প্রযুক্তি কথন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রযুক্তি কথন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৭, ২০২২

উবুন্তুর নতুন লোগো আর আমার ভাবনা

উবুন্তুর জন্যে নতুন লোগো তৈরি ও পাবলিশ করেছে ক্যানোনিকাল। উবুন্তুর ব্লগ পোস্ট আর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল দুটোতেই নতুন লোগোটি প্রকাশ করা হয়েছে। 


উবুন্টুর সাথে পরিচয় হয় ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কোন এক দিনে। যদিও সরাসরি উবুন্তু হিসেবে তার সাথে পরিচয় হয় নি, কিন্তু তখনই প্রথম আমি উবুন্তুর সাক্ষাত পাই। সেই সময়টাতে তিন রঙের তিনটি মানুষ হাত ধরে বৃত্ত হয়ে আছে এই ব্যাপারটি বুঝতে পেরে বেশ অনেকটা অবিভূত হয়েছিলাম। বিশ্ব জুড়ে হাজার রঙের মানুষ 'ভাতৃত্ববোধ' এর বন্ধনে একত্রিত হয়েছে একটি আইডিয়াকে উদ্দেশ্য করে —এই ব্যাপারটি যেন সেই লোগোটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিলো। 

Image courtesy: OMG! Ubuntu

তারপর উবুন্ত নতুন রূপে লোগোটা নিয়ে আসলো। এবারে একটি বৃত্তে সেই তিনজন আছে ঠিকই, কিন্তু তারা সবাই একটি নির্দিষ্ট একটি রঙের অধিকারী। গোল বৃত্তটিকে যদি ধরনীর সাথে তুলনা করি তাহলে এই তিনটি সাদা আকৃতিকে মানুষের সিম্বল বুঝে নিলাম, আরও বুঝলাম তারা একই পরিচয়ে পরিচিত শুধুমাত্র মানুষ বা Human Being। তাদের মাঝে নেই কোন ভেদাভে; নেই বর্ণ, নেই গোত্র, নেই ভৌগলিক বেরিয়ার কিংবা নেই কোন মতের বিরোধ। তারা সকলে একই লক্ষে, একই উদ্দেশ্য পূরণে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাচ্ছে। অন্তত আমি এমনটিই বুঝে নিয়েছিলাম।

গতকাল নতুন করে যে লোগোটি প্রকাশিত হলো তাতে দেখা যাচ্ছে তিনটি মানুষ সদৃশ্য আকৃতির হাতে হাত ধরে থাকার ব্যাপারটির মাঝে নেই কোন ফাঁকা স্থান। বরং সেই ফাঁকা স্থানটি অবস্থান নিয়েছে মানুষ সদৃশ্য আকৃতিটির ঠিক মস্তক বরাবরে!

নতুন লোগোটি দেখেই প্রথমে আমার যেই কথাটি মনে হয়েছে সেটি হলো- আরে! এটা দেখি এন্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহৃত SHAREit এ্যাপের লোগো!



আরও কিছু পরিবর্তন রয়েছে মূল লোগোটিতে। পূর্বের লোগো গুলিতে ubuntu লেখাটি সবসময় লোয়ার কেস লেটারে বা ছোট হাতের অক্ষরে লেখা হতো। লোগোটির নতুন সংস্করনে ubuntu লেখাটির U বর্ণটি আপার কেস বা বড় হাতের বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যপারটিও দারুণ ভাবে লক্ষণীয় একটা ব্যাপার। লোয়ার ক্লাস লেটার হিসেবে সকল বর্ণ ছিলো বলে ধরে নিতাম উবুন্তুর কাছে সবাই সমান। আর এইবারে U বর্ণটি আপার কেস হওয়ায় মনে হচ্ছে এটি যেন এর ডিমান্ডিং একটা পজিশন বোঝাতে, সবার থেকে নিজেকে আলাদা করতে, সবার মাঝে নিজের অবস্থানের উচ্চতার ভিন্নতা বোঝাতেই এমন করা হয়েছে।

এর বাইরে উবুন্তুর লোগোটি এইবার গোলাকার বৃত্ত ছেড়ে আয়তাকার ফ্রেমে যুক্ত হয়েছে। সেটিও ঠিক মাঝ বরাবর না হয়ে একটা নির্দিষ্ট অংশের দিকে মূল আকৃতিটি অবস্থান নিয়েছে।

সবশেষে উবুন্তুর মূল ফিলোসফি হিসেবে যে কথাটি আমার দারুণ পছন্দের ছিলো- "I am because we are", এই ব্যাপারটি দারুণ ভাবে অনুপস্থিত মনে হয়েছে। হয়তো ক্যানোনিকাল সামনের দিনে উবুন্তুর নতুন লোগোটির পজিটিভ দিক গুলি আমাদের সামনে তুলে ধরবে। হয়তো তখন নতুন করে উবুন্তুর নতুন এই লোগোটির অর্থ আমার বোধগম্য হবে। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে প্রথম দেখায় উবুন্তুর লোগোটি দেখে আমার নিজের যা মনে হয়েছে, তা-ই এখানে তুলে ধরলাম।




শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০

ডেবিয়ান ১০ এক্সএফসিই ইন্সটলের পর করণীয়


    ডেবিয়ানকে বলা হয়ে থাকে লিনাক্সের সবচেয়ে স্ট্যাবল ডিস্ট্রো। সফটওয়্যার কালেকশনে একটু পুরাতন হলেও আপডেটের পরপর ক্রাশ করা, কিংবা প্যাকেজ আপগ্রেডের পর সিস্টেমে ঝামেলা তৈরি হওয়ায় ঘটনা তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে কম ঘটে থাকে এই সলিড রক ডেবিয়ান ডিস্ট্রোতে। ডেবিয়ানের স্ট্যাবিলিটিকে কাজে লাগিয়ে এর থেকেই তৈরি হয়েছে আরও অনেক অনেক ডিস্ট্রো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ডিস্ট্রো হচ্ছে - Ubuntu, MX Linux, Linux Mint Debian Edition বা LMDE, Endless OS, antiX প্রভৃতি।

তো যাই হোক, ধরে নিলাম আপনি আপনার পিসিতে ডেবিয়ান এর সর্বশেষ ভার্সন Debian 10 (Buster) টি XFCE ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট বা DE সহ ইন্সটল করে নিয়েছেন। এখন তারপর কি করা যায়?

এরপর কিছু কাজ করে নিলে আপনার ডেবিয়ান এক্সপেরিয়েন্স হবে আরও দারুন। চলুন দেখে নেয়া যাক সেই কাজের স্টেপ গুলো।

১) user কে sudoers ফাইলে যুক্ত করাঃ

    সিস্টেমের পরিবর্তন সহ সফটওয়্যার বা প্যাকেজ ইন্সটলেশন করার জন্যে সকল পাওয়ার ডিফল্ট ভাবে দেয়া থাকে root ইজজারের কাছে। সেক্ষেত্রে সাধারণ ইউজার এই ধরণের কাজ গুলো করতে পারে না। কিন্তু এখন কাজের জন্যে root ইউজারের পাওয়ারটুকু আমরা আমাদের সাধারণ ইউজারকে প্রদাণ করবো। এতে সে সিস্টেমের এডমিনিসট্রিটিভ পাওয়ার পাবে। এটি করার জন্যে Terminal চালু করে প্রথমে এই কমান্ড টি লিখে এন্টার দিন-

 $ sudo nano /etc/sudoers

এখন আপনার root ইউজারের পাসওয়ার্ডটি দিয়ে এন্টার চাপুন।

এতে টার্মিনালের nano টেক্সট এডিটরে sudoers ফাইলটি সচল হবে। এই ফাইলটি থেকে ‘root  ALL=(ALL:ALL) ALL’ লেখাটি খুজে বের করুন। তারপর লাইনটির শেষে এন্টার কী-প্রেস করে নতুন লাইনে লিখুন ‘{username}  ALL=(ALL:ALL) ALL’। এখানকার {username} অংশটি আপনার সিস্টেমের বর্তমান ইউজারের ইউজারনেম দিয়ে পরিবর্তন করে নিন। যেমন oliver  ALL=(ALL:ALL) ALL


এখন কিবোর্ড থেকে প্রথমে Ctrl+O একত্রে চেপে এন্টার দিয়ে পরিবর্তন গুলো ফাইলে সেভ করুন। তারপর Ctrl+X চেপে nano এডিটরটি বন্ধ করুন।


২) লোকাল মিরর এবং non-free রিপোজিটরি এড করাঃ

    লোকাল মিরর ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় প্যাকেজগুলো খুব দ্রুত ডাওনলোড করা যায়। বাংলাদেশে ডেবিয়ানের ২টি নির্ভরযোগ্য রিপোজিটরি মিরর রয়েছে। এগুলো হলো-

  • http://mirror.amberit.com.bd/debian/
  • http://mirror.xeonbd.com/debian/
এদের মধ্য থেকে AmberIT বেশ প‌ুরাতন। আমি এখন পর্যন্ত এই মিররটিই ব্যবহার করছি। পাশাপাশি XeonBD’র মিররটিও ভালো।

এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু non-free সফটওয়্যার বা প্যাকেজ (যেমন কিছু মিডিয়া কোডেক, ফন্ট, ফ্লাশ সাপোর্ট প্রভৃতি) ব্যবহার করার জন্যে ‘contrib’ এবং ‘non-free’ রিপোজিটরিতে যুক্ত করতে হবে। এটি করার জন্যে টার্মিনালে গিয়ে লিখুন-

 $ sudo nano /etc/apt/sources.list

এরপর nano এডিটরে ছবির মত পরিবর্তন করে নিন-



সম্পূর্ণ source.list ফাইলটি এখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

এখন কিবোর্ড থেকে প্রথমে Ctrl+O একত্রে চেপে এন্টার দিয়ে পরিবর্তন গুলো ফাইলে সেভ করুন। তারপর Ctrl+X চেপে nano এডিটরটি বন্ধ করুন।


৩) সিস্টেম আপডেট করাঃ

    পূর্বের পরিবর্তন গুলো ঠিকঠাক হয়ে থাকলে এখন আমাদের প্যাকেজ লিস্ট নতুন করে সিনক্রোনাইজ করতে হবে। এবং প্রয়োজনীয় আপডেটেট প্যাকেজ গুলো ইন্সটল করে নিতে হবে। এর জন্যে টার্মিনাল চালু করে নিচের কমান্ডটি লিখে এন্টার চাপুন-

