বদি এন্ড রঞ্জু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বদি এন্ড রঞ্জু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩০, ২০১৭

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন —৮



বদি ভাইঃ রঞ্জু জানিস, মাইক্রোসফট এবার একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে!

রঞ্জুঃ কি বিপ্লব ভাই!

বদি ভাইঃ নাহ্‌ তোমারে দিয়ে কিস্যু হবে না রঞ্জু। হাল দুনিয়ার কোন খোঁজ খবরই তুমি রাখো না।

রঞ্জুঃ এইটা তো পুরানো কথা 😯 সবাই জানে, নতুন কিছু বলেন।

বদি ভাইঃ নতুন কিছু যে বলবো সেইটা তো তোমার বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। ইদানীং তো তোমার বোঝার ক্ষমতার উপরেই আমার বিশাল সন্দেহ জন্ম নিয়েছে।

রঞ্জুঃ আহ্‌! বদি ভাই। এইসব বাদ দেন। আগে বলেন মাইক্রোসফট এমন কি বিপ্লব ঘটাইল যা নিয়ে আপনি এত্ত উত্তেজনা ফিল করতেছেন।

বদি ভাইঃ রঞ্জু, ঘটনাটা যদি তুমি বুঝতে তাহলে তুমিও আমার মত উত্তেজনা ফিল করতে। এত বড় বিপ্লব এর আগে কেউ ঘটাইতে পারে নাই। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এত বড় একটা বিপ্লব ঘটানো কিন্তু চাট্টিখানি কথা না!

রঞ্জুঃ বদি ভাই, এত ঘুরাই প্যাঁচাই না বইল্লা মূল ঘটনাটা বলেন না। হুদাই এত্ত প্যাঁচাই কি লাভ!

বদি ভাইঃ 😩 এই হইলো তোমাদের সমস্যা। তোমরা মূল বক্তব্যের আগে তার ভূমিকা শুনতে চাও না। এর ইতিহাস তোমাদের শুনতে কষ্ট লাগে। তোমরা শুধু মূল ঘটনায় ঢুকে যেতে চাও। ফ্যাক্ট বাদ দিয়ে ইফেক্ট নিয়ে শুধু তোমার যত চিন্তা!

রঞ্জুঃ 😒 অকা! বলেন আপ্নের বিপ্লবের পেছনের ইতিহাস আর ফ্যাক্ট।

বদি ভাইঃ নাহ্‌, থাক। বলব না। হুদাই তোমারে বিরক্ত করে করে বোর করার কোন মানে নাই। আর এত বকর বরক করারও সময় নেই আমার।

রঞ্জুঃ হ্যাঁ, সেইটাই। এখন দ্রুত বলেন ঘটনাটা কি!

বদি ভাইঃ ঘটনা হইলো, দীর্ঘ ২৪ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মাইক্রোসফট অবশেষে সফল ভাবে তাদের অপারেটিং সিস্টেম হতে BSoD সমস্যা দূর করতে পেরেছে। বল, এইটা কি চাট্টিখানি কথা! BSoD সমস্যা যে কত বড় সমস্যা সেইটা কি তোমরা এই জামানায় আর বুঝবা!!

রঞ্জুঃ BSoD কি জিনিষ!!  😲 এইটা আবার কুন ভাইরাস!! কুন এন্টিভাইরাস লাগবে এইটারে রিমুভ করতে!!!

বদি ভাইঃ আরে আহাম্মক এইটা কোন ভাইরাস না। এইটার মানে হইলো Blue Screen of Death

রঞ্জুঃ Blue Screen of Death আবার কি জিনিষ!

বদি ভাইঃ আরে ঐ যে, কম্পুটারের ঝামেলা হইলে যে মনিটর শুধু নীল হয়ে যেতো। ঐটারে বলে Blue Screen of Death সমস্যা।

রঞ্জুঃ ওহ্‌! আচ্ছা। তা এই সমস্যা কিভাবে সমাধান করলো তারা?

বদি ভাইঃ আরে, বিশাল এক সমাধান নিয়ে এসেছে মাইক্রোসফট। এত বিশাল সমাধান যা ইতিপূর্বে আর্কিমিডিসও ভাবতে পারে নাই। সে তো কেবল ছুটুখাটু জিনিষ নিয়ে চিন্তা করে 'ইউরেকা' 'ইউরেকা' করে চিল্লাইতো। এত বড় সমস্যা তার মাথায় দিলে সে নির্ঘাত বাথটবের পানিতে ডুবে সুইসাইড খাইতো।

রঞ্জুঃ বদি ভাই 😯 আপনি আবারও টপিকের বাইরে চলে যাচ্ছেন। জানেন না, এত বড় লেখা এখন আর কেউ পড়তে চায় না?

বদি ভাইঃ ওহ! হ্যাঁ! তাই তো। খেয়ালই ছিলো না। আসলে বুড়া মানুষ তো, সুযোগ পেলেই খালি কথা কইতে মুঞ্চায়।

রঞ্জুঃ হু, এইবার আসল ঘটনাটা বলেন দ্রুত, কুইক!

বদি ভাইঃ যুগান্তকারী এক আবিষ্কার করেছে মাইক্রোসফট। তারা চিন্তা করে দেখল এই Blue Screen of Death আসবার একমাত্র কারণ এই Blue, আই মিন নীল রং

রঞ্জুঃ হু, তো?

বদি ভাইঃ তারা অনেক বিশাল বিশাল কোডিং করলো। সেই কোডিং এক্সিকিউট করলো। তারপর যখন তারা তাদের কোডিং দেখে সন্তুষ্ট ফিল করলো তখন তারা সেইটা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের সাথে জুড়ে দিলো।

রঞ্জুঃ তা সেই সমাধানটা কি সেইটা তো বলেন!

