বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

এলোমেলো ভাবনাঃ হারাবার সীমাবদ্ধতা...


টুক করে সব ছেড়ে ছুড়ে হুস করে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে খুব ইচ্ছা করে। নিকষ অন্ধকারে আপন স্বত্তাকে গুলিয়ে তাতে গলে যেতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে নিঃশব্দের নিঝুমে নিজেকে বিনিময় করে কোন এক শুনশানে নিজেকে পুনরায় আবিস্কার করতে। ইচ্ছে করে গালের গহ্‌বরে গিয়ে ছোট কোন এক কণার গতিপথ পাল্টে দিয়ে নিজের অস্বিত্বের অবস্থানকে গুড়িয়ে দিতে।

কিন্তু এই সবই অলীক কল্পনা। এখানে কেউ হারায় না। এখানে মিছিমিছি হারাবার অভিনয় করা যায়। এখানে কেউ পথ ভুলে পথিক হতে পারে না। কারণ পথই তাকে নতুন পথের দিশা দিয়ে যায়। কারণ এখানে সবাই এক অদৃশ্যের সুতোতে বাঁধা। এমন এক বিস্বয়কর এই অদৃশ্যের সুতো যে কেউ একজন নিজের অস্তিত্ব জানান দেবার আগেই সবাই নিজ নিজ স্মৃতির সুতোর সাথে তার অদৃশ্য সুতোটাকে কষে বেধে নেয়। তাই এখানে কেবল ব্যক্তির অবস্থান পরিবর্তন হয়। সে দূরে, কাছে, একেবারেই সন্নিকটে কিংবা আত্মবিলাসী অভিমানি হয়ে দৃষ্টির আড়াল হতে পারে। কিন্তু তার সেই অদৃশ্য সুতো তার অবস্থানের ঠিকানা ঠিকই পৌছে দেয় তার পরিচিতের কাছে।

আর তাই সে সুগভীর খালে নিপতিত হয়েও ঢুবে থাকতে পারে না। সুউচ্চ পর্বতের কোণে বরফে জমে গিয়ে কিংবা প্রচণ্ড খরাতাপে তৃষ্ণা বুকে নিয়ে চোখ বুঁজে পড়ে থাকলেও হারিয়ে যায় না। তার অস্তিত্ব অস্বীকার করে ডাস্টবিনে ফেলে রাখলেও সেই অস্বিত্বকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারে না। নিপিড়নে কিংবা লালসায় গলা টিপে মারলেও মস্তিস্কের গোপন অংশ থেকে তার অস্তিত্ব মুছে যায় না। কিংবা নীল নদে কিংবা কোন মালভূমির খুব গভীরে হাজার বছর আগে দেবে গিয়ে থাকলেও তার অদৃশ্য সেই সুতো তাকে মুক্তি দেয় না।

তার সৃষ্ট হওয়াই তাকে অবিনশ্বর করে রাখে। গোপনে, প্রকাশ্যে কিংবা লাখো-কোটি সৃষ্টির ভিন্ন রূপের অন্তরালে অথবা কারও কল্পনায়...