 $ sudo apt update && sudo apt upgrade -y

এরপর আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করে আবার এন্টার চাপুন। ইন্টারনেট কানেকশন সচল থাকলে কিছুক্ষন সময় নিয়ে সিস্টেমটি আপডেট চেক করবে। এরপর কোন আপডেট পেলে তা নিজে নিজেই ইন্সটল করে নিবে। কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


৪) build-essential প্যাকেজ ইন্সটল করাঃ

    বেশ কিছু প্যাকেজ কম্পাইল কিংবা সিস্টেমের অভ্যন্তরীন কিছু কাজের প্রয়োজনে কয়েকটি প্যাকেজ ইন্সটল করা খুবই প্রয়োজন। তেমন কিছু প্যাকেজ ইন্সটল করতে টার্মিনালে নিচের কোড গুলো লিখে এন্টার প্রেস করুন-

 $ sudo apt install -y build-essential dkms linux-headers-$(uname -r) firmware-linux firmware-linux-nonfree

এরপর আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করে আবার এন্টার চাপুন। এরপর প্যাকেজগুলো ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


৫) microcode প্যাকেজ ইন্সটল করাঃ

    আপনার সিস্টেমের ধরন অনুযায়ী microcode প্যাকেজ ইন্সটল করুন। যে কম্পানির প্রসেসর দিয়ে আপনার সিস্টেমটি তৈরি হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা মাইক্রোকোড রয়েছে।

আপনার সিস্টেমটি Intel এর হয়ে থাকলে টার্মিনাল চালু করে তাতে লিখুন-
 $ sudo apt install intel-microcode

কিংবা আপনার সিস্টেমটি AMD-র হয়ে থাকলে টার্মিনাল চালু করে তাতে লিখুন-
 $ sudo apt install amd64-microcode

এরপর আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করে আবার এন্টার চাপুন। এরপর প্যাকেজগুলো ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


৬) Synaptic প্যাকেজ ম্যানেজার ইন্সটলঃ

 ডেবিয়ানের জন্যে একটি জনপ্রিয় গ্রাফিকাল প্যাকেজ ম্যানেজার হচ্ছে Synaptic। এখানে  synaptic এর সাথে আরও দুইটি প্যাকেজ ইন্সটল করা হবে। apt-xapian-index প্যাকেজটি প্যাকেজ ইনডেক্সের ডাটাবেসে সংরক্ষন করে এবং প্রয়োজনে দ্রুততর সময়ে কোন প্যাকেজ খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। policykit-1-gnome প্যাকেজটি বিভিন্ন প্যাকেজের পলিসির কনফিগ গুলোর কাঠামো তৈরি করার কাজটি করে থাকে।


প্যাকেজ গুলো ইন্সটল করতে টার্মিনাল চালু করে তাতে লিখুন-
 $ sudo apt install -y synaptic apt-xapian-index policykit-1-gnome

এরপর আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করে আবার এন্টার চাপুন। এরপর প্যাকেজগুলো ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


৭) ফায়ারওয়াল ইন্সটল ও তা সচল করাঃ

    লিনাক্সের জন্যে চমৎকার একটি ফায়ারওয়াল প্রোগ্রাম হলো Uncomplicated Firewall বা ufw। এটি ইন্টারনেট এবং আপনার হার্ডওয়্যারের মধ্যকার একটি সুরক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। ufw ইন্সটল করার জন্যে টার্মিনাল চালু করে তাতে লিখুন-

 $ sudo apt install -y ufw

এরপর আপনার পাসওয়ার্ড দিয়ে প্যাকেজ ইন্সটল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

প্যাকেজ ইন্সটল হয়ে গেলে ফায়ারওয়াল সচল করার জন্যে টার্মিনালে লিখুন-

 $ sudo ufw enable

মুহুর্তের মধ্যেই ফায়ারওয়ালটি সচল হয়ে যাবে। এখন ফায়ারওয়ালটি সচল অবস্থা পরীক্ষা করার জন্যে টার্মিনালে  লিখুন-

 $ sudo ufw status verbose

কমান্ড টাইপ করে এন্টার প্রেস করলে এমন আউটপুট দেখা যাবে-


এখানে লক্ষ্য করুন Status: active রয়েছে। এর মানে ফায়ারওয়ালটি সচল রয়েছে। যদি ফায়ারওয়াল সচল না থাকতো তাহলে এখানে Status: inactive লেখা আউটপুট আসতো।


৮) বুট টাইমকে তরান্বিত করাঃ

     প্রতিবার সিস্টেম চালু করার সময় Grub লোডারে ৫ সেকেন্ড করে অপেক্ষা করতে হয়। অবশ্য আপনি যদি ডুয়েল বুটে উইন্ডোজ এবং লিনাক্স ২টি অপারেটিং সিস্টেমই চালিয়ে থাকেন তাহলে এই অপেক্ষাটা অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয়। তবুও ৫ সেকেন্ড করে অপেক্ষাটা কারও কারও কাছে একটু বেশি মনে হতে পারে। আমরা এখন এই ৫ সেকেন্ডের অপেক্ষাটা ২ সেকেন্ডে কমিয়ে নিয়ে আসবো। তো চলুন করে ফেলা যাক।

প্রথমে টার্মিনালে চালু করে তাতে টাইপ করে এন্টার চাপুন-

 $ sudo nano /etc/default/grub

পাসওয়ার্ড দিয়ে এন্টার দিলেই grub কনফিগারেশন ফাইলটি nano এডিটরে চালু হয়ে যাবে। এখন কনফিগ ফাইলটি থেকে GRUB_TIMEOUT=5 লাইনটি খুজে বের করুন। এখন 5 এর স্থানে 2 লিখুন, অথবা আপনার সুবিধামত সময় নির্ধারণ করুন। মনে রাখবেন, এখানে সময়টা সেকেন্ডের হিসেবে লিখতে হবে। পরিবর্তনের পর কনফিগ ফাইলটি দেখতে এমন হবে-


এখন কিবোর্ড থেকে প্রথমে Ctrl+O একত্রে চেপে এন্টার দিয়ে পরিবর্তন গুলো ফাইলে সেভ করুন। তারপর Ctrl+X চেপে nano এডিটরটি বন্ধ করুন। এরপর টার্মিনালে নিচের কমান্ডটি লিখে এন্টার প্রেস করুন-

 $ sudo update-grub

grub আপডেট কমপ্লিট হলে টার্মিনাল বন্ধ করে সিস্টেম রিস্টার্ট দিয়ে পরিবর্তনটুকু চেক করে আসুন।


৯) lightDM কে একটু টুইকঃ

    lightDM ডিসপ্লে ম্যানেজারটি xfce ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্টের ডিফল্ট লগইন ম্যানেজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু ডেবিয়ানে লগইন স্ক্রিনে এসে প্রতিবার username এবং password দিয়ে তারপর লগইন করতে হয়। এখন আমরা চাচ্ছি লগইন স্ক্রিনে username আগে থেকেই সয়ংক্রিয় লেখা থাকবে, আমরা শুধু পাসওয়ার্ডটা টাইপ করে লগইন করবো। চলুন করে ফেলা যাক কাজটুকু।
টার্মিনাল চালু করে প্রথমে এই কমান্ডটি লিখে এন্টার প্রেস করুন-

 $ sudo nano /usr/share/lightdm/lightdm.conf.d/01_my.conf

তারপর আপনার পাসওয়ার্ড চাইলে পুনরায় সেটি দিয়ে আবার এন্টার চাপুন। কনফিগ ফাইলটি চালু হবে। প্রাথমিক অবস্থায় ফাইলটিতে কোন কিছু লেখা নাও থাকতে পারে। আপনি এখানে নিচে দেয়া কনফিগ কমান্ড লিখুন-

[SeatDefaults]
greeter-hide-users=false


এখন কিবোর্ড থেকে প্রথমে Ctrl+O একত্রে চেপে এন্টার দিয়ে পরিবর্তন গুলো ফাইলে সেভ করুন। তারপর Ctrl+X চেপে nano এডিটরটি বন্ধ করুন। এরপর লগ-আউট হয়ে নতুন করে লগইন করুন। তারপর থেকে লগইনের সময় আপনাকে আর আপনার username-টি লিখতে হবে না, সেটি পূর্বে থেকেই লগইন ম্যানেজারে লিখা থাকবে।


১০) Restricted-extras প্যাকেজ সমূহ ইন্সটল করাঃ

    অডিও কিংবা ভিডিও প্লে করার জন্যে আমাদের কিছু কোডেক প্রয়োজন। কিন্তু কোডেক গুলো মুক্ত লইসেন্সের আলতাভুক্ত না হবার কারণে এদের সরাসরি ডেবিয়ান ডিস্ট্রোতে সরবরাহ করা হয় না, আপনাকে মেনুয়াললি সেসব ইন্সটল করে নিতে হবে।

Restricted-extras প্যাকেজ ইন্সটল করবার জন্যে প্রথমে টার্মিনালে গিয়ে লিখুন-

 $ sudo apt install -y ttf-mscorefonts-installer rar unrar libavcodec-extra gstreamer1.0-libav gstreamer1.0-plugins-ugly gstreamer1.0-vaapi

তারপর আপনার পাসওয়ার্ড চাইলে পুনরায় সেটি দিয়ে আবার এন্টার চাপুন। ইন্সটল শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


১১) বাংলা ফন্ট সমূহ ইন্সটল এবং সিস্টেমওয়াইড বাংলা ফন্ট কনফিগ করাঃ

    ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা ফন্ট সমূহ আপনার সিস্টেমে ইন্সটল করার জন্যে নিচের কমান্ডটি আপনার টার্মিনালে লিখে এন্টার চাপুন-

 $ sudo cd /tmp;wget --no-check-certificate https://github.com/r-not/unibnfonts/archive/master.tar.gz -O ubf.tar.gz;sudo tar -xvf ubf.tar.gz -C /usr/share/fonts/;rm ubf.tar.gz

এরপর আপনার পাসওয়ার্ডটি দিয়ে পুনরায় এন্টার চাপুন। সয়ংক্রিয়ভাবে ইউনিকোড বাংলা ফন্ট গুলো ইন্সটল হয়ে যাবে।