বদি ভাইঃ সমাধানটা হইলো, তারা তাদের কোডিং থেকে নীল রং টা বাদ দিয়ে সেখানে সবুজ রং দিয়ে পেইন্ট থুক্কু লাগিয়ে দিলো।

রঞ্জুঃ কি!! এইটা সমাধান!!

বদি ভাইঃ হ্যাঁ! এইটাই সমাধান। এবারে তুমি আর কোনদিন Blue Screen of Death সমস্যায় পড়বা না। Blue Screen of Death এর সমস্যা থেকে মাইক্রোসফট তোমরা চিরতরে মুক্তি দিলো 😁😁

রঞ্জুঃ আপনে মজা করতেছেন বদি ভাই 😯

বদি ভাইঃ মোটেই না। বিশ্বাস না হইলে Windows insiders preview build 14997 ইন্সটল করে দেখো। তালেই একদম ঝকঝক-ফকফক করে আমার কথার সত্যতা খুঁজে পাইবা।

রঞ্জুঃ আপ্নে একটা হোপলেস বদি ভাই!

বদি ভাইঃ মাইক্রসফ্‌ট একটা হোপলেস সেইটা বল!

রঞ্জুঃ মাইক্রসফ্‌ট ইয়্যু আর হোপলেস্‌! 😪











বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৩, ২০১৬

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন —৭



বদি ভাইঃ রঞ্জু, ইংরেজিতে Ironic নামে একটা একটা শব্দ আছে। জানিস তো?

রঞ্জুঃ উউম্মম্মম্মম্ম..... কি জানি; মনে পড়ছে না।

বদি ভাইঃ এদ্দিন স্কুল-কলেজ করে কি শিখলি যে সাধারণ কিছু ইংরেজি শব্দ তোর মাথায় থাকে না?

রঞ্জুঃ ইয়ে..... মানে...... সে যাই হোক। এখন বলেন ঐটা কি।

বদি ভাইঃ তোমারে দিয়া কিস্যু হবে না রঞ্জু। বুজলা! তোমার ভবিষ্যৎ পুরাই বাঁশের বিল্ডিং এর মত।

রঞ্জুঃ আচ্ছা হইল সেটা। এখন বলেন Ironic এর অর্থ।

বদি ভাইঃ Ironic এর অর্থ হইল 'বিদ্রূপাত্মক'

রঞ্জুঃ বিদ্রূপাত্মক! এটা আবার কি জিনিষ!

বদি ভাইঃ বুঝলা না?

রঞ্জুঃ না তো।

বদি ভাইঃ ধর কোন একটা ঘটনা বা কারো কথা যদি তারেই ব্যঙ্গ করে কিংবা টিপ্পনী কাটে তখন ঐটারে বলা যায় বিদ্রূপাত্মক ঘটনা।

রঞ্জুঃ তো এইটারে সোজা করে বললেই পারতেন যে কাউরে নিয়ে মজা করার অর্থই Ironic। হুদাই প্যাচ-গোচ লাগাই এতকিছু বললেন।

বদি ভাইঃ আরেহ্‌ নাহ। শুধু শুধু কাউরে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা মজা করার অর্থ Ironic না। Ironic হইতে হইলে ঘটনাটারে এমন হইতে হবে যাতে মনে হয় ঘটনাটা নিজেই ঘটনাটারে বা কোন লোকের কথা বা কাজ ঐ লোকটারেই পরিহাস করতেছে।

রঞ্জুঃ আচ্ছা, বুঝলাম।

বদি ভাইঃ কি বুঝলা!

রঞ্জুঃ ঐ তো, যা বুঝাইলেন। তাই বুঝলাম।

বদি ভাইঃ তাই নাকি? তাহলে পরে Ironic ঘটনার একটা উদাহরণ দেও দেখি।

রঞ্জুঃ উউম্মম্মম্ম...................
ইয়ে... মানে.... বদি ভাই। মাথা চুলকায়, একটু হিন্ট দেন না!

বদি ভাইঃ বুঝলা রঞ্জু, তোমারে নিয়ে আমি পুরাই হতাশ। কোন কিছুই একটু ভালো করে চিন্তা কর না তুমি। তার আগেই হাল ছেড়ে দেও। এইটা বড়ই পরিতাপের কথা।

রঞ্জুঃ আচ্ছা! হল তো। এখন একটু হিন্ট দেন। তারপর না পারলে যা খুশি বইলেন।

বদি ভাইঃ নাই, কোনে হিন্ট নাই। গুগল করে বুঝে নিও।

রঞ্জুঃ গুগল! আরে হ্যাঁ, তাই তো।

বদি ভাইঃ কি হইলো?

রঞ্জুঃ পেয়ে গেছি Ironic এর উদাহরণ।

বদি ভাইঃ তাই নাকি? কি? বল শুনি।

রঞ্জুঃ হ্যাঁ, এই যে গুগল করতে বললেন। তখনই পেয়েছি।
ধরেন কেউ Google.com এ গিয়ে সার্চ বক্সে যদি 'Best alternative of google search engine' লিখে সার্চ করে। আর গুগল যদি সেই সার্চ কোয়েরির ৩ লাখ উত্তর দেখায় তবে সেইটা হল একটা Ironic ঘটনা।

বদি ভাইঃ আরে বাহ! দারুণ উদাহরণ দিলা তো!
নাহ, ভুল বলছি। তোমারে দিয়েও হবে। ঠিকমত টিউনিং করতে পারলে তোমারে দিয়েও আলেকজেণ্ডারের মত বিশ্ব জয় করা যাবে।

রঞ্জুঃ থেংকু বদি ভাই!





সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন — ৬



বদি ভাইঃ রঞ্জু, তুই মুভি দেখিস?

রঞ্জুঃ দেখি তো বদি ভাই!

বদি ভাইঃ কি কি মুভি দেখিস?

রঞ্জুঃ বাংলা, ইংলিশ কিছু কিছু হিন্দি, কোরিয়ান, জাপানি, থাই সহ প্রায় সব ধরণের মুভিই দেখি। কেন বদি ভাই?

বদি ভাইঃ এই যে এত মুভি দেখেছিস ঐগুলির মাঝে কোন ভাম্পায়ারের মুভি ছিল না?

রঞ্জুঃ হ্যাঁ, ছিল তো। এই তো কিছুদিন আগে ডিজনি'র রিলিজ করা হোটেল ট্রানসিলভেনিয়া-২ দেখলাম। অসাম মুভি একটা।

বদি ভাইঃ হুম, অসাম মুভি। বুঝলাম।

রঞ্জুঃ কেন বদি ভাই! কোন সমস্যা?

বদি ভাইঃ না কোন সমস্যা না। আচ্ছা ঐ যে ভাম্পায়ার ছিল, ওরা কি খেয়ে বেঁচে থাকে বল তো দেখি।

রঞ্জুঃ ইয়ে! মানে... মুভিতে তো দেখায় ভাম্পায়ারেরা মানুষের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে।

বদি ভাইঃ হুম, ভাম্পায়ার চরিত্রটার চরিত্রায়ন করা হয়েছে এমন ভাবে যেখানে দেখানো হয় ঐগুলি মানুষের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। আগে তো ভাম্পায়ার শুধু ভৌতিক সাসপেন্স আর ভায়োলেন্স যুক্ত মুভিতেই ভাম্পায়ারের চরিত্র থাকত। তবে এখন ভাম্পায়ারের চরিত্রের প্রসার ঘটেছে অনেক। রোমান্টিক, কমেডি, যুদ্ধ, কভার্টস্ট্রাইক টাইপের মুভিতেও চলে এসেছে ভাম্পায়ার। আর সাথে ডিজনি তো রয়েছেই তাদের চমৎকার সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে।

রঞ্জুঃ বুঝলাম। কিন্তু আজ আপনি হুট করে ভাম্পায়ার নিয়ে এত কিছু কেন বলছেন ঐটাই শুধু বুঝতে পারি নাই।

বদি ভাইঃ হা হা হা! বুঝিস নাই!
আসলে ভাবিতেছিলাম রঞ্জু, এই যে ভাম্পায়ার গুলিরে ওরা বানাইল। তারপর এত শত ব্যবহার করল। কিন্তু তারপরেও ভাম্পায়ারের খাবারের কিন্তু কোন পরিবর্তন করতে পারলো না। সেই আগের মতই সব ভাম্পায়ার মানুষের রক্তই খাইয়্যা বাইচ্চা থাকে। চিন্তা করে দেখো তো দুনিয়াতে এত এত খাবার থাকতে ভাম্পায়ার গুলিরে নাকি হুদা মানুষের রক্ত খাইয়্যা বাইচ্চা থাকতে হয়!

রঞ্জুঃ হুম, সেইটা তো আসলেই ভাববার মত বিষয়।

বদি ভাইঃ আচ্ছা বলতো রঞ্জু, ভাম্পায়ার গুলির চরিত্র এমন করে কেন তৈরি করেছে, যে সে না চাইলেও বাধ্য তাকে হয়ে মানুষের রক্ত খেতেই হয়?

রঞ্জুঃ কেন বদি ভাই?!

বদি ভাইঃ তোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি যারপরনাই হতাশ রঞ্জু! তুই এখনো ওয়াইড মাইন্ডে কিছু বোঝার চেষ্টা করিস না! এমন করে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে যে তোর কি হবে তাই নিয়ে আমি বড়ই শঙ্কায় থাকি মাঝে মাঝে।

রঞ্জুঃ আহ্‌ বদি ভাই! আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরে শঙ্কা করলেও চলবে, আগে আপনে বলেন কেন ভাম্পায়ার গুলিকে অনিচ্ছাতেও রক্ত খেতে হয়।

বদি ভাইঃ আচ্ছা শোন মন দিয়ে।
ভাম্পায়ারের মুভিতে তো দেখেছিস, ওরা হাজার হাজার বছর কফিনে বসবাস করে। দিনের বেলাতে ঘুম আর সন্ধ্যার পর জেগে উঠে। তারপর যায় মানুষের রক্তের সন্ধানে।

রঞ্জুঃ হুম দেখেছি।

বদি ভাইঃ আবার এইটাও নিশ্চই দেখেছিস যে ওরা সূর্যের আলো সহ্য করতে পারে না। সূর্যের আলো গায়ে পড়লে হয় ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায় কিংবা বালির মত ঝড়ে যায়।

রঞ্জুঃ হ্যাঁ, এটাও দেখেছি। ওদের জন্যে সূর্যের আলো হচ্ছে মৃত্যু স্পর্শের সমতুল্য।

বদি ভাইঃ তাহলে এই থেকে কি প্রমাণ হয়?

রঞ্জুঃ কি প্রমাণ হয় বদি ভাই!!

বদি ভাইঃ আরে গাধা এই থেকে প্রমাণ হয় যে জন্মের পর ওরা আমাদের মত সূর্যের আলো গায়ে মেখে ভিটামিন 'ডি' নিতে পারে না। আর ভিটামিন 'ডি' না থাকলে শরীরের হাড়গোড় শক্ত হয় না। আর হাড়গোড় শক্ত না হলে হাজার হাজার বছর ক্যামনে বেঁচে থাকবে বল?
তাই ওরা শুধুমাত্র ভিটামিন 'ডি' পাওয়ার জন্যে অনিচ্ছাতেও মানুষের রক্ত খেয়ে বেড়ায়! বুঝলি রে আহাম্মক!

রঞ্জুঃ হা হা হা হা!
একেবারে টু দ্যা পয়েন্টে বুঝতে পেরেছি!






বুধবার, জুলাই ২০, ২০১৬

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন — ৫



বদি ভাইঃ বলত রঞ্জু, একজন ভালো লেখক সেটা কিভাবে যাচাই করা যায়?

রঞ্জুঃ কিভাবে বদি ভাই?

বদি ভাইঃ কিভাবে সেইটাই তো আমি তোমাকে জিজ্ঞাস করলাম।

রঞ্জুঃ উম্‌ম, সবাই যখন তার লেখা পড়বে তখন তাকে ভালো লেখক বলা যায়।

বদি ভাইঃ তা তো অবশ্যই যায়।
কিন্তু চিন্তা কর এমন তো অনেক লেখকই রয়েছে যাদের লেখা প্রায় সকলেই পড়ে। তাহলে এই ভালো লেখকদের মাঝেও আরও ভালো লেখক কে, তা কিভাবে বুঝবা?

রঞ্জুঃ ভালো লেখকদের মাঝেও আরও ভালো লেখক থাকে নাকি? ভালো লেখক মানেই তো যে ভালো লিখে। আর সেই কারণেই তো সে ভাল লেখক।

বদি ভাইঃ উহু, এই ভালো লেখকদের মাঝেও আরও ভালো লেখক থাকে রঞ্জু।

রঞ্জুঃ কিভাবে? বুঝিয়ে বলেন না একটু।

বদি ভাইঃ এই হল তোমার সমস্যা। নিজে নিজে ভালো ভাবে কিছুই চিন্তা করবা না, শুরুতেই হাল ছেড়ে দিবা। তোমারে নিয়ে আমি বড়ই হতাশ রঞ্জু।

রঞ্জুঃ আহ! বলেন না। কিভাবে আরও ভালো লেখক যাচাই করে বের করব?

বদি ভাইঃ আচ্ছা শোন।
লেখক কোন লেখা লিখলে অবশ্যই কোন না কোন পাঠক তা পড়বে। আর পাঠকের সংখ্যা যত বাড়বে লেখকের মূল্যায়ন তত বাড়বে, আর মূল্য বাড়ে তার লেখার। কিন্তু সবার লেখার কিন্তু একই মূল্যায়ন সকল পাঠকের কাছে থাকে না। পাঠকের স্বাদের ভিন্নতার কারণে লেখার মূল্যেরও পরিবর্তন হয়।

একটা লেখা যখন কিছু মানুষের কাছে খুব ভালো লাগবে, তখন ঐ একই লেখা অন্য কিছু লোকের কাছে খুবই বাজে মনে হবে। আর যাদের কাছে ঐ লেখাটা বাজে মনে হল তারা কিন্তু লেখকেও বাজে লেখক হিসেবেই ধরে নেবে।

আর সাধারণত কোন লেখকের লেখা খারাপ হলে পাঠক ঐ লেখকের আর কোন লেখা পড়তে যায় না।

রঞ্জুঃ এটাই তো স্বাভাবিক।

বদি ভাইঃ হ্যাঁ, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এমন হয় যে কেউ একজন লেখক আছে, যার লেখা তোমার মোটেই ভালো লাগে না। কিন্তু তোমার পরিচিত কিংবা অপরিচিত কেউ কেউ ঐ লেখকের লেখায় অনেক মজা পেল। আর তুমিও সেটা জানতে পারলে। তখন তুমি কি করবে?

রঞ্জুঃ কি আর করব? যদি খুব ভালো প্রশংসা শুনি তবে অবশ্যই তার অন্য কোন লেখা পড়ব।

বদি ভাইঃ আচ্ছা। তার অন্য কোন লেখা তুমি পড়লা। কিন্তু লেখা পড়ার পর তোমার কাছে মনে হল এটাও সেই আগের মতই বাজে লেখা, তখন কি করবে?

রঞ্জুঃ তার লেখা পড়া পুরোপুরিই বাদ দিবো।

বদি ভাইঃ হ্যাঁ, এতক্ষণে তুমি লাইনে আসছো রঞ্জু।
কোন একজন লেখকের লেখা তোমার যতই খারাপ লাগুক, তারপরও যখন তার লেখা কত খারাপ এইটা জানার জন্যে তুমি তার অন্য লেখা প্রায় নিয়মিত পড় তাহলে বুঝতে হবে লেখকটি শুধু ভালোই নয়, সমসাময়িক অন্য লেখকদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো লিখে।

তেমনি একজন লেখক যত বাজেই হোক না কেন, তার কাজে তুমি যতই বিরক্ত হও না কেন। তাকে ছাপিয়েও যখন তার লেখা তোমার ভালো লাগবে তখনও বুঝবে তুমি একজন চমৎকার লেখকের লেখা পড়ছ।

রঞ্জুঃ আচ্ছা! তাই বলেন।
কিন্তু বদি ভাই, এমন তো অনেক লেখকই রয়েছে যাদের একটা লেখা খারাপ হলেও অন্য লেখাগুলি পরবর্তীতে ভালো লেগেছে।

বদি ভাইঃ হ্যাঁ, এমন লেখকও রয়েছে। তবে তুমি ভালো করে চিন্তা করে দেখো, তাদের মাঝেও কেউ একজন রয়েছে, যাকে নিয়ে মানুষ অনেক খারাপ মনোভাব প্রকাশ করে। কিন্তু হাজার খারাপ হলেও তার লেখা ঠিকই মনোযোগ দিয়েই পড়ে।

রঞ্জুঃ হ্যাঁ, এমন লেখকও রয়েছে।

বদি ভাইঃ তাহলে এখন বুঝছো তো একজন ভালো লেখক কিভাবে যাচাই করা যায়?

রঞ্জুঃ হুম, এবার বুঝতে পেরেছি।







রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৫

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন —  ৪



বদি ভাইঃ বলতো রঞ্জু ভালো মানুষের ভালোমানুষি কখন কাজে আসে?

রঞ্জুঃ এইটা আবার কেমন প্রশ্ন বদি ভাই!

বদি ভাইঃ আহ্‌! প্রশ্ন হইল প্রশ্ন, প্রশ্নের কোন এমন তেমন নাই। এখন দ্রুত করে বল তো, ভালোমানুষের ভালোমানুষি কখন কাজে আসে?

রঞ্জুঃ আমার তো মনে হয় সবসময়ই কাজে লাগে।

বদি ভাইঃ সেটা একেবারে ভুল বল নাই। তবে সেই কাজে লাগাটা মূলত তার নিজের লাগে না। তার ভালো কাজ গুলি অন্যের কাজে লাগে।

রঞ্জুঃ সেটাই তো হবার কথা।

বদি ভাইঃ হুম, সেইটাই হবার কথা। কিন্তু মূলত তার এই ভালো কাজ গুলি কখন তার নিজের সত্যিকারে কাজে লাগে এইটা বলতে পারবা?

রঞ্জুঃ নাহ্‌, পারলাম না। আপনিই বলে দেন।

বদি ভাইঃ তোমারে নিয়ে আমি বড়ই হতাশ রঞ্জু। এত দ্রুত হাল ছেড়ে দাও না, তোমাকে পুরাই হোপলেস মনে হয়।

রঞ্জুঃ আচ্ছা, বুঝলাম তো। এইবার বলেন কখন মানুষের ভালো কাজ তার নিজের কাজে আসে।

বদি ভাইঃ মানুষের ভালো কাজ দুইটা অবস্থায় কাজে আসে। প্রথম যখন সে খুব.. খুব… খুবই অসুস্থ থাকে, তখন। আর দ্বিতীয় যখন সে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ইহলোকে পাড়ি জমায়, তখন।

রঞ্জুঃ এইসব কি বলেন! তখন কিভাবে কাজে আসে তার ভালো কাজ!

বদি ভাইঃ বুঝলা না! এত অবুঝ হইলে কেমনে চলে!

রঞ্জুঃ আচ্ছা আমি অবুঝই ঠিক আছি, আপনি আছেন না আমাকে বুঝিয়ে বলার জন্যে। এবার বলেন, কিভাবে কাজে আসে?

বদি ভাইঃ খেয়াল করে দেখো, যখন কোন ভালো মানুষ গুরুতর অসুস্থ থাকে তখন সবাই মুখে মুখে বলবে, ‘আহা! কত ভালো মানুষ ছিল। এমন রোগ তার কেমনে করে হল’। আবার যখন কেউ মারা যায় তখন তো তার বাড়ি গিয়েই তার পরিবার পরিজনের সাথে বলবে, “ইশ! এমন ভালো লোকটা এমন করে চলে গেল!” আর তারপর সে যে কি পরিমাণ ভালো সেইটার ফিরিস্তি দিতে শুরু করবে।

রঞ্জুঃ কিন্তু এইসবই তো সমবেদনা, সান্ত্বনার কথা। এগুলি কিভাবে তার কাজে আসে।

বদি ভাইঃ হ্যাঁ, এইবার আবার একটা ঠিক কথা বলছো তুমি রঞ্জু। মানুষের ভালোকাজ গুলি একমাত্র তার অবর্তমানে মানুষের সমবেদনা কিংবা সান্ত্বনার ভাষায় প্রকাশ পায়। আর ঐটুকুই তার প্রাপ্তি।

রঞ্জুঃ তাহলে মানুষের খারাপ কাজ কখন কাজে আসে?

বদি ভাইঃ হা! হা! হা! হা! ঐটা কোন সময় কাজে আসে না সেইটা বল!










সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০১৫

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন‬ —  ৩



বদি ভাইঃ রঞ্জু, বলত শুভাকাঙ্ক্ষী কারে বলে?

রঞ্জুঃ কাকে আবার! যারা আমার ভালো চিন্তা করে তারাই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী।

বদি ভাইঃ আচ্ছা, তাহলে এখন বল তো তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী কারা কারা?

রঞ্জুঃ কারা আবার! আপনি, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী এরাই তো..

বদি ভাইঃ একটু ভুল বললা। বাবা-মা ঠিক আছে, কিন্তু তার বাইরে বাকি কেউই আসলে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী না, আমিও না।

রঞ্জুঃ কি বলেন বদি ভাই! আপনি আবার আমার শুভাকাঙ্ক্ষী না কিভাবে?

বদি ভাইঃ এইটাই তো তোমার সমস্যা রঞ্জু। বুঝায় না বললে তুমি কিছুই বুঝতে চাও না।

রঞ্জুঃ এই কারণেই তো বললাম, আপনি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী। এইবার দ্রুত করে বুঝায় বলেন তো ব্যাপারটা।

বদি ভাইঃ আচ্ছা বলছি, ভালো করে মন দিয়ে শোন। তোমার এক চাচাত ভাই আছে না, ঐ যে শান্ত না কি যেন নাম। এই যে কিছুদিন আগে সরকারী মেডিক্যালে প্রফেসর হিসেবে চান্স পেয়েছিল।

রঞ্জুঃ হুম। শান্ত ভাই। কিছুদিন আগেই তার সরকারী একটা হসপিটালে পোস্টিং হয়েছে। কেন? তার কথা কেন বলছেন?

বদি ভাইঃ সে তো ডাক্তার, তার উপর তোমার আত্মীয় আর বড় ভাই। সেই হিসেবে তো তোমার শান্ত ভাই তোমার বেশ বড় ধরণের শুভাকাঙ্ক্ষী হবার কথা। তাই না?

রঞ্জুঃ হুম। সেটাই তো হবে।

বদি ভাইঃ এখানেই তুমি ভুল করলা রঞ্জু। ডাক্তার মানুষ হইলেও সে আসলে মোটেই তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী না। সে আসলে মনে মনে আশা করে কবে তুমি কিংবা তোমার পরিবারের কেউ বড় ধরণের অসুস্থ হবে। আর অপেক্ষা করে, কবে তোমরা তার বুদ্ধি আর পরামর্শের জন্যে তার দ্বারস্থ হবে।

রঞ্জুঃ ধুর! কি যে বলেন না বদি ভাই। শান্ত ভাই মোটেই ঐরকম লোক নয়।

বদি ভাইঃ আবারও ভুল করলে তুমি রঞ্জু। তুমি শুধু তোমাকে নিয়েই চিন্তাটা করেছ। তোমার ভাই শান্ত আসলে তোমার বা তার আত্মীয়দের ব্যাপারে এমন চিন্তা সরাসরি না করলেও পেশাগত কারণে তার মনে কিন্তু এই ব্যাপারটাই কাজ করে।

রঞ্জুঃ বুঝলাম, কিন্তু সেইটা তো নিশ্চই আর অপরাধ না।

বদি ভাইঃ তুমি কিন্তু সরাসরি কনক্লুশনে চলে যাচ্ছ রঞ্জু। আমি কিন্তু মোটেও বলি নাই যে শান্ত ভাই কিংবা ডাক্তারদের এইটা অপরাধ। আচ্ছা এইটা বাদ দেও, আরেকটা বলি। শোন।

রঞ্জুঃ বলেন।

বদি ভাইঃ তোমার পাশের বাসায় ইশতিয়াক আঙ্কেলরা থাকে না? সে তো তোমার আব্বুর খুব ভালো বন্ধু। ঠিক বললাম না?

রঞ্জুঃ হ্যাঁ। আমাদের পাশেই ইশতিয়াক আঙ্কেলদের বাসা। আর পাশাপাশি থাকার কারণেই আব্বার সাথে খুবই ভালো সম্পর্ক। সেই হিসেবে বন্ধুই তারা।

বদি ভাইঃ সে তো নিশ্চই তোমাদের খুবই শক্ত একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, তাই না?

রঞ্জুঃ তা তো অবশ্যই। কয়েক বছর পূর্বেই তো আমাদের গ্রামের বাড়িটা নিয়ে একটা বিশ্রি ধরণের ঝামেলা হয়েছিল। তখন ইশতিয়াক আঙ্কেলের পরামর্শেই সেই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলাম।

বদি ভাইঃ হুম। আমিও যতটুকু জানি তাতে সে বেশ হাসি-খুশি আর ‘মাই ডিয়ার’ টাইপের লোক। কিন্তু এত কিছুর পরেও কিন্তু সে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী না।

রঞ্জুঃ কি বলেন!

বদি ভাইঃ ঠিকই বলছি। যেভাবে তোমার শান্ত ভাই অবচেতনে আশা করে বেশি বেশি রোগী, আর তার পরামর্শের। তেমনি তোমার ইশতিয়াক আঙ্কেলও আশা করে আইনি ঝামেলায় পড়ে যেন সবাই তার দ্বারস্থ হয়। হাজার হলেও পেষায় তো সে একজন উকিল। হা হা হা!

রঞ্জুঃ বুঝলাম আপনার কথা। আপনার এই লজিক অনুযায়ী তো আসলে আমরা কেউই কারও শুভাকাঙ্ক্ষী না।

বদি ভাইঃ লজিক অনুসারে চিন্তা করলে এক টাইপের লোক তুমি পাবা, যারা আসলেই মানুষের শুভাকাঙ্ক্ষী।

রঞ্জুঃ কোন টাইপের লোক?

বদি ভাইঃ চোর

রঞ্জুঃ চোর! কি যে যা তা বলেন না বদি ভাই। চোর তো কারও অনিষ্ঠ করা ছাড়া ভালো করে এমন শুনি নাই। তাহলে সে কিভাবে আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়?

বদি ভাইঃ জানতাম রঞ্জু, তুমি এমন কিছুই বলবা।

রঞ্জুঃ এখন আপনি বলেন কিভাবে চোর আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়।

বদি ভাইঃ বলছি, মন দিয়ে শোন। দেশের প্রেসিডেন্ট হতে শুরু করে রাস্তার মুচি পর্যন্ত চায় তার আশে পাশের বাকি সব মানুষ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্যায় পড়ুক। ডাক্তার যেমন চায় সবাই বেশি বেশি অসুস্থ হোক, তার পরামর্শ নিতে আসুক। তেমনি কোম্পানির মালিক চায় আজীবন শ্রমিক তার নির্দেশ মত কাজ করে যাক, তাদের ভাগ্যের চাকা আজীবন এমনই থাকুক। পুলিশ চায় দেশের মানুষ বেশি বেশি বেআইনি কাজ করুক, আর পক্ষ বিপক্ষ সবাই তার দ্বারস্থ হোক। সবজির দোকানদার চায় সবাই বেশি দাম দিলে হলেও তার পচে যাওয়া সবজি কিনুক। বাড়িওয়ালা চায় আজীবন তার ভাড়াটিয়ারা তার বাসায় ভাড়া থাকুক, আর বছর ঘুরতেই সে তার ইচ্ছে মত বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে নিতে থাকুক। মুচি চায় তোমার পায়ের নতুন স্যান্ডের দু’দিন পরপর ছিঁড়ে যাক আর তুমি বার বার সাহায্যের জন্যে তার কাছে তোমার ছেড়া স্যান্ডেল নিয়ে যাও।

কিন্তু একমাত্র চোরই এইসব আশা করে না।

রঞ্জুঃ চোর কিভাবে এইসব আশা করবে। ও তো সবসময় ফন্দি ফিকিরে থাকে কিভাবে চুরি অন্যের জিনিষ চুরি করা যায়।

বদি ভাইঃ সেটা তুমি ভুল বল নাই। প্রয়োজনের খাতিরেই সে অন্যের বাড়িতে চুরি করে। কিন্তু মনে মনে কিন্তু সে ঠিকই সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়।

রঞ্জুঃ বলেন, এইটাই বুঝিয়ে বলেন।

বদি ভাইঃ চোর চুরি করলেও মনে মনে আশা করে দেশের সবাই যেন ধনী হয়ে যায়, দামী দামী জিনিষপত্র দিয়ে যেন তারা বাড়ি-ঘর ভরে ফেলে। টাকা-পয়সা, সোনা-দানা আর হীরের গহনা যাতে বাড়ি বাড়ি আলমারিতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। আর সে যেন এইসবই অবলীলায় চুরি করতে পারে।

আর একমাত্র চোরই এমন ব্যক্তি যে তোমার খারাপ অবস্থার জন্যে দুঃখ পায়। কারণ তোমার খারাপ অবস্থাই মানে তার চুরি করার পরিমাণ কমে যাওয়া।

রঞ্জুঃ তার মানে হল যে কারও শুভাকাঙ্ক্ষী হতে চাইলে অবশ্যই আমাকে চোর কিংবা ডাকাত হতে হবে।

বদি ভাইঃ না, তোমাকে ঠিক চোর কিংবা ডাকাত হতে হবে না রঞ্জু। শুধু যদি মন থেকে সত্যিকারে সকলের জন্যে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারো তাহলে যেখানে যেই পেষাতেই থাক না কেন, সেখানে সেই অবস্থাতেই সকলের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারবা।

রঞ্জুঃ উক্কে বদি ভাই। সকলের জন্যেই মন থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করার ট্রাই করব।








রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৫

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন‬ — ২



বদি ভাইঃ রঞ্জু বলত, একটা বই, সেটা ভালো না মন্দ তা কিভাবে বোঝা যায়?

রঞ্জুঃ এ আর এমন কি কাজ। ভালো বই মানেই পড়ার বই, গল্পের বই, কবিতার বই, এইসব। আর খারাপ বই মানে ঐ যে ইয়ে আর কি.. উল্টা পাল্টা সব কথা বার্তা থাকে যে ঐসব।

বদি ভাইঃ রঞ্জু, তোমাকে কি জিজ্ঞাস করলাম আর তুমি কি বললা। আমি বললাম একটা ভালো বই সেটা তুমি কিভাবে বুঝবে আর তুমি বলছ কি সব বাজে কথা।

রঞ্জুঃ তাহলে বদি ভাই! কিভাবে বুঝবো ভালো বই আর মন্দ বইয়ের পার্থক্য?

বদি ভাইঃ বুঝলা রঞ্জু, তোমারে নিয়ে সত্যিই বড় দুশ্চিন্তা হয়। সাধারণ এই জিনিষ গুলিও এতদিন পরে বুঝে উঠতে পারলে না।

রঞ্জুঃ আপনি আছেন না! আপনি বুঝিয়ে বলবেন। এইবার বলেন না বদি ভাই, কিভাবে ভালো আর মন্দ বইয়ের পার্থক্য বোঝা যায়?

বদি ভাইঃ বলছি, মন দিয়ে শোন।

বইটা ভালো বুঝবে তখন, যখন তুমি বইটা পড়তে শুরু করলে তোমার গার্ল-ফ্রেন্ডের কথা মনে থাকবে না। কত পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়েছ সেইটা মনে থাকবে না। পড়তে পড়তে গল্পের আসল ঘটনা চোখের সামনে ভেসে আসবে, টেনশন অনুভব করবে সেইটাকে ঘিরে। আর প্রতিবার বইটা পড়া থেকে বিরতি নেবার সময় মনে হবে- “ইশ! এত দ্রুত পড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে!!” আবার পড়তে শুরু করলে মনে হবে- “ইশ! এরপর কি! এরপর কি!! দ্রুত পড়তে হবে”

কিংবা যদি কোন কবিতার বই হয় তখন দেখবে প্রতিটা কবিতাই তোমাকে এক ধরণের শিহরণ দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা কবিতার কিছু লাইনেই তুমি তোমাকে খুঁজে যাবে। কিছু কিছু লাইন তোমাকে টেনে ধরে নিয়ে যাবে সুদূর অতীত। সেখানকার হাসি কান্না তোমাকে আলোড়িত করে যাবে প্রতি চরণে চরণে। দেখা যাবে একই কবিতা তুমি ঘুরে ফিরে পড়ছ।

তারপর বইটা যখন এমন করতে করতে শেষ হয়ে যাবে তখন তোমার আফসোসের সীমা থাকবে না। বার বার মনে হবে- ‘কেন যে এত দ্রুত পড়া শেষ করতে গেলাম’ আর ‘কেন যে আরও একটু লিখল না’ -এইসব। আবার মাঝে মাঝে আক্ষেপও হবে এরপর কি হবে সেইটা জানলে না বলে।

রঞ্জুঃ ও আচ্ছা। তাই বলেন। কিন্তু এইসবই তো প্রায় সব বই পড়তে গেলে হয়। কিন্তু ভালো বইয়ের ব্যাপারে এমন হলে খারাপ বই হবে কোনগুলি?

বদি ভাইঃ এখনো বুঝতে পারো নাই খারাপ কোনগুলি? আফসোস রঞ্জু, তোমারে নিয়া বড়ই আফসোস হয় এইসব কারণেই।

রঞ্জুঃ আহ্! বলেন না বদি ভাই। জিনিষটা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।

বদি ভাইঃ খারাপ বই বলতে আসলে তেমন কিছু নাই। তারপরও যেইসব বই পড়তে গেলেই বার বার তোমার গার্ল-ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়ে যাবে। পড়া শুরু করলেই মনে হবে যেন তুমি বই না পড়ে তোমার গার্ল-ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করছ। আর এমন অযৌক্তিক ঝগড়া তোমার গার্ল-ফ্রেন্ড কোন ব্যাপারকে কেন্দ্র করে করছে তার উপর তোমার বিন্দুমাত্র ধারণা নাই। ভেতর ভেতর এই ঝগড়া দ্রুত শেষ করার তাগিদ অনুভব করবা, আর সেটা সম্ভব না হলে মাঝ পথেই ঝগড়া কিভাবে থামানো যায় তার চিন্তা চলতে থাকবে। যদি এমন সব চিন্তা ধারা যদি কোন বই পড়ার সময় সামনে আসে তখনই বুঝতে পারবে যে তুমি আসলে একটা বাজে ধরণের বই পড়ছ।

রঞ্জুঃ কিন্তু বদি ভাই, আমার যে কোন গার্ল-ফ্রেন্ড নেই। তাহলে কিভাবে এই অনুভূতি আসবে?

বদি ভাইঃ গার্ল-ফ্রেন্ড নেই! এইবার বুঝলাম কেন তুমি ভালো বই আর মন্দ বইয়ের মাঝে পার্থক্য করতে পারো না। ভালোই হয়েছে, সামনের দিকেও আর গার্ল-ফ্রেন্ড জুটাবা না। তাহলেই বই পড়ার আসল স্বাদ অনুভব করতে পারবা। নয়তো সবই বই_ই বাজে মনে হবে।

রঞ্জুঃ উক্কে বদি ভাই।








শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০১৫

বদি এণ্ড রঞ্জুর কথোপকথন — ১



বদি ভাইঃ বলত রঞ্জু, ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে গুলির সাথে সবচেয়ে বড় অন্যায় অবিচার করছে কারা?

রঞ্জুঃ কারা বদি ভাই?

বদি ভাইঃ বিজ্ঞানী আর আবিষ্কারকেরা..

রঞ্জুঃ কি বলেন বদি ভাই! কিভাবে??

বদি ভাইঃ নাহ্‌ রঞ্জু, তুমি সাধারণ কথাটাও বুঝো না। তোমারে নিয়া বড়ই শঙ্কা হয়, বুঝলা।

রঞ্জুঃ বলেন না বদি ভাই, কিভাবে বিজ্ঞানী আর আবিষ্কারকেরা এই ছেলে-মেয়েদের উপর অন্যায় করল।

বদি ভাইঃ ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত কিন্তু তুমিও তাদের অবিচারের স্বীকার।
প্রথমেই তারা কিছু একটা আবিষ্কার করবে। তারপর তাদের সেই আবিষ্কার দিয়ে সবাইকে তাক লাগাবে। কিন্তু প্রেশারটা পড়বে সেই ছোট ছোট বাচ্চাদের উপরই।

রঞ্জুঃ বুঝলাম না বদি ভাই। বুঝিয়ে বলেন না একটু।

বদি ভাইঃ এই হইল এক সমস্যা। পুরো ঘটনা বিস্তারিত না বললে তোমরা কিছু বুঝতে পারো না। আচ্ছা, ঠিক আছে বলছি, ভালো করে খেয়াল দিয়ে শুনবা।
ধর কাল তুমি একটা কিছু আবিষ্কার করলা। দুনিয়া জুড়ে তোমার নাম-ডাক হল। তারপর? তারপর তোমার সেই আবিষ্কার নিয়ে দীর্ঘ কয়েক অধ্যায় রচনা করা হবে। তারপর সেটাকে গিলতে বাধ্য করা হবে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের।

রঞ্জুঃ ও আচ্ছা! এই ব্যাপার।

বদি ভাইঃ না। শুধুই এই ব্যাপার না।

রঞ্জুঃ তাহলে!

বদি ভাইঃ শুধু যে তোমার আবিষ্কার নিয়েই পড়িয়েই ক্ষ্যান্ত দিবে তা কিন্তু না।
এরপর উঠে পড়ে লাগবে এই আবিষ্কার নিয়ে একগাদা সমস্যা সমাধান করানোর জন্যে। এর সাথে শুরু করবে তুমি এই আবিষ্কারের আগে কেমন ছিলা, কিভাবে এই আবিষ্কার করার চিন্তা তোমার মাথায় আসল। কোন জায়গায় বসে বসে তুমি এই আবিষ্কারের থিম রচনা করেছিলে। এই যে আমি তোমার সাথে এই প্যাঁচাল দিচ্ছি এই প্যাঁচালও তাদের খুব গুরুত্ব সহকারে শিখাতে বাধ্য করা হবে।
তারপর তোমার সম্বন্ধে শেষ হলেই শুরু করবে তোমার আব্বা-আম্মা আর তাদের আত্মীয়দের নিয়ে ইতিহাসের চ্যাপটার।
এই গুলি তো গেলোই, সাথে আরও যুক্ত হবে কিভাবে তোমার এই আবিষ্কারকে আরও বিস্তৃত ভাবে ব্যবহার উপযোগী করা যায় তার উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা।
এত কিছুর পরেও কি মনে হয় না রঞ্জু তোমার এই আবিষ্কারই বাচ্চাগুলির ভবিষ্যৎ নষ্টের একটা বড় কারণ?

রঞ্জুঃ কিন্তু বদি ভাই, আমি তো এখনো কিছু আবিষ্কার করি নাই।

বদি ভাইঃ ভালো করছ। ভবিষ্যতে করার চেষ্টাও করো না। আইডিয়া আসলে আমার মত চুপচাপ চিন্তা করে তারপর সেইটা ভুলে যাবা। বাচ্চাদের মেধার চাপ মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবা।

রঞ্জুঃ উক্কে বদি ভাই।