তাই চলে গেলাম খেলার খবরের অংশে। সেখান থেকে একটু দেখে আবার গেলাম বিনোদন পেইজে। সেখানেই ছিলাম, হঠাৎ একটা কণ্ঠ শুনে পেপার থেকে বাইরে নজর দিতে হল। একটা মেয়ে, রিকসাওয়ালার সাথে কথা কাটাকাটি করছে। পরনে স্কুল ড্রেস আর হাতে ব্যাগ। রিকশাওয়ালার সাথে ভাড়া বেশি চাওয়ার জন্যে কথা কাটাকাটি করছে সে। সবাই দেখছে, তবে কেউ কিছু বলছে না। আর আমিও এখানকার ভাড়া নিয়ে এত জানি না তাই আবার পেপার পড়ার চেষ্টা করলাম।

কিন্তু কোথায় যেন আটকে গেছি। পেপারের দিকেই চেয়ে আছি তবুও কি পড়ছি তা বুঝতে পারছি না। আবার প্রথম থেকে নিউজটা পড়তে চেষ্টা করলাম। নাহ, হচ্ছে না। একটা কথাও মাথায় ঢুকছে না। মন অন্যকোথাও আটকে গেছে। আর কোথায় আটকে গেছে তা বুঝতে পেরে একটু নিজের ভেতরেই লজ্জা হল। একটা মেয়েকে একবার দেখাতেই মাথায় ঢুকে গেল এই ভেবেই লজ্জাটা পাচ্ছি। একটু রাগও লাগছে নিজের উপর। তবে মেয়েটার চেহারায় একটা কিছু আছে। যা আমাকে আবার মেয়েটার দিকে তাকাতে বাধ্য করলো।

তবে এইবার কেন জানি সরাসরি তাকাতে সাহস পেলাম না। পেপারটাকে সামনে ধরেই একটু নিচু করলাম, আর আড়চোখে দেখলাম তাকে। সাদা স্কুল-ড্রেসে তাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে। তবে বেশিক্ষণ তাকাতে পারলাম না চোখাচোখি হয়ে যাবার ভয়ে। পেপারটা আবার চোখের সামনে ধরে নিলাম। কিন্তু আর পড়া হল না।

মেয়েটা এবার আমার দিকে পেছন ফিরে রাস্তার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে। তাই তার চেহারা আর আড়চোখেও দেখতে পরছি না। একটা লোভ লেগে গেছে মনে তার চেহারাটা আরেকবার দেখার জন্যে। তাই পেপারটাকে ভাজ করে ঘড়ি দেখলাম আর মাথা নাড়লাম। একটু অভিনয় করলাম অনেক সময় বসে থেকে বোর হয়ে গেছি কিন্তু বাস আসছে না, তাই দেখিয়ে। দাড়িয়ে আমার পায়ের কাছে রাখা ব্যাগটা কাঁধে ঝোলালাম। তারপর গিয়ে মেয়েটার থেকে একটু দূরত্ব রেখে দাড়িয়ে রাস্তার এদিক ওদিক দেখলাম যেন বাসটার দেখা পাওয়া যায় কিনা তাই দেখছি। আসলে তো মেয়েটার ঐ মায়া ভর্তি চেহারাটাই দেখতে এসেছি। আড়চোখে তাই দেখে নিলাম আরো একবার। তবে সুবিধা হল, মেয়েটা আমার বামে দাঁড়িয়ে আছে। আর সেদিক থেকেই বাসটা আসবে। আর আমি রাস্তার দিকে তাকালে তাকে দেখতে পারি অনায়াসেই।

একবার দুইবার দেখলাম ঠিকই। কিন্তু শেষে তার চোখে ধরাই পড়ে গেলাম। স্পষ্টই বুঝতে পারলো আমি তার দিকেই তাকিয়ে আছি। তবে সাথে সাথে দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটা যা বোঝার বুঝে গেছে। আমি আর লজ্জায় ঐদিকে তাকাতে পারছি না। তাই অপরদিকে তাকিয়ে আছি। খুব ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার দিকে বা রাস্তার দিকে তাকাতে পারছি না। এরই মধ্যে হুট করে বাসটা চলে আসলো।

সবাই গাড়িতে উঠার জন্যে হুড়মুড় করে বাসের গেইটে ভিড় জমালো। ছোট্ট একটা জটলা পাকিয়ে গেছে সেখানে। আমি এখনো দাড়িয়ে আছি, দাড়িয়ে আছে মেয়েটাও। বুঝতে পারছি না সে আসলে এতক্ষন এই বাসটার জন্যেই অপেক্ষা করছিলো কি না। যখন ভিড় প্রায় কমে এসেছে বাসের দরজার সামনে তখন ব্যাগ কাঁধে ঐদিকে এগুলাম।