এখন সিস্টেমওয়াইড ঝকঝকে বাংলা দেখার জন্যে নিচের পদ্ধতিটি ফলো করুন-

  • প্রথমে আপনার হোম ডিরেক্টরির .config ফোল্ডারে প্রবেশ করুন। এরপর fontconfig ডাইরেক্টরিটি খুজে বের করুন। যদি পূর্বে থেকে fontconfig ডাইরেক্টরিটি না থেকে থাকে তাহলে সেটি তৈরি করে নিন। fontconfig ডাইরেক্টরিটি তৈরি করতে টার্মিনালে ধারাবাহিক ভাবে নিচের কমান্ডগুলো লিখুন-
         $ cd .config
         $ mkdir fontconfig
         $ cd fontconfig


  • এরপর fontconfig ডিরেক্টরিতে fonts.conf নামে একটি ফাইল তৈরি করুন। fonts.conf তৈরি করতে লিখুন-
 
        $ touch fonts.conf

  • এরপর nano এডিটরে ফাইলটি চালু করুন। nano এডিটর দিয়ে ফাইলটি চালু করার জন্যে টার্মিনালে লিখুন-
            $ nano fonts.conf

  • পূর্বে থেকে কনফিগ ফাইলে কিছু লিখা থাকলে ডাওন এ্যারো-কী চেপে ফাইলটির একদম শেষে চলে আসুন। তারপর নিচে উল্লেখিত কোড কিংবা এই লিংক থেকে প্রাপ্ত কোড গুলি fonts.conf ফাইলের একদম শেষে গিয়ে পেস্ট করে দিন।
<?xml version="1.0"?>
<!DOCTYPE fontconfig SYSTEM "fonts.dtd">
<fontconfig>
    <match target="font">
        <edit mode="assign" name="hinting" >
            <bool>true</bool>
        </edit>
        <edit mode="assign" name="autohint" >
            <bool>true</bool>
        </edit>
        <edit mode="assign" name="hintstyle" >
            <const>hintslight</const>
        </edit>
        <edit mode="assign" name="rgba" >
            <const>rgb</const>
        </edit>
        <edit mode="assign" name="antialias" >
            <bool>true</bool>
        </edit>
        <edit mode="assign" name="lcdfilter">
            <const>lcddefault</const>
        </edit>
    </match>

<!-- Set preferred serif, sans serif, and monospace fonts. →
    <alias>
        <family>serif</family>
        <prefer>
            <family>Kalpurush</family>
        </prefer>
    </alias>
    <alias>
        <family>sans-serif</family>
        <prefer>
            <family>Kalpurush</family>
        </prefer>
    </alias>
    <alias>
        <family>sans</family>
        <prefer>
            <family>Kalpurush</family>
        </prefer>
    </alias>
    <alias>
        <family>monospace</family>
        <prefer>
            <family>Kalpurush</family>
        </prefer>
    </alias>
    <alias>
        <family>mono</family>
        <prefer>
            <family>Kalpurush</family>
        </prefer>
    </alias>

</fontconfig>
 


fonts.conf

এখন কিবোর্ড থেকে প্রথমে Ctrl+O একত্রে চেপে এন্টার দিয়ে পরিবর্তন গুলো ফাইলে সেভ করুন। তারপর Ctrl+X চেপে nano এডিটরটি বন্ধ করুন। এরপর লগ-আউট হয়ে নতুন করে লগইন করুন।
আপনি চাইলে  fonts.conf ফাইলটি এখান থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন।


১২) প্রয়োজনীয় কিছু প্যাকেজ ইন্সটল করাঃ

    এখন আমরা নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু প্যাকেজ ইন্সটল করবো। সিস্টেম ব্লোটিং এর চিন্তা করলে কিংবা মিনিলাম সিস্টেমে একদম আপনার পছন্দসই প্যাকেজ ইন্সটল করার কথা ভাবলে করলে এই ধাপটি আপনি ইচ্ছা হলে স্কিপ করতে পারেন। কিন্তু যারা প্রয়োজনীয় সফটও্যার গুলো সিস্টেমে ইন্সটল করে রাখতে চান তারা ধাপটি ফলো করুন।

প্রথমে টার্মিনাল চালু করে নিচের কমান্ডটি কপি-পেস্ট করে এন্টার চাপুন-

 $ sudo apt install -y xfce4-taskmanager xfce4-power-manager xfce4-terminal xfce4-xkb-plugin xfce4-screenshooter xfce4-clipman xfce4-panel-dev thunar-archive-plugin mousepad ristretto network-manager-gnome network-manager xserver-xorg-input-synaptics rsync debian-keyring gnome-disk-utility gparted p7zip-full p7zip unzip xarchiver build-essential libreoffice libreoffice-impress libreoffice-writer libreoffice-calc mythes-en-us hunspell hunspell-en-us aspell aspell-en fonts-noto-mono fonts-dejavu-extra ttf-dejavu fonts-liberation ttf-bitstream-vera fonts-dejavu fonts-droid-fallback ttf-dejavu-extra fonts-freefont-ttf ttf-mscorefonts-installer ttf-dejavu-core fonts-opensymbol vlc audacious mplayer mpv pavucontrol qpdfview bleachbit menulibre gimp gimp-data gimp-data-extras gimp-gmic gimp-gutenprint gimp-plugin-registry gimp-ufraw flameshot arc-theme faenza-icon-theme

 
 
 
আপাতত এখানেই ইতি টানছি। লেখায় কিছু ভুল থাকা স্বাভাবিক। নজরে পড়লে সংশোধনের চেষ্টা থাকবে। তাছাড়া আমিও মোটামুটি লিনাক্সে নতুন ইউজারদের একজন। তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে কেউ যদি তা দয়া করে অবহিত করেন, তাহলে সেটিও সুধরে নেবার চেষ্টা করবো।

Debian XFCE desktop


ডেবিয়ান লিনাক্সের সাথে আপনার পথচলা হোক আনন্দময়।

শুক্রবার, আগস্ট ০৯, ২০১৯

লিনাক্স মিন্ট ১৯.২ ‘টিনা’ – ফিচারপূর্ণ আরো একটি রিলিজ


লিনাক্সের স্ট্যাবল ডিস্ট্রো গুলোর তালিকা করলে যে নামটি শুরুর দিকে আসবে তার একটি হচ্ছে ‘লিনাক্স মিন্ট’। মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমের স্বাদ নিতে যে কয়েকটি ডিস্ট্রোর সাজেশন মানুষ দিয়ে থাকে, সেখানেও একটা সম্মানজনক অবস্থান গড়ে নিয়েছে এই ‘লিনাক্স মিন্ট’। সাধারণ ব্যবহারকারীর ডেস্কটপ থেকে শুরু করে মধ্যম মানের ব্যবহারকারী কিংবা একজন ডেভেলপারের জন্যে জুতসই একটা অপারেটিং সিস্টেম চিন্তা করলেও ‘লিনাক্স মিন্ট’-কে তালিকাতে রাখতেই হয়।

যদিও লিনাক্স মিন্ট সরাসরি লিনাক্সের কোর লেভেল থেকে ডেভেলপ হয় না। আরেকটি লিনাক্সের ডিস্ট্রিবিউশন ‘উবুন্টু’ থেকে এটি ডেভেলপ করা হয়ে থাকে। অবশ্য এর আরও শাখা একটি ডিস্ট্রিবিউশন আছে, যা সরাসরি ডেবিয়ান থেকে ডেভেলপ করা হয়। তবে জনপ্রিয়তার এগিয়ে আছে উবুন্টু হতে ডেভেলপ করা ডিস্ট্রোটি।

লিনাক্স মিন্ট – সিনামন ডেক্সটপ পরিবেশ
লিনাক্স মিন্টের আরও রয়েছে আকর্ষণীয় একটি ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট, যা ‘সিনামন’ নামে পরিচিত। লিনাক্স মিন্টের তত্বাবধায়নেই এই ডেক্সটপ পরিবেশ বা এনভারনমেন্টটি ডেভেলপ হয়ে থাকে। আর সত্যি বলতে লিনাক্স মিন্ট ব্যবহারের আসল স্বাদ আসলে সিনামন ডেক্সটপ পরিবেশেই পাওয়া যায়। যদিও মিন্টের অফিসিয়াল আরও দুইটি ডেক্সটপ পরিবেশ রয়েছে।

যাই হোক, লিনাক্স মিন্টের পরিচয় আপাতত এখানেই ইতি টানছি। পরে কোন এক সময় লিনাক্স কিংবা লিনাক্স মিন্ট নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে(অনিশ্চিত)। আপাতত চলে যাচ্ছি এর নতুন রিলিজ ‘টিনা’-র (Tina) বন্দনায়।

যদিও ডেভেলপার লোকজনকে মানুষ কাঠখোট্টা হিসেবেই চেনে। তারপরও লিনাক্স মিন্ট এর ডেভেলপারদের সেই ক্যাটাগরিতে ফেলে দেয়া সম্ভব না। তারা দারুণ রস-কস যুক্ত ডেভেলপার, তাই তো প্রতিটা ডিস্ট্রিবিউশনের নামকরণে তারা কোন না কোন একটা মেয়ের নামে ব্যবহার করে থাকে (ডেভ গুলু মনে হয় একটু ইয়ে। এদের মাথা শুধু মেয়েদের চিন্তায় বিভোর থাকে। তাই প্রতি রিলিজই এরা মেয়েদের নামে উৎসর্গ করে 😜 )।
    
 
    
 

নতুন কি পেলাম ‘টিনা’র নামে?

পর্ব অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলতে হয় তবে বলবো- লিনাক্স মিন্ট প্রতি রিলিজেই আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রত্যেকটি রিলিজ ছিলো এর পূর্বেরটির তুলনায় আরও উন্নত, আরও শক্তিশালী। মিন্ট যেন প্রতি রিজিলেই তার পূর্বের রিলিজকে টক্কর দিয়ে ডেভেলপ করে থাকে। এছাড়া নতুন এই রিলিজ মানে ১৯.২ সংস্করণটি অফিসিয়াল সাপোর্ট পাবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। সে হিসেবে যারা লং টার্মে একটি ডিস্ট্রোতে থাকতে চান, তারা অবশ্যই এটিকে নিজ নিজ তালিকায় রাখতে পারেন।

» উন্নত আপডেট ম্যানেজার

নতুন রিলিজের যে দুটো ব্যাপার আমার দারুণ ভালো লেগেছে তার মধ্যে একটি এই আপডেট ম্যানেজার। পূর্বের রিলিজ গুলোতে একটি নির্দিষ্ট কার্নেলের উপর ভিত্তি করে একে তৈরি এবং রিলিজ করা হতো। পরবর্তী রিলিজে কার্নেল আপডেট হবার আগ পর্যন্ত ঐ একই কার্নেল ব্যবহার করতে হতো। অন্যথায় নিজেকে পুরো কার্নেল কম্পাইল/বিল্ড করে ব্যবহার করা লাগতো। অনেকের জন্যে হয়তো এটি তেমন বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু যারা নতুন কার্নেলসের সুবিধা আদায় করতে চায় তাদের কাছে এতদিন বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল এই সমস্যাটি। এখন চাইলে যে কেউ খুব সহজেই নতুন কার্ণেলটি আপডেট ম্যানেজার ব্যবহার করে ইন্সটল ও ব্যবহার করতে পারবে।

আপডেট ম্যানেজারের আরও একটা নতুন ফিচার ‘ব্লাকলিস্ট’। যারা লিনাক্স ব্যবহার করেছেন তারা সবাই লিনাক্সের সফটওয়্যার রিপো অথবা সফটওয়্যার ম্যানেজারের সাথে পরিচিত। যখন কেউ পুরো সিস্টেমটি আপডেট দেয় তখন সিস্টেমে ইন্সটল করা সকল সফটওয়্যারও একই সাথে আপডেট হয়ে যায়। কিন্তু এতে অনেক সময় কিছু কিছু সফটওয়্যার কম্পাবিলিটি ইস্যুতে পড়ে ইউজারকে নাজেহাল করে। ধরুন আপনি Darktable এর ২.৬.১ ভার্সনটি ব্যবহার করছিলেন। এর মধ্যেই এটির ২.৬.২ ভার্সন আসলো। কিন্তু তাতে কোন একটা বাগ বা সমস্যা থাকায় কাজের সমস্যা হচ্ছিলো। তাই আপনি আপডেট ভার্সনটি বাদ দিয়ে পুনরায় ২.৬.১ এ ফিরে গেলেন। কিন্তু যখন পুরো সিস্টেমটি আপডেট করতে দিবেন তখন Darktable পুনরায় আপডেট হয়ে ২.৬.২ তে আপডেট হয়ে গেলো।

এই সমস্যাটিরই সমাধান এসেছে এই নতুন আপডেট ম্যানেজারে। এখন আপনি চাইলে কোন একটা প্যাকেজ বা সফটওয়্যারের নির্দিষ্ট কোন ভার্সনকে ইচ্ছে হলে আপডেট হতে বাধা দিতে পারবেন এই ব্লাক লিস্ট ফিচার ব্যবহার করে।

তাছাড়া আপডেট ম্যানেজারকে আপডেট করার জন্যেও নতুন একটা ইন্টারফেস তৈরি করা হয়েছে!

» কার্যকর ‘রেসপন্স টাইম’

আপনি যদি লিনাক্স মিন্ট ১৯.১ ব্যবহার করে থাকেন আর, এখন ১৯.২ ব্যবহার করতে বসেন তাহলে এই ব্যাপারটি আপনার নজরে আসবেই। নতুন রিলিজে মিন্টের রেসপন্স টাইম অনেকটাই ইফেক্টিভ হয়েছে। আগের তুলনায় সফটওয়্যার লোড কিংবা সফটওয়্যার গুলো আরও দ্রুত গতি সম্পন্ন হয়েছে। এটা এই রিলিজের আরও একটি বিশাল প্লাস পয়েন্ট হিসেবে আমি ধরেছি।

» সফটওয়্যার সনাক্তকরণ পদ্ধতি

লিনাক্স মিন্ট -এ সফটওয়্যার সেন্টার থেকে সরাসরি এ্যাপ ইন্সটল করার পাশাপাশি ফ্লাট এ্যাপ গুলো ইন্সটল করার সুবিধা রয়েছে। লিনাক্স মিন্ট এর বিল্ট-ইন সফটওয়্যার ম্যানেজার হতে সরাসরি মূল এ্যাপ এবং সেই একই এ্যাপের ফ্লাটপ্যাক এ্যাপ ইন্সটল ও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মিন্ট-মেন্যুতে আগে এই দুটো গ্যাটাগরির এ্যাপ আলাদা করা যেতো না। কিন্তু বর্তমান রিলিজে ফ্লাট এ্যাপ গুলোকে এক ধরণের রঙ্গে রাঙ্গানো হয়, আর অর্গানিক এ্যাপ গুলো তার নিয়মিত ঢং-এই থাকে। তাছাড়া ফ্লাট এ্যাপ গুলোর নামের সাথেই ফ্লাটপ্যাক লিখা থাকে। তাই ফ্লাটপ্যাক এ্যাপ আর অর্গানিক এ্যাপ নিয়ে এখন আর তেমন জটিলতা পোহাতে হবে না। এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেজের জেনারিক নামও এখন মিন্ট মেন্যুতে আলাদা করেই দেখানো হবে।

» লাইভ মুডেই থাকছে বুট রিপেয়ার


পূর্ববর্তী লাইভ মুড থেকে বুট রিপেয়ার করাটা দারুণ ঝামেলাপূর্ণ ছিলো। সেই ঝামেলা এই রিলিজে সমাপ্ত হলো। নতুন এই রিলিজ ‘টিনা’র লাইভ মুডেই এখন দেয়া হয়েছে বুট রিপেয়ার সফটওয়্যারটি। যারা ডুয়েল বুটে লিনাক্স চালাচ্ছেন তাদের যে কত বড় উপকার হয়েছে এই ফিচারটি যুক্ত হওয়ায় তা বোধ করি আলাদা করে আর বলার অপেক্ষায় থাকে না।


» ডুপ্লিকেট সোর্স রিমোভ অপশন

যারা অতিরিক্ত রেপো থেকে প্যাকেজ/সফটওয়্যার ইন্সটল করে থাকেন তাদের জন্যে এই সুবিধাটি দারুণ কাজের হবে। এবারে কোন রেপো একের অধিকবার যুক্ত হলে কিংবা রেপো ডুপ্লিকেট হবার কারণে আপডেটে ঝামেলা হলে খুব সহজেই সোর্স কনফিগার অপশন থেকে ডুপ্লিকেট রেপো গুলো রিমুভ করার সুযোগ পাবেন।

» গোছানো সিস্টেম রিপোর্ট

নতুন রিলিজ টিনার সাথে আসছে নতুন করে ডিজাইন করা সিস্টেম রিপোর্ট। পূর্বের তুলনায় এটি বেশ গোছানো সিস্টেম রিপোর্ট ভিউ তৈরি করা হয়েছে। অন্তত এখন দেখে কিছুটা মনে হয় সিস্টেম রিপোর্টটা আসলে মানুষের পড়ার যোগ্য কিছু একটা জিনিষ।

আরও আপডেট হয়েছে সিস্টেমের আর্টওয়ার্ক। অবশ্য এটা বরাবরই আমার কাছে বোনাস বলেই মনে হয়।




লিনাক্স মিন্ট ১৯.২ ‘টিনা’-র জন্য আবশ্যক হার্ডওয়্যার

  • অন্তত ১ গিগাবাইট র‍্যাম (২ গিগাবাইট র‍্যাম হলে মোটামুটি পর্যায়ে চালানো সম্ভব)
  • ইন্সটল করার জন্যে ১৫ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস (২০ গিগাবাইট হলে ভালো হবে)
  • ১০২৪×৭৬৮ রেজ্যুলুশনের ডিসপ্লে সিস্টেম


ডাওনলোড

নতুন রিলিজটি অফিসিয়াল ISO ইমেজটি এই লিংক থেকে সংগ্রহ করা যাবে। তবে আপনি যদি বাংলাদেশে অবস্থান করেন, আর আপনার যদি একটি ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকে, তাহলে ঢাকাকম লিমিটেড বা জিওনবিডি উচ্চগতির-সার্ভার থেকেও নতুন রিলিজটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আর আপনি যদি লিনাক্স মিন্টের পুরাতন রিলিজ হতে নতুন রিলিজে আপগ্রেড করাতে চান, তাহলে অফিসিয়াল এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করে দেখুন।







আপাতত এতটুকুই। এক রাতে এই জিনিষ গুলোই ডিসকোভার করলাম লাইভ মুডে। তবে কথা হচ্ছে কোন রিলিজই একদম সয়ংসম্পূর্ণ রিলিজ হবে না, এটিও নয়। এখনও কোন কোন ব্যাপারে এই রিলিজটি সমস্যা করতে পারে। কোন কারণে আপনার কাঙ্খিত আউটপুট হয়তো পেতে ব্যর্থ হতে পারেন। সেক্ষেত্রে সিস্টেম রিপোর্ট খুবই কার্যকরী একটি পদ্ধতি। এতে পরবর্তী আপডেটে এটি ফিক্স হবার সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায়। কেউ যদি সত্যিই নতুন ডিস্ট্রো কিংবা লিনাক্স সম্পর্কে ধারণা পেতে চান তাহলে অবশ্যই লিনাক্স মিন্ট একটি আদর্শ ডিস্ট্রো। তবে আমার পরামর্শ থাকবে- হুট করে সিস্টেমে ইন্সটল করার আগে তা লাইভ মুডে ব্যবহার করে দেখুন। এরপর মোটামুটি একটা ধারণা হয়ে গেলে সাহস করে সিস্টেমে ইন্সটল করে দেখতে পারেন।

 
 
 
 
 
    

Creative Commons License 
লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্‌স এর CC BY-NC-SA 4.0 আন্তর্জাতিক লাইসেন্স এর আলতায় প্রকাশিত।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৮, ২০১৯

লেখার ফরম্যাট নষ্ট না করেই ব্লগে লেখা কপি-পেস্ট করা


ব্লগে একটা লেখা পড়ছিলাম। লেখার কন্টেন্ট চমৎকার হলেও লেখাটা পড়ার সময় বিরক্ত বোধ হচ্ছিলো। আর বিরক্তির উৎপত্তি করছিলো ব্লগের বডিতে থাকা অক্ষরগুলোর বিন্যাস আর অবস্থা দেখে। যারা ব্লগ লিখেন কিংবা ব্লগ পড়েন তাদের অনেকের অনেকেই এই ব্যাপারটি লক্ষ করেছেন। কিছু কিছু ব্লগে কোন একটা লেখা পড়তে গেলে দেখা বাকি সব লেখার তুলনায় এই লেখাটির অক্ষরগুলো বেশ ছোট বা কিম্ভুতকিমাকার আকৃতির। আবার অন্য সকল লেখা ঝকঝকে-তকতকে হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি লেখা কেমন যেন এলোমেলো। মাঝ থেকে লাইন ভাঙ্গা, কিংবা লাইনের মাঝে হঠাৎই বিশাল আকারের গ্যাপ। তা ছাড়া আরও একটা বড় সমস্যা হলো লেখার ব্যাকগ্রাউন্ড কালার(রঙ)। দেখা যায় বাকি সকল লেখার পেছনে ব্লগের যে সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মেইনটেইন করছিল, এই লেখাটির বেলায় তেমন না। লেখাটির পেছনে ভিন্ন রকমের রঙ এর জন্যে দেখতে বিচ্ছিরি লাগছে, বিরক্তির উদ্রেক হচ্ছে।

মূলত অবস্থা হয় যখন কেউ কোন একটা লেখা কোথাও থেকে কপি করে সরাসরি ব্লগে পোষ্ট করে। আমাদের মাঝে অনেকেই নিজেদের ড্রাফট লেখা গুলো কোন একটা ওয়ার্ড প্রসেসর যেমন মাইক্রসফট ওয়ার্ড, লিব্রে অফিস রাইটার, ওপেন অফিস রাইটার কিংবা কোরাল ওয়ার্ড পার্ফেক্ট সহ ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ড প্রসেসর প্রোগ্রামে লিখে সংরক্ষণ করে থাকেন। আর ব্লগে পোষ্ট করবার সময় সেখান থেকে কপি করে ব্লগের টেক্সট ইনপুট বডিতে পেস্ট করে দেন।

আবার অনেকেই রয়েছে যারা বেশ কয়েকটি ব্লগ মেইনটেইন করে। একাধিক ব্লগে লেখালেখির সময় যে কোন একটি ব্লগে প্রথমে লেখাটি সাজিয়ে তারপর বাকি ব্লগ গুলোতে সরাসরি ঐ সাজানো লেখাটি কপি-পেস্ট করে পোষ্ট করে থাকেন।

এরকম পরিস্থিতি গুলোতে ব্লগের নিয়মিত ভঙ্গি (স্টাইল) বাদ দিয়ে লেখা গুলো ভিন্ন রকম ভঙ্গিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙ ভিন্ন রকম কিংবা লেখাটির বর্ণের আকারগত সমস্যা। কিংবা লেখাটি যেভাবে প্যারাগ্রাফ আকারে দেখানোর কথা তা সেভাবে না দেখিয়ে অযথাই মাঝ থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেখাচ্ছে।

আর এমন হবার কারণ ঐ দুষ্ট ‘কপি-পেস্ট’ নামক ফিচারটির। মূলত ওয়ার্ড-প্রসেসর কিংবা ফরম্যাটেড কোন টেক্সট বা ইলিমেন্ট যখন আমরা কপি করি তখন শুধুমাত্র ঐ ইলিমেন্ট বা লেখা গুলো কপি না হয়ে লেখাটি যে ভঙ্গিমাতে (স্টাইলে) লেখা আছে ঐ ভঙ্গীমা সহকারে আমাদের সিস্টেম (ডেক্সপট, ল্যাপটপ, কিংবা স্মার্টফোন) কপি করে নেয়। আর যখন আমরা তা কোথাও পেষ্ট করি তখন সরাসরি লেখাগুলো ঐ ভঙ্গিমা সহকারে পেস্ট করে ফেলে।

মূলত এটি আধুনিক কম্পিউটিং এর একটি ফিচার। যারা প্রকাশনার কাজ করেন কিংবা ওয়ার্ড প্রসেসিং এ একই ধরণের কাজ যেখানে বার বার করে করতে হয় (যেমন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নামে সনদপত্র ছাপানো, জন্মনিবন্ধন, অফিসের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে কাজ করা, অথবা একই স্টাইল মেইনটেইন করে এসাইনমেন্ট করা) সেই সব ক্ষেত্রে লেখার এই ভঙ্গি সহ পেস্ট করার ব্যাপারটি একটি ফিচার হিসেবে কাজ করে থাকে।

কিন্তু আপনি চাইলে এই ফিচারটি ব্যবহার না করেও শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কন্টেন্ট বা লেখা ব্লগে ‘কপি-পেস্ট’ করতে পারবেন। আর এটি করার দু’টি উপায় রয়েছে। আসুন উপায় গুলো জেনে নেয়া যাক-






সহজ কার্যকর পদ্ধতি

  • যে সোর্স হতে লেখাটি কপি করবেন তার সম্পূর্ণ কন্টেন্ট টুকু প্রথমে সিলেক্ট করুন। এরপর তার উপর মাউসের রাইট ক্লিক করে কপি করুন অথবা কিবোর্ড হতে Ctrl + C চাপুন।
  • এরপর যেখানে আপনার লেখাটি পেষ্ট করতে চান সেখানে টেক্সট ইনপুট নেবার জায়গায় ক্লক করে কিবোর্ড হতে Ctrl + Shift + V একত্রে চাপুন।দেখবেন লেখার ফরম্যাট কপি না হয়ে সরাসরি যে লেখাগুলো সিলেক্ট করেছেন তা প্লেইন টেক্সট হিসেবে চলে এসেছে।





ব্লগে (ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে নির্মিত ব্লগ) কপি-পেস্ট করার পদ্ধতি

উপরে বর্ণিত পদ্ধতি ব্যবহার করেও আপনি ওয়ার্ডপ্রেস নির্ভর ব্লগে কপি-পেস্ট করতে পারবেন। কিন্তু শুধুমাত্র ওয়ার্ডপ্রেস তাদের ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে তাদের এডিটরে অতিরিক্ত একটি ফিচার যুক্ত করে দিয়েছে। 
  • আপনার ব্লগ একাউন্টে লগইন করে ‘নতুন ব্লগ লিখুন’ বা ‘নতুন এ্যাড করুন’ লেখাটিতে ক্লিক করুন। কিছুক্ষনের মধ্যেই ওয়ার্ডপ্রেস এডিটর চালু হয়ে যাবে।
  • এখন ওয়ার্ডপ্রেস এডিটরের ভিজ্যুয়াল মুড এর টুলসেট থেকে ‘Paste as text’ বা বোর্ডের মধ্যে ইংরেজী T বর্ন লেখা আইকনটিতে ক্লিক করুন।

    এতে স্ক্রিনে একটি মেসেজ দেখা যাবে। যেখানে লেখা থাকবে-
    পেস্ট এখন প্লেইন টেক্সট মোডে আছে। সবকিছু এখন প্লেইন টেক্সড মোডে পেস্ট হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি এই আপশনটি টগল করে বন্ধ করেন। If you’re looking to paste rich content from Microsoft Word, try turning this option off. The editor will clean up text pasted from Word automatically.
      
  • ডিসপ্লে বক্সটির ক্রসে ক্লিক করে আপনি আপনার এডিটরে ক্লিক করুন। এরপর সোর্স ফাইল থেকে টেক্স বা যা কপি করা প্রয়োজন তা কপি করে এডিটরের এই লেখার বক্সে সাধারণ নিয়মে পেস্ট করে দিন।এতে কেবলমাত্র আপনার কপিকৃত সোর্স হতে শুধুমাত্র টেক্সট কপি হয়ে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস এডিটরে পেস্ট হবে।
      
  • এরপর পেস্ট করা শেষে পুনরায় ঐ বোর্ডের উপর ইংরেজী T অঙ্কিত আইকনে ক্লিক করে ফিচারটি বন্ধ করে নিন।



উপরে বর্ণিত যে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে যে কোন সোর্স থেকে আপনি আপনার পছন্দসই লেখা খুব সহজেই ঝামেলা এড়িয়ে আপনার ব্লগে কপি-পেস্ট করতে পারবেন। এতে ব্লগে আপনার লেখার গঠন এবং সৌন্দর্য উভয়ই তার নিয়মিত ভঙ্গি (স্টাইল) অনুসরণ করবে। আর আপনার লেখাটি পড়বার সময় ব্লগ পাঠকেরও এধরণের সমস্যা নিয়ে কোন বিরক্তির উদ্রেক ঘটবে না।
  
  
  

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অপরের লেখা নিজের ব্লগে কপি-পেস্ট বা আরও সহজ করে বললে চুরি করা থেকে বিরত থাকুন। ব্লগের প্রতিটি লেখা বা কন্টেন্টই লেখকের মেধাস্বত্ত সম্পত্তি। একান্তই যদি কারও লেখা নিজের ব্লগে প্রকাশ করতে হয় তবে লেখাটি প্রকাশের পূর্বেই লেখকের কাছে অনুমতি আদায় করে নিন। অন্যথায় লেখক প্রয়োজন অনুভব করলে আপনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল এক্ট এর আলতায় আইন-আনুগ ব্যবহস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তাতে আপনার ও ব্লগের উপভয়ের সম্মানই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

 
 
 
 
   
 
  




Creative Commons License 
লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্‌স এর CC BY-NC-SA 4.0 আন্তর্জাতিক লাইসেন্স এর আলতায় প্রকাশিত।

মঙ্গলবার, আগস্ট ০৬, ২০১৯

ঝামেলা ছাড়াই বড় ফাইল গুলো পাঠিয়ে দিন তার গন্তব্যে

ইন্টারনেটে কাউকে কোন কিছু পাঠাবার সবচেয়ে জনপ্রিয় আর গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো ইলেকট্রনিক মেইল ওরফে ই-মেইল। এখনো জরুরী যে কোন জিনিষেরই আদান প্রদাণ হয় এই ই-মেইল মাধ্যমে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ই-মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ফাইল সাইজের লিমিট। অধিকংশ মেইল প্রোভাইডর মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে ২০ মেগাবাইট থেকে ১০০ মেগাবাইট পর্যন্ত সাইজের ফাইল পাঠাবার সুযোগ দিয়ে থাকে। এর চেয়ে বড় সাইজের ফাইল হলে তখন বিপাকে পড়তে হয়।

আবার অধিকাংশ ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে ফাইল প্রেরণের পূর্বে তাদের সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। অনেক সময় এই বাড়তি ঝামেলাটা পোহাতে ইচ্ছে হয় না।

আর এই সমস্যা গুলো থেকে উত্তরণের জন্যে আজকের এই লেখাটি। এখানে এমন কয়েকটি ফাইল-শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো ব্যবহারের জন্যে আপনাকে কোন ধরণের সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে না। প্রয়োজন হবে না কোন ধরণের বাড়তি রেজিস্ট্রেশনের। আর সার্ভিস ভেদে আপনি ১ গিগাবাইট থেকে ৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আদান-প্রদাণ করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে।

তো চলুন ঝটপট এমন কিছু সার্ভিস দেখে নেয়া যাক!


Firefox Send

মোজিলা ফায়ারফক্স এর একটি অতিরিক্ত সুবিধা এই Firefox Send। এই সুবিধাটি ব্যবহার করে আপনি যে কোন ধরণের ফাইল অতি সহজেই আদান প্রদান করতে পারবেন। Firefox Send ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে আপনার ফাইলটি দ্রুততর সময়ের মধ্যে আদান-প্রদাণ করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ২.৫ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের সময় হতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭ দিন পর্যন্ত।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ ১ হতে ১০০ সংখ্যক নির্ধারিত করে দেয়া ডাওনলোড।

We Transfer

২০০৯ সাল থেকে We Transfer তাদের এই সেবাটি প্রদাণ করে আসছে। সহজে কোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সরাসরি আপনি আপনার ফাইলটি এই পরিষেবার মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ২ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Transfernow ফাইল শেয়ারিং সার্ভিসটি ২০১৩ সাল থেকে তাদের এই সেবা দিয়ে আসছে। Transfernow বিনামূল্যে এবং মূল্য পরিশোধিত – দু’ধরণের সার্ভিসই প্রদাণ করে থাকে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারী বিনামূল্যেই Transfernow এর মাধ্যমে তার ফাইলটি পাঠাতে পারবে। Transfernow ব্যবহার করে ফাইল ডাওনলোড করার জন্যে আপনি সরাসরি লিংক নিতে পারেন, অথবা তাদের সাইট থেকেই প্রাপকের কাছে মেইলটি পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৪ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


pCloud Transfer


২০১৩ সাল থেকে এই সুইস সার্ভিসটি ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যকাআপ করার সুবিধা দিয়ে আসছে। বিনামূল্যের সার্ভিসের সাথে এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সব পেইড সার্ভিস। তবে দ্রুত ফাইল আদান-প্রদাণের জন্যে বিনামূল্যে এই সার্ভিসটিও ব্যবহার যোগ্য। পাশাপাশি ফাইল আদান-প্রদাণের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে আপনি আপনার ফাইল গুলো এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৫ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ অপ্রকাশিত / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Mediafire

ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যাকআপ হিসেবে খুব পরিচিত একটি নাম হলো Mediafire। যারা ইতোপূর্বে অনলাইনে ফাইল সংরক্ষণ কিংবা শেয়ার করেছেন তারা অবশ্যই Mediafire সম্পর্কে ধারণা রাখেন। ২০০৬ সাল থেকে Mediafire তাদের সার্ভিস প্রদাণ করে আসছে। যদিও Mediafire এর মূল সেবা পেতে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবুও রেজিস্ট্রেশন ব্যতিতই দ্রুত ফাইল আদান প্রদানের জন্যে আপনি Mediafire ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ১৪ দিন / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ উক্ত সময়ের মধ্যে অগুনিত বার।


  
  
   
      


Creative Commons License
লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্‌স এর CC BY-NC-SA 4.0 আন্তর্জাতিক লাইসেন্স এর আলতায় প্রকাশিত।

মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯

GIMP ব্যবহার করে Facebook এর জন্যে 3D ইমেজ তৈরি

Facebook প্রতিনিয়তই নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করে এর ব্যবহারকারীদের চমকে দিচ্ছে। তেমনি একটি ফিচার 3D ইমেজ। এখন নিউজ ফিড জুড়ে প্রায়ই 3D ইমেজের দেখা মেলে। মাউসের কার্সর নাড়াচাড়া করলে ইমেজটিও কেমন করে নড়াচড়া করে উঠে।


চাইলেই আমরা আমাদের ছবি গুলোকে Facebook এ 3D ইমেজ হিসেবে আপলোড করতে পারি। আর কিভাবে সেই কাজটি করা যায় সেটিই আজকের আলোচনা।

ফেসবুকে 3D ইমেজ তৈরি করার জন্যে আমাদের ২টি ইমেজ ফাইলের প্রয়োজন। একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ ফাইল, আর অন্যটি হচ্ছে অবজেক্ট ইমেজ ফাইল। মূলত এই অবজেক্ট ইমেজ ফাইলটিই আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ ফাইলের উপর নড়াচড়া করবে।

কাজটি করার জন্যে আমি মুক্ত ও বিনামূল্যের ইমেজ ইডিটর GIMP ব্যবহার করেছি।
 
 
   
   

3D ইমেজ তৈরির পদ্ধতি


  • ধাপ ১ঃ GIMP চালু করে প্রথমে File মেন্যু থেকে File > Open… সিলেক্ট করুন। তারপর আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ ফাইলটি সিলেক্ট করে Open বাটন চাপুন।
  • ধাপ ২ঃ অবজেক্ট ইমেজটি লোড করতে File মেন্যু থেকে File > Open as Layers… সিলেক্ট করুন। এখন আপনি যে ইমেজটিকে অবজেক্ট ইমেজ হিসেবে ব্যবহার করবেন সেটি সিলেক্ট করে Open বাটন চাপুন। আপনার অবজেক্ট ইমেজটির ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন কিছু থাকা চলবে না। মানে অবজেক্ট ইমেজটিতে কেবল অবজেক্ট ইমেজটাই থাকবে, আর তার ব্যাকগ্রাউন্ড হবে ট্রান্সপারেন্ট ধরণের। উদাহরণ হিসেবে এই ছবিটি দেখুন।
  • ধাপ ৩ঃ আপনার অবজেক্ট ইমেজটি ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজের কোন স্থানে থাকবে তা নির্ধারন করুন। প্রয়োজনে আপনার অবজেক্ট ফাইলটি Resize করে নিন। যাতে অবজেক্ট ইমেজটি 3D ইমেজ তৈরির পর চারপাশ থেকেই দেখা যায়।
  • ধাপ ৪ঃ এরপর নতুন একটি লেয়ার তৈরি করুন। লেয়ারের নাম দিন “image_depth”, আর এটির Fill with হিসেবে ‘Transparency’ সিলেক্ট করুন।
  • ধাপ ৫ঃ কালার প্যালেট হতে Foreground কালার হিসেবে সেট করুন ‘606060‘। এরপর কালারটি ধরে এনে “image_depth” লেয়ারের উপর ছেড়ে দিন।
  • ধাপ ৬ঃ এরপর আপনার অবজেক্ট লেয়ারটি সিলেক্ট করে মাউজের রাইট ক্লিক করুন। এরপর মেন্যু থেকে Alpha to Selection অপশনটি সিলেক্ট করুন। এতে আপনার অবজেক্ট ইমেজটির আকার অনুযায়ী একটি সিলেকশন এরিয়া তৈরি হবে।
  • ধাপ ৭ঃ এখন মেন্যুবার এর Select > Grow… অপশনটি ক্লিক করুন। স্ক্রিনে Grow Selection এর ইনপুট বক্স দেখা যাবে। এখানে Grow selection ভেল্যু হিসেবে ‘3’ সেট করে Ok বাটনে চাপুন। এতে পূর্বের অবজেক্ট সিলেকশন এরিয়া হতে সিলেকশন এরিয়ার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
  • ধাপ ৮ঃ সিলেকশন থাকা অবস্থায় পুনরায় “image_depth” লেয়ারটিতে ক্লিক করুন। এরপর কালার প্যালেট এর Background কালার হিসেবে ‘bbbbbb‘ সেট করুন। এরপর ব্যাকগ্রাউন্ড প্যালেটটি টেনে ধরে “image_depth” এর সিলেক্ট থাকা অংশের উপর ছেড়ে দিন।
  • ধাপ ৯ঃ মেন্যুবার থেকে Select > None অপশনটিতে ক্লিক করুন। এরপর “image_depth” এর ভিজিবিলিটি (চোখের আইকন) বন্ধ করুন।
  • ধাপ ১০ঃ অবজেক্ট ইমেজ লেয়ারটিতে ক্লিক করুন, এর উপর মাউজের রাইট ক্লিক করুন। মেন্যু থেকে Merge Down সিলেক্ট করুন। এতে আপনার অবজেক্ট লেয়ার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড লেয়ার দুটো একত্রে যুক্ত হয়ে একটি লেয়ারে পরিণত হবে।
  • ধাপ ১১ঃ মেন্যুবার থেকে File > Export As… সিলেক্ট করুন। এরপর ফাইলটির নাম দিন ‘image.png’ । খেয়াল করুন ফাইলটির এক্সটেনশন অবশ্যই png হতে হবে।
  • ধাপ ১২ঃ পুনরায় “image_depth” লেয়ারটির ভিজিবিলিটি চালু (চোখের আইকনে আবার ক্লিক) করুন। তারপর মেন্যুবার থেকে File > Export As… সিলেক্ট করুন। ফাইলটির নাম দিন ‘image_depth.png’। এই ক্ষেত্রেও ফাইলটির এক্সটেনশন অবশ্যই png হতে হবে।





3D হিসেবে উপস্থাপনের জন্যে আমাদের ইমেজ ফাইল তৈরি। এখন একে Facebook এ ব্যবহারের পালা-


  • ফেসবুকে ব্যবহারের জন্যে আপনার ফেসবুকে লগইন করুন। তারপর নতুন পোষ্ট লেখার স্থানে গিয়ে Photo/Video বাটনে ক্লিক করুন।
  • নতুন যে দুটো ফাইল তৈরি করে সেভ করেছিলেন সেই ডাইরেক্টরি/স্থান -তে প্রবেশ করুন। এরপর পর্যায়ক্রমে কী-বোর্ড থেকে Ctrl (কন্ট্রোল) কী চেপে ধরে ‘image.png’ ও ‘image_depth.png’ ফাইল দুটো একত্রে সিলেক্ট করে Ok চাপুন।
  • Facebook এ ইমেজ দুটো আপলোড হলে সয়ংক্রিয় ভাবেই ফেসবুক ইঞ্জিন উক্ত ইমেজ ফাইল দুটো নিয়ে 3D ইমেজ তৈরির কাজ শুরু করবে। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। কিছু সময়ের মধ্যেই আপনার আপলোড কৃত ইমেজ ফাইলের পরিবর্তে আপনি একটি 3D ইমেজ পেয়ে যাবেন।



এভাবেই আপনি আপনার যে কোন ছবিকে 3D ইমেজ হিসেবে ফেসবুকে প্রকাশ করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন সোর্স ফাইল হিসেবে আপনি যে ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ এবং অবজেক্ট ইমেজ ব্যবহার করছেন তাদের ইমেজ রেজ্যুলুশন যাতে প্রায় একই রকম হয়। ভিন্ন ভিন্ন রেজুল্যুশনের ছবি ব্যবহার করলে আউটপুট হিসেবে 3D ইমেজ আপনার মনঃপুত হবে না।
   
     
পুরো প্রক্রিয়াটি এখানে এই ছোট্ট ভিডিওতে দেখানো হয়েছে। বুঝতে সমস্যা হলে এই ভিডিওর সহায়তা নিতে পারেন।


এখানে ব্যবহৃত ইমেজ ফাইল গুলো এই লিংক থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
  
   
    
     
      
       


শুক্রবার, জুলাই ০৫, ২০১৯

hosts ফাইলের সাহায্যে আপনার সিস্টেমকে আরও সুরক্ষিত রাখুন


কম্পিউটারে বসে ব্রাউজিং করতে বসলেই দেখা যায় এক একটা সাইটে শ'খানেক করে এডভারটাইজ ভেসে বেড়াচ্ছে। আবার কোন কোন সময় জরুরী কিছু একটা সার্চ ইঞ্জিনে খোজার চেষ্টা করছেন, কিন্তু যা খুঁজছেন তা রেখে সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকেই রয়েছে কিছু এড। আবার এমনও সময় হয় যখন বাধ্য হয়েই কোন কোন সাইটে এডে ক্লিক করতে হয়।

এ তো গেলো এক যন্ত্রণা। কিন্তু এর থেকেও বড় যন্ত্রণা হচ্ছে এই এড গুলোর পিছনে লুকিয়ে থাকা নানা ধরণের ম্যালওয়্যার কিংবা ওয়ার্ম। এগুলো খুব সন্দুর করে ঘাপটি মেরে থাকে নানা সাইটে অথবা লিংকে। মাঝে মাঝে দেখা যায় অযথাই এক সাইট থেকে আরেক সাইটে ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্রাউজারটি। কিংবা এক ক্লিকেই ১০ খানা ট্যাব খুলে বসে আছে।

কাজের সময় এইসব যেমন বিরক্তিকর, তেমনি পিসির জন্যেও ক্ষতিকর বটে। আর আজকের লেখাটি সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার চেষ্টাতেই লেখা।

এই সব সমস্যার জন্যে অবশ্য একটা সহজ সমাধান হচ্ছে AdBlock এক্সটেনশন কিংবা এড-অন। কিন্তু একটা এক্সটেনশন কিংবা এড-অনও কিন্তু একটা সিস্টেমের দারুণ পরিমান রিসোর্স ব্যবহার করে থাকে। আমি যখন ব্রাউজারে একই সাথে ৮টি ট্যাব খুলে কাজ করি তখন এই ৮টি ট্যাবের জন্যেই কিন্তু ঐ এড-অনটি কাজ করতে থাকে পেছন থেকে। আর সেই হিসেবই রিসোর্স ব্যবহার করতে থাকে সে। ফলাফল হিসেবে মাঝে মধ্যেই ক্রাশ করে ব্রাউজার। শুধুমাত্র একটি AdBlock এক্সটেনশনই একবার ১০০০ মেগাবাইট র‍্যাম আর ৪৮% সিপিইউ এর ব্যবহার করে একসময় আমার ব্রাউজার ক্রাশ করতে বাধ্য করেছিল।

তাই এর থেকে সহজ সমাধানের খোঁজ করছিলাম আমি। আর সেই সহজ সমাধানটি আমাদের সকলেরই অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বিল্ট-ইন অবস্থাতেই রয়েছে।

সমাধানটি হলো আমাদের সিস্টেমের hosts ফাইল। আমাদের সিস্টেম এর হোস্ট নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে এই hosts ফাইলটি কাজ করে থাকে। এখানে কিছু ভ্যালু পরিবর্তন করে আর কিছু ভ্যালু যোগ করলেই আমরা অনাকাঙ্খিত এই সব সাইট আর এড এর হাত থেকে মুক্তি পেতে পারি।

আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমি একটি হোস্ট ফাইল তৈরি করে নিয়েছি। এই হোস্ট ফাইলটি তৈরিতে আমার সহায়তা নিতে হয়েছে বেশ কয়েকটি সাইট আর হোস্ট ফাইল তৈরি করে এমন নির্মাতাদের। এখানে আমি মোট ১২ রকমের ফিল্টার কিংবা ১২টি আলাদা আলাদা ফাইল একত্র করে তা ব্যবহার করেছি। আর এটি ব্যবহারের উপলদ্ধি কেমন ছিল তা আপনি নিজে যতক্ষণ ব্যবহার না করবেন ততক্ষণ বুঝতে পারবেন না।

এই হোস্ট ফাইলটিতে Ad-block, Malware Domain List, Spam, Fake News, Gambling, Porn সহ আরও বেশ কিছু ফিল্টার লিস্ট এড করা আছে। হোস্ট ফাইলটি ডাওনলোড করতে এই লিংকে ক্লিক করুন।




কিভাবে hosts ফাইলটি পরিবর্তন করবো?


  • Windows অপারেটিং সিস্টেমে hosts ফাইলটির অবস্থান %windir%\System32\drivers\etc\ ফোল্ডারে। আরও সহজ করে বললে এই লোকেশনটি হলো- C:\Windows\System32\drivers\etc\
    (এই লোকেশন সরাসরি ব্রাউজ করতে না পারলে Folder Option থেকে Show hiden files, folders, and drives অপশনটি চালু করে নিতে হবে)



  • উক্ত ফোল্ডারে থাকা hosts ফাইলটি কপি করে ডেক্সটপে রাখুন।
  • এখন আমার দেয়া লিংক থেকে ডাওনলোড করা hosts ফাইলটি Notepad ব্যবহার করে চালু করুন। তারপর এর সবকিছু Ctrl + A চেপে সিলেক্ট করুন। এরপর মাউজের রাইট ক্লিক করে কপি করুন অথবা Ctrl + C চাপুন।
  • এরপর ডেক্সটপে থাকা hosts ফাইলটি Notepad ব্যবহার করে চালু করুন। এরপর এর শেষ লাইনে গিয়ে মাউসের রাইট ক্লিক করে Paste করুন অথবা Ctrl + V চাপুন।
  • এখন ফাইলটি Save করুন।
  • ডেক্সটপে থাকা hosts ফাইলটি পুনরায় C:\Windows\System32\drivers\etc\ ফোল্ডারে পেস্ট করুন। (এটি করার জন্যে আপনার কাছে Administrator এর অনুমতি কিংবা পাসওয়ার্ড চাইতে পারে)
  • কপি হয়ে গেলে সিস্টেমটি Restart করুন।



Linux মেশিনে hosts ফাইলটি রয়েছে /etc/hosts লোকেশনে।hosts ফাইলটির পরিবর্তন করতে আপনার root এক্সেসের প্রয়োজন পড়বে।root এক্সেস ব্যবহার করে যে কোন Text editor ব্যবহার করে উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে কপি-পেস্ট করে আপনার লিনাক্সের hosts ফাইলটি পরিবর্তন করতে পারবেন।




Windows এ hosts ফাইলটি কিভাবে পরিবর্তন করতে হবে তা বুঝতে এই ভিডিও টিউটোরিয়ালটি ফলো করতে পারেন।








বিশেষ কথাঃ hosts ফাইল যে কোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্যেই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে অপারেটিং সিস্টেম এর কাজে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তাই একে পরিবর্তন কিংবা পরিমার্জন করতে হলে অবশ্যই খুব খেয়ালের সাথে করা উচিৎ হবে। এই লেখাটি পড়ে কারও সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার দায়ভার লেখক বহন করবে না।

বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

ইমেজ অপটিমাইজেশন এর জন্যে ওয়েব এ্যাপ


আমরা সকলেই নিজ নিজ গল্প, কবিতা, ছন্দ, ভাব কিংবা লেখার সাথে মিল রেখে অন্তত একটি ছবি পোষ্টের সাথে জুড়ে দেই। এই ছবি জুড়ে দেয়ার ব্যাপারটির গুরুত্ব আশা করি নতুন করে বলতে হবে না। এটি একাধারে যেমন আপনার লেখাটিকে নতুন একটি মাত্রা প্রদাণ করে তেমনি লেখাটির গ্রহণযোগ্যতা আর তার আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। অনেক সময় দেখা যায় পাশাপাশি কয়েকটি লেখা। কিন্তু একটি লেখার সাথে ছবি জুড়ে দেবার কারণে সেই পোষ্টটিই মানুষকে বেশি আকর্ষণ করছে বাকি গুলোর তুলনায়; যদিও বাকি লেখা গুলোও বেশ মানসম্মত। তাছাড়া আমাদের সবজান্তা গুগল মামারও এই ছবি সম্বলিত পোষ্টের দিকে বিশেষ দূর্বলতা আছে বলেই গোপন এক সংবাদে জেনেছি। 

কিন্তু কথা সেটা নয়। আমরা একটু চেষ্টা করলেই নিজের লেখার সাথে মিল রেখে ব্লগ পোষ্টে ছবি আপলোড করতেই পারি। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের আপলোড করতে চাওয়া ছবির 'সাইজ'। আসলে এইখানে সাইজ শব্দটাকে দুই ভাবে উপস্থাপন করা যায়। এক হচ্ছে এর দৈর্ঘ-প্রস্থের মাপ যাকে আমরা সহজ ভাবে রেজুল্যুশন বলেই চিনি। আর অন্যটি হলো ঐ ছবির ফাইলটির দখল করা মেমরি স্পেস। 

ব্যাপারটা আরও একটু সহজ করে বলার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের প্রায় সকলের হাতে রয়েছে একটি করে স্মার্টফোন। এখন আপনি আপনার স্মার্টফোনটির ক্যামেরা এ্যাপ চালু করে তার সেটিংস এ গেলেই দেখতে পাবেন আপনার ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্যে কয়েক ধরণের সুবিধা রয়েছে। এই যেমন আপনার স্মার্টফোনটির ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল হলেও চাইলে আপনি সেটি দিয়ে ৮ মেগাপিক্সেল কিংবা ৫ মেগাপিক্সেল সেট করেও ছবি তুলতে পারবেন। এখন আপনি ৫ মেগাপিক্সেলে ছবি তুললে তার দৈর্ঘ  হবে ২৫৬০ এবং প্রস্থ হবে ১৯২০ পিক্সেল। আবার ৮ মেগাপিক্সেল সেট করে ছবি তুললে তার দৈর্ঘ হবে ৩২৬৪ এবং প্রস্থ হবে ২৪৪৮ পিক্সেল। সাধারণ ভাবেই বোঝা যাচ্ছে ৫ মেগাপিক্সেল এর তুলনায় ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে ছবি তুললে তাতে বেশি পরিমাণ ডেটা সংরক্ষিত হবে আর ছবিটি ৫ মেগাপিক্সেলের তুলনায় আরও বেশি স্পষ্ট থাকবে। সেক্ষেত্রে ৫ মেগাপিক্সেলে তোলা ছবিটি যদি ২.৫ মেগাবাইট মেমরি স্পেস দখল করে তবে ৮ মেগাপিক্সেল ছবিটি দখল করবে ৩ থেকে ৫ মেগাবাইট পর্যন্ত মেমরি স্পেস। 

এখন চলুন একটি হিসেব করি। ধরলাম আপনি আপনার মোবাইলে ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে তোলা একটি ছবি আপনার পোষ্টের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আরও ধরে নিলাম ছবিটি ব্লগ সাইটের ৫ মেগাবাইট মেমরি দখল করল। এখন কেউ যখনই আপনার পোষ্টটি পড়বে কিংবা ব্রাউজারে লোড করবে তখনই ব্লগ এর ব্যান্ডউইথ থেকে ৫ মেগাবাইট খরচ হতে থাকবে। এখন যদি আপনার পোষ্টটি ১০০ জন পাঠক পড়ে থাকে কিংবা ১০০ বার আপনার পোষ্টটি হিট হয় তাহলে গড়পড়তা আপনার পোষ্টের জন্যে ব্লগের ব্যান্ডউইথ খরচ হবে ৫ x ১০০ = ৫০০ মেগাবাইট। এটা শুধুমাত্র একটি  নির্দিষ্ট পোষ্টের নির্দিষ্ট ছবির হিসেব। এখন চিন্তা করুন এমন ১০০টি ছবি যদি কোন ব্লগে আপলোড করা থাকে তাহলে সবগুলো ছবি মিলিয়ে ব্লগ স্পেস থেকে দখল থাকবে ৫০০ মেগাবাইট আর তার বিপরীতে ১০০ জন ভিজিটর ছবি গুলো দেখলে গড়পড়তা ব্যান্ডউইথ খরচ হবে প্রায় ৫০০ x ১০০ = ৫০০০০ বা  প্রায় ৫০ গিগাবিট। পাবলিক ব্লগে ৫০ গিগাবিট ব্যান্ডউইথ কিন্তু একদম ফেলে দেবার মত হিসেব না। 

তো এর থেকে পরিত্রাণের উপায়? ছবি বিহীন পোষ্ট??

না, আমি মোটেই সে কথা বলছি না। বরং আমি অবশ্যই আপনাদের ছবি সম্বলিত পোষ্ট দেবার জন্যে উৎসাহিত করবো। তার বিপরীতে আমরা কিছু টেকনিক ব্যবহার করলেই এই বিষাল(!) ব্যান্ডউইথ কমিয়ে আনতে পারি। আর সেই টেকনিকটির নাম ইমেজ অপটিমাইজেশন। 

ইমেজ অপটিমাইজেশন নিয়ে লিখতে বসলে সেটা নিয়েই বেশ বিষাল আকারের একটা পোষ্ট করা যাবে। হয়তো চেষ্টা করলে পোষ্টের সিরিজও তৈরি করা সম্ভব এই টপিকে। আপাতত আমি সেই দিকে গেলাম না (কিংবা বলা যায় ইচ্ছে করে চেপে গেলাম, কারণ বলতে গেলেই খালি কলসির ঢ‍ং ঢং আওয়াজ বের হয়ে আসবে কি না 😋)।




ইমেইজ আপটিমাইজ আসলে দু ভাবে করা যায়। মূল ছবির দৈর্ঘ আর প্রস্থের পিক্সেলের পরিমাণ (রেজুল্যুশন) কমিয়ে এনে অপটিমাইজ করা কিংবা ছবির সাইজ ঠিক রেখে একে কিছুটা কমপ্রেস করা। অনেক ধরণের টুল কিংবা সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজটি করা যায়। চাইলে আপনি Adobe Photoshop দিয়েও যেমন কাজটি করতে পারেন তেমনি আবার ফ্রি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার GIMP দিয়েও ইমেজ কমপ্রেস করে নিতে পারেন। তবে আপাতত আমি ডেক্সটপ ভিত্তিক সফটওয়্যারের দিকে না গিয়ে আরও একটু সহজ আর কম টোকাটুকিতে কাজ সাড়া যায় এমন পদ্ধতির দিকে আপনাদের মনযোগ টেনে নিচ্ছি। 

ডেক্সটপ, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন যে কোন ডিভাইসেই আপনি আপনার ব্রাউজারের সহায়তা নিয়ে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইনে বেশ কিছু ইমেজ অপটিমাইজ করার ওয়েব এ্যাপ রয়েছে। আমরা এগুলোর সহায়তা নিয়ে খুব সহজেই ছবির ক্ষতি না করে (ঘোলা কিংবা অতিরিক্ত ছোট করে পিক্সেল নষ্ট করা) ছবির সাইজ কমিয়ে আনতে পারি। 

সাধারণত ব্লগ পোষ্টের জন্যে ছবির আদর্শ মাপ ধরা যায় দৈর্ঘে ১২০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৬৭৫ পিক্সেল (রেশিও ১৬:৯)। কিংবা ছবির ছোট আকারের জন্যে দৈর্ঘে ৬০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৩৩৫ পিক্সেল। এই মাপটিকে আদর্শ বলার কারণ হল, এই মাপের ছবি যে কোন সোস্যাল নেটওয়ার্ক (ফেসবুক, টুইটার, গুগলপ্লাস, লিংক্‌ডইন প্রভৃতি)-এ শেয়ার করার জন্যেই আদর্শিক। এই মাপের ছবি সোস্যাল নেটওয়ার্ক গুলোর পোষ্ট হিসেবে ঠিকঠাক মপেই দেখা যায়। তাছাড়া বড় আকারের ছবি ব্যবহার করলে তা প্রায়ই ব্লগের বডি ব্লকের সাইজ মেইনটেইন করতে গিয়ে ছোট আকারে চলে আসে, তখন অনেক সময় সেটি দেখতে আর ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। এছাড়াও বেশি বড় সাইজের ইমেজ সাইজ হলে তা লোড হতেও অনেক সময় লাগায়, যা ব্লগ রিডারদের মনযোগ নষ্ট করে কিংবা পোষ্ট বিমুখী করে দেয়। 

আপনি চাইলে এর মাপের বাইরেও ছবি ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেটি নির্ভর করবে আপনার পোষ্টের বিষয়বস্তু, আর পোষ্ট সাজানোর উপর ভিত্তি করে।


১২০০ x ৬৭৫ পিক্সেলের মূল ছবি - সাইজ ৪৯৯.৬ কিলোবাইট
তুলনা করার জন্যে আমরা একটি ছবি নিলাম। যেটির মাপ দৈর্ঘে ১২০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৬৭৫ পিক্সেল, ছবিটির ফাইল সাইজ ৪৯৯.৬ কিলোবাইট। এই ছবিটি এখন আমরা কয়েকটি অনলাইন ইমেজ অটপিমাইজার টুল দিয়ে অপটিমাইজ করে দেখবো কি অবস্থা হয়। 



Compressor.io

এই সাইটটি থেকে খুব সহজেই আপনি আপনার ছবি অপটিমাইজ করতে পারবেন। সাইটটি JPG, JPEG, PNG, GIF এবং SVG ফাইল নিয়ে কাজ করতে পারে। সাধারণত ছবির কোন ক্ষতি না করেই এর ফাইল সাইজ কমিয়ে আনার ব্যাপারে এটি দারুণ কাজ করে থাকে। তবে এই সাইটটি একই সময় কেবল একটি ছবি অপটিমাইজ করার সুবিধা প্রদাণ করে। আপনার অনেক গুলো ছবি থাকলে একটি একটি করে আপলোড করে তা অপটিমাইজ করে নিয়ে ডাওনলোড করতে হবে। 



TinyJPG

ইমেজ অপটিমাইজেশনের সাজেশন চাইলে গুগলে যে কয়েকটি রেজাল্ট পাওয়া যায় তার প্রথম ২/৩ এর মধ্যেই এই সাইটটির অবস্থান। এটি মোটামুটি পুরনো ও নির্ভরযোগ্য একটি সাইট, পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগিং করার জন্যে এদের আলাদা প্লাগ-ইন রয়েছে। সাইটটি কেবল JPEG এবং PNG ফরম্যাটের ছবি নিয়ে কাজ করতে পারে। ফাইল সাইজ কমিয়ে আনবার ব্যাপারে সেও খুব দারুণ কাজ করে। ছবির ক্ষতি না করে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই কমিয়ে নিয়ে আসে ফাইল সাইজ। পাশাপাশি আপনি একই সাথে ৫ মেগাবাইট করে ২০ টি ছবি একই সাথে এই ওয়েব এ্যাপের মাধ্যমে প্রসেস করতে পারবেন। 



Optimizilla

Optimizilla আপনার ছবিটির যথাসম্ভব সাইজ কমিয়ে আনে ছবির প্রকৃতি নষ্ট না করেই। পাশাপাশি আপনি চাইলে আপনি আপনার ছবিটি কতটুকু কমপ্রেস করতে চান তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন এই ওয়েব এ্যাপটিতে। সাইটটি JPEG এবং PNG ফরম্যাটের ছবি নিয়ে কাজ করতে পারে। আর একই সাথে এ্যাপটি ২০ টি ছবিকে অপটিমাইজ করার কাজ করতে সক্ষম। 



ShortPixel

ShortPixel ওয়েব এ্যাপের মাধ্যমে আপনি ১০ মেগাবাইট ফাইল সাইজের ৫০ টি ছবি একসাথে অপটিমাইজ করার সুযোগ পাবেন। সাইটটি JPEG, PNG এবং নন-এনিমেটেড GIF ফাইল অপটিমাইজ করতে পারবে। অপটিমাইজেশন শেষে ডাওনলোডের পূর্বেই ইচ্ছে হলে আপনি ছবির হাল খুব সহজেই তুলনার অনুপাতে দেখে নিতে পারবেন। 



লেখাটি অনেক লম্বা হয়ে গেলো, তারপরও যদি কেউ এটি থেকে বিন্দুমাত্র উপকৃত