বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৩

অচেনা সেই মেয়েটি...

বাস স্টপেজে বসে ছিলাম। আসলে জ্যামের কারণে এখন প্রায় ঘণ্টা খানেক হতে চলল বাসের দেখা নেই। রাস্তায় নাকি পানি উঠে কোথায় ভেঙ্গে গেছে তাই বিশাল জ্যাম লেগেছে। আর এমন জায়গায় এসেছি যে রিক্সা বা টেম্পো যোগে একটু এগিয়ে গিয়ে বাসে উঠবো তা ও না। যেখানেই যাই না কেন আমাকে অপেক্ষা করতে হবে এই স্টপেজ থেকে ছাড়ে যাওয়া বাসের জন্যে। তাই বসে আছি, পাশে আরো প্রায় ১২জন আছে বসে। আর সামনে আছে আরো ২০-২৫জনের মত দাড়িয়ে। আর সবাই অপেক্ষা করছি একটা নির্দিষ্ট বাসের জন্যে।

অপেক্ষা করছি আর নিজের উপর বিরক্ত হচ্ছি। কি দরকার ছিল আজ বেরুনোর! খালামনি তো বার বার করে বলল আরো একটা দিন থেকে যা। থেকে গেলেই পারতাম। কিন্তু তখন শুধু বাড়ির কথা আর আসাদ, সুমনের সাথে আড্ডা দেবার চিন্তাই বার বার মাথায় আসছিলো। তাই খালামনির অমতেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আর এখন এতদূর এসে বাসের জন্যে বসে থাকতে হচ্ছে। কোন মানে হয়?

সময় কাটাতে না পেরে শেষে একটা পত্রিকা নিলাম হকারের কাছ থেকে। আমাদের মত এই হকারও আজ অপেক্ষা করছে বাসটির। চুপ করে বসে আছে হাতে পেপারের বোঝা নিয়ে। আমি তার কাছ থেকে পেপার চাইলাম, তাতে তার একটু আনন্দিত হবার কথা, বসে থেকেও সে পেপারটা বিক্রি করতে পারছে বলে। কিন্তু সে পেপার চাওয়ায় কিছুটা বিরক্তই হল মনে হয়। তবুও বের করে দিল একটা পেপার তার হাতে রাখা পেপারের বোঝা থেকে। আমি দাম মিটিয়ে দিয়ে পেপার পড়তে মনোনিবেশ করলাম।

প্রথমে পেইজের রাজনীতির আলাপ আলোচনা দেখতে ইচ্ছে করলো না, তাই চলে গেলাম খেলার খবরের অংশে। সেখান থেকে একটু দেখে আবার গেলাম বিনোদন পেইজে। সেখানেই ছিলাম, হঠাৎ একটা কণ্ঠ শুনে পেপার থেকে বাইরে নজর দিতে হল। একটা মেয়ে, রিকসাওয়ালার সাথে কথা কাটাকাটি করছে। পরনে স্কুল ড্রেস আর হাতে ব্যাগ। রিকশাওয়ালার সাথে ভাড়া বেশি চাওয়ার জন্যে কথা কাটাকাটি করছে সে। সবাই দেখছে, তবে কেউ কিছু বলছে না। আর আমিও এখানকার ভাড়া নিয়ে এত জানি না তাই আবার পেপার পড়ার চেষ্টা করলাম।

কিন্তু কোথায় যেন আটকে গেছি। পেপারের দিকেই চেয়ে আছি তবুও কি পড়ছি তা বুঝতে পারছি না। আবার প্রথম থেকে নিউজটা পড়তে চেষ্টা করলাম। নাহ, হচ্ছে না। একটা কথাও মাথায় ঢুকছে না। মন অন্যকোথাও আটকে গেছে। আর কোথায় আটকে গেছে তা বুঝতে পেরে একটু নিজের ভেতরেই লজ্জা হল। একটা মেয়েকে একবার দেখাতেই মাথায় ঢুকে গেল এই ভেবেই লজ্জাটা পাচ্ছি। একটু রাগও লাগছে নিজের উপর। তবে মেয়েটার চেহারায় একটা কিছু আছে। যা আমাকে আবার মেয়েটার দিকে তাকাতে বাধ্য করলো।

তবে এইবার কেন জানি সরাসরি তাকাতে সাহস পেলাম না। পেপারটাকে সামনে ধরেই একটু নিচু করলাম, আর আড়চোখে দেখলাম তাকে। সাদা স্কুল-ড্রেসে তাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে। তবে বেশিক্ষণ তাকাতে পারলাম না চোখাচোখি হয়ে যাবার ভয়ে। পেপারটা আবার চোখের সামনে ধরে নিলাম। কিন্তু আর পড়া হল না।

মেয়েটা এবার আমার দিকে পেছন ফিরে রাস্তার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে। তাই তার চেহারা আর আড়চোখেও দেখতে পরছি না। একটা লোভ লেগে গেছে মনে তার চেহারাটা আরেকবার দেখার জন্যে। তাই পেপারটাকে ভাজ করে ঘড়ি দেখলাম আর মাথা নাড়লাম। একটু অভিনয় করলাম অনেক সময় বসে থেকে বোর হয়ে গেছি কিন্তু বাস আসছে না, তাই দেখিয়ে। দাড়িয়ে আমার পায়ের কাছে রাখা ব্যাগটা কাঁধে ঝোলালাম। তারপর গিয়ে মেয়েটার থেকে একটু দূরত্ব রেখে দাড়িয়ে রাস্তার এদিক ওদিক দেখলাম যেন বাসটার দেখা পাওয়া যায় কিনা তাই দেখছি। আসলে তো মেয়েটার ঐ মায়া ভর্তি চেহারাটাই দেখতে এসেছি। আড়চোখে তাই দেখে নিলাম আরো একবার। তবে সুবিধা হল, মেয়েটা আমার বামে দাঁড়িয়ে আছে। আর সেদিক থেকেই বাসটা আসবে। আর আমি রাস্তার দিকে তাকালে তাকে দেখতে পারি অনায়াসেই।

একবার দুইবার দেখলাম ঠিকই। কিন্তু শেষে তার চোখে ধরাই পড়ে গেলাম। স্পষ্টই বুঝতে পারলো আমি তার দিকেই তাকিয়ে আছি। তবে সাথে সাথে দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে গেলাম। কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটা যা বোঝার বুঝে গেছে। আমি আর লজ্জায় ঐদিকে তাকাতে পারছি না। তাই অপরদিকে তাকিয়ে আছি। খুব ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার দিকে বা রাস্তার দিকে তাকাতে পারছি না। এরই মধ্যে হুট করে বাসটা চলে আসলো।

সবাই গাড়িতে উঠার জন্যে হুড়মুড় করে বাসের গেইটে ভিড় জমালো। ছোট্ট একটা জটলা পাকিয়ে গেছে সেখানে। আমি এখনো দাড়িয়ে আছি, দাড়িয়ে আছে মেয়েটাও। বুঝতে পারছি না সে আসলে এতক্ষন এই বাসটার জন্যেই অপেক্ষা করছিলো কি না। যখন ভিড় প্রায় কমে এসেছে বাসের দরজার সামনে তখন ব্যাগ কাঁধে ঐদিকে এগুলাম।

নাহ মেয়েটা এগুচ্ছে না। তারমানে সে এই বাসটার জন্যে অপেক্ষা করছে না, সেটা নিশ্চিত। আমার আরো কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব না। বেহায়াপনারও একটা সীমা আছে, আর দাঁড়ালে সেটা অতিক্রম হয়ে যাবে। তাই বাসে চড়ে উঠলাম। মন চাইছিল মেয়েটার নাম-ঠিকানা জেনে আসতে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? আর কেনই বা বলবে সে, আমার মত অপরিচিত একটা ছেলেকে তার নাম-ঠিকানা?





রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৩

আপন পথে চলা...

যখন দৃষ্টি সীমানার সামনে কোন পথ থাকে না। আর পেছনে সব পথ হয় অবরুদ্ধ, তখন দুইটা কাজ করা যায়-

প্রথমটা হল, সেই স্থানেই আজীবন পথের জন্যে অপেক্ষা করা। ততক্ষণ, যতক্ষণ না পর্যন্ত নতুন পথের সন্ধান পাওয়া যায়।

আর দ্বিতীয়টা হল, নিজেই নিজের পথ তৈরি করে নেয়া। হ্যাঁ, এই তৈরি করাটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। এতটুকু বিশ্বাস মনে রাখতে হবে যে- আপনি যেটা করছেন সেটা ভুল নয়, সেটা থামানোর নয়। আর আপনি থেমে গেলে আপনার পথ অনুসরণ করে যারা এসেছে বা আসবে বলে চিন্তা করছে তারা আশাহত ও দিক ভ্রষ্ট হয়ে পড়বে। আর আপনার এতদিনের শ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হবে।

চলার পথে হয়তো অনেকেই কটূক্তি করবে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আর এগুলো না পেরে আপনার নামে বদনাম ছড়াবে। আপনার পথের খারাপ দিক গুলো সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে।

এতকিছুর পরেও কিন্তু আপনার পথের পথিক থেমে থাকবেনা। তারা আপনাকে অনুসরণ করে চলবেই। তারাও তাদের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনবে। তবে আপনার ধারা ভুলে যেয়ে নয়। বরং সেটিকে আদর্শ মেনেই নতুন পথ তৈরি করবে।

তাই বলছি, থেমে যাবেন না। এগুতে থাকুন। এক সময় নিজের পথের স্বীকৃতি আপনি অবশ্যই পাবেন...








মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩

তোমাকে বলার কথা গুলো..... (২)

সেদিন অনেকক্ষণ তোমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটায় বসে ছিলাম বিকেলে। আমি জানি তুমি এই সময়টাতে তোমার ভার্সিটি থেকে বাড়িতে ফের। পাশেই বন্ধুরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল। কিন্তু আড্ডাতে আমার মনটা ঢুকছিল না।

আমার মন তো পড়ে ছিল তোমারই পথের পানে। দেখছিলাম, এইতো ৪টা বেজে গেছে। এখনই যেকোনো মুহূর্তে এই পথ দিয়েই হেঁটে যাবে তুমি। আর আমি শুধু তোমাকে এক নজর দেখবো। এই একনজরেই বুঝে নিবো তোমার দিনটা কেমন কাটল। আমার বিশ্বাস এই একটু নজর দেয়া সময়টাই অনেক তোমার মনটা বুঝতে পারার জন্যে।

তবে আজ কেন দেরি হচ্ছে তোমার বুঝতে পারছিনা। তবে কি রাস্তায় অনেক জ্যাম? না কোন সমস্যা হল কোথায়ও! বারবার ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছি। আমার মনে হচ্ছে ঘড়িটাতেই কোন সমস্যা আছে। তাই আনোয়ারকে ৩ বার জিজ্ঞাসও করে ফেলেছি এই পর্যন্ত। আর তাতে কিছু টিটকারিও শুনতে হল আমায়।

পুরো ১০টা মিনিট পার হয়ে গেছে। তবুও তোমার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। আমি খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছি। আর বসে থাকতে পারলাম না ওদের সাথে। একটু এগিয়ে গেলাম তোমার ফিরে আসার ঐ রাস্তাটা ধরে। মোড়টা পেরুলেই হয়তো দেখব তুমি আসছ এই আসায়। পেছন থেকে সানোয়ার আর আরিফ টিটকারি দিয়ে যাচ্ছে তখনো।

কিছুই বলার নেই তাদের। কি বলবো বল? যা বলছে তা তো তোমাকে নিয়েই বলছে। আমি তো তোমাকে নিয়ে যে কোন কথারই পাগল হয়ে আছি সেই কবে থেকে। শুধু তোমার মুখ থেকেই কখনো কোন কথা ওভাবে শোনা হয় নি আমার....

হাটতে হাটতে মোড়টাও পেরুলাম। কিন্তু কোথায়? তোমার দেখা তো পাচ্ছি না! নাহ, আর ভাল লাগছে না। এমন কি হল, যে আসতে আজ পুরো ৩০ মিনিট দেরি হয়ে যাচ্ছে, তবুও আসছো না তুমি। আরও একটু এগুতে থাকলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, হয়তো কোথাও তোমার বাস নষ্ট হয়ে গেছে, তাই পরের বাসটা ধরে আসতে দেরি হয়ে যাচ্ছে তোমার। এখুনি দেখা যাবে তোমকে এই পথ ধরে। দেখবো তুমি ক্লান্ত মুখে রিক্সার হুড উঠিয়ে চলে যাচ্ছো আমার পাশ দিয়ে।

আমাকে হয়তো তুমি খেয়ালই করবে না। কিন্তু ঐ অতটুকু দেখাই যে আমায় দিনের পরিপূর্ণতা এনে দিবে। সে কি তোমায় কখনো বলতে পারবো আমি...








(সংশোধন সহযোগীতায়: বর্ষা আপা )

সোমবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৩

তোমাকে বলার কথা গুলো.....

তোমাকে কিছু কথা প্রতিদিনই বলবো বলবো করে বলা হয় না। প্রতিদিনই কথা গুলো গোছাতে থাকি। কখনো এইভাবে তো কখনো ঐভাবে।

কখনো ভাবি আমার অসহায়ত্ব গুলো তোমাকে আগেভাগে বলে দিবো। বলে দিবো আমার দুর্বলতা গুলো তোমাকে নিয়ে। আর তারপর বলবো তোমাকে নিয়ে পথ চলার ইচ্ছের কথাটা।

আবার ভাবি, নাহ! এটা বললে হয়তো তুমি আমাকে পাত্তাই দিবে না। তাই তোমার সামনে নিজেকে তোমার মত করে নিজেকে উপস্থাপন করবো। হয়তো তাতে কিছুটা হলেও তোমার নজরে আসবো আমি।

কিন্তু কি করবো বল। তোমাকে দেখার পর পরই যে সব গুলিয়ে ফেলি।

প্রতিদিনই তোমাকে একনজর দেখার জন্যে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানে বসে থাকতাম কাক ডাকা ভোর হতে। আমি জানি তুমি কখনোই এত সকালে বের হও না। এও জানি ঠিক ঘড়ি ধরে সাড়ে সাতটায় বাসা থেকে বের হও তুমি। তবুও আমি সেই ভোর বেলা থেকেই তোমার জন্যে অপেক্ষার করতাম। বসে বসে রিক্সার গ্যারেজের রিক্সা গুলোর মেরামত দেখতাম। আর চায়ের দোকানের বাসি পত্রিকাটায় চোখ বোলাতাম তোমার অপেক্ষায়। কিন্তু যখনই তুমি রাস্তা ধরে হেটে আসতে তখন আর তোমার ঐ রাস্তার পানে চোখ উঠিয়ে তাকাতে সাহস পেতাম না। কে জানে? বুঝতে পারলে হয়তো তুমি তোমার যাওয়ার পথটাই পাল্টে নিবে। আর তখন হয়তো তোমার জন্যে এই অপেক্ষা টুকুও করতে পারবো না....





রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৩

আমি বন্দী কারাগারে এক হার মানা সৈনিক.......

মন থেকে শুদ্ধতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ভালবাসার পরিমাণ। আপনজনেরা আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। আর দূরের মানুষ গুলো হয়ে যাচ্ছে অচেনা দিনকে দিন.......

প্রতিদিনই নতুন করে সম্পর্ক গুলোকে হারিয়ে ফেলছি। আর হাতের তালিকা থেকে কেউ না কেউ দূরে সরেই যাচ্ছে।

হাজারো বন্ধন দিয়ে আর কাউকে নিজের বৃত্তে আটকে রাখতে পারছি না.....

আমি ব্যর্থ
আমি পরাজিত
আমি হারিয়ে যাওয়া কেউ

আমি বন্দী কারাগারে এক হার মানা সৈনিক.......