নাহ মেয়েটা এগুচ্ছে না। তারমানে সে এই বাসটার জন্যে অপেক্ষা করছে না, সেটা নিশ্চিত। আমার আরো কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব না। বেহায়াপনারও একটা সীমা আছে, আর দাঁড়ালে সেটা অতিক্রম হয়ে যাবে। তাই বাসে চড়ে উঠলাম। মন চাইছিল মেয়েটার নাম-ঠিকানা জেনে আসতে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? আর কেনই বা বলবে সে, আমার মত অপরিচিত একটা ছেলেকে তার নাম-ঠিকানা?





রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৩

আপন পথে চলা...

যখন দৃষ্টি সীমানার সামনে কোন পথ থাকে না। আর পেছনে সব পথ হয় অবরুদ্ধ, তখন দুইটা কাজ করা যায়-

প্রথমটা হল, সেই স্থানেই আজীবন পথের জন্যে অপেক্ষা করা। ততক্ষণ, যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন পথের সন্ধান পাওয়া যায়।

আর দ্বিতীয়টা হল, নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নেয়া। হ্যাঁ, এই তৈরি করাটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। এতটুকু বিশ্বাস মনে রাখতে হবে যে- আপনি যেটা করছেন সেটা ভুল নয়, সেটা থামানোর নয়। আর আপনি থেমে গেলে আপনার পথ অনুসরণ করে যারা এসেছে বা আসবে বলে চিন্তা করছে তারা আশাহত ও দিক ভ্রষ্ট হয়ে পড়বে। আর আপনার এতদিনের শ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হবে।

চলার পথে হয়তো অনেকেই কটূক্তি করবে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আর এগুলো না পেরে আপনার নামে বদনাম ছড়াবে। আপনার পথের খারাপ দিক গুলো সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে।

এতকিছুর পরেও কিন্তু আপনার পথের পথিক থেমে থাকবেনা। তারা আপনাকে অনুসরণ করে চলবেই। তারাও তাদের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনবে। তবে আপনার ধারা ভুলে যেয়ে নয়। বরং সেটিকে আদর্শ মেনেই নতুন পথ তৈরি করবে।

তাই বলছি, থেমে যাবেন না। এগুতে থাকুন। এক সময় নিজের পথের স্বীকৃতি আপনি অবশ্যই পাবেন...








মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩

তোমাকে বলার কথা গুলো..... (২)

সেদিন অনেকক্ষণ তোমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটায় বসে ছিলাম বিকেলে। আমি জানি তুমি এই সময়টাতে তোমার ভার্সিটি থেকে বাড়িতে ফের। পাশেই বন্ধুরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল। কিন্তু আড্ডাতে আমার মনটা ঢুকছিল না।

আমার মন তো পড়ে ছিল তোমারই পথের পানে। দেখছিলাম, এইতো ৪টা বেজে গেছে। এখনই যেকোনো মুহূর্তে এই পথ দিয়েই হেঁটে যাবে তুমি। আর আমি শুধু তোমাকে এক নজর দেখবো। এই একনজরেই বুঝে নিবো তোমার দিনটা কেমন কাটল। আমার বিশ্বাস এই একটু নজর দেয়া সময়টাই অনেক তোমার মনটা বুঝতে পারার জন্যে।

তবে আজ কেন দেরি হচ্ছে তোমার বুঝতে পারছিনা। তবে কি রাস্তায় অনেক জ্যাম? না কোন সমস্যা হল কোথায়ও! বারবার ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে ঘড়িটাতেই কোন সমস্যা আছে। তাই আনোয়ারকে ৩ বার জিজ্ঞাসও করে ফেলেছি এই পর্যন্ত। আর তাতে কিছু টিটকারিও শুনতে হল আমায়।

পুরো ১০টা মিনিট পার হয়ে গেছে। তবুও তোমার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। আমি খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছি। আর বসে থাকতে পারলাম না ওদের সাথে। একটু এগিয়ে গেলাম তোমার ফিরে আসার ঐ রাস্তাটা ধরে। মোড়টা পেরুলেই হয়তো দেখব তুমি আসছ এই আসায়। পেছন থেকে সানোয়ার আর আরিফ টিটকারি দিয়ে যাচ্ছে তখনো।

কিছুই বলার নেই তাদের। কি বলবো বল? যা বলছে তা তো তোমাকে নিয়েই বলছে। আমি তো তোমাকে নিয়ে যে কোন কথারই পাগল হয়ে আছি সেই কবে থেকে। শুধু তোমার মুখ থেকেই কখনো কোন কথা ওভাবে শোনা হয় নি আমার....

হাটতে হাটতে মোড়টাও পেরুলাম। কিন্তু কোথায়? তোমার দেখা তো পাচ্ছি না! নাহ, আর ভাল লাগছে না। এমন কি হল, যে আসতে আজ পুরো ৩০ মিনিট দেরি হয়ে যাচ্ছে, তবুও আসছো না তুমি। আরও একটু এগুতে থাকলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, হয়তো কোথাও তোমার বাস নষ্ট হয়ে গেছে, তাই পরের বাসটা ধরে আসতে দেরি হয়ে যাচ্ছে তোমার। এখুনি দেখা যাবে তোমকে এই পথ ধরে। দেখবো তুমি ক্লান্ত মুখে রিক্সার হুড উঠিয়ে চলে যাচ্ছো আমার পাশ দিয়ে।

আমাকে হয়তো তুমি খেয়ালই করবে না। কিন্তু ঐ অতটুকু দেখাই যে আমায় দিনের পরিপূর্ণতা এনে দিবে। সে কি তোমায় কখনো বলতে পারবো আমি...








(সংশোধন সহযোগীতায়: বর্ষা আপা )

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৩

তোমাকে বলার কথা গুলো.....

তোমাকে কিছু কথা প্রতিদিনই বলবো বলবো করে বলা হয় না। প্রতিদিনই কথা গুলো গোছাতে থাকি। কখনো এইভাবে তো কখনো ঐভাবে।

কখনো ভাবি আমার অসহায়ত্ব গুলো তোমাকে আগেভাগে বলে দিবো। বলে দিবো আমার দুর্বলতা গুলো তোমাকে নিয়ে। আর তারপর বলবো তোমাকে নিয়ে পথ চলার ইচ্ছের কথাটা।

আবার ভাবি, নাহ! এটা বললে হয়তো তুমি আমাকে পাত্তাই দিবে না। তাই তোমার সামনে নিজেকে তোমার মত করে নিজেকে উপস্থাপন করবো। হয়তো তাতে কিছুটা হলেও তোমার নজরে আসবো আমি।

কিন্তু কি করবো বল। তোমাকে দেখার পর পরই যে সব গুলিয়ে ফেলি।

প্রতিদিনই তোমাকে একনজর দেখার জন্যে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানে বসে থাকতাম কাক ডাকা ভোর হতে। আমি জানি তুমি কখনোই এত সকালে বের হও না। এও জানি ঠিক ঘড়ি ধরে সাড়ে সাতটায় বাসা থেকে বের হও তুমি। তবুও আমি সেই ভোর বেলা থেকেই তোমার জন্যে অপেক্ষার করতাম। বসে বসে রিক্সার গ্যারেজের রিক্সা গুলোর মেরামত দেখতাম। আর চায়ের দোকানের বাসি পত্রিকাটায় চোখ বোলাতাম তোমার অপেক্ষায়। কিন্তু যখনই তুমি রাস্তা ধরে হেটে আসতে তখন আর তোমার ঐ রাস্তার পানে চোখ উঠিয়ে তাকাতে সাহস পেতাম না। কে জানে? বুঝতে পারলে হয়তো তুমি তোমার যাওয়ার পথটাই পাল্টে নিবে। আর তখন হয়তো তোমার জন্যে এই অপেক্ষা টুকুও করতে পারবো না....





রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৩

আমি বন্দী কারাগারে এক হার মানা সৈনিক.......

মন থেকে শুদ্ধতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ভালবাসার পরিমাণ। আপনজনেরা আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। আর দূরের মানুষ গুলো হয়ে যাচ্ছে অচেনা দিনকে দিন.......

প্রতিদিনই নতুন করে সম্পর্ক গুলোকে হারিয়ে ফেলছি। আর হাতের তালিকা থেকে কেউ না কেউ দূরে সরেই যাচ্ছে।

হাজারো বন্ধন দিয়ে আর কাউকে নিজের বৃত্তে আটকে রাখতে পারছি না.....

আমি ব্যর্থ
আমি পরাজিত
আমি হারিয়ে যাওয়া কেউ

আমি বন্দী কারাগারে এক হার মানা সৈনিক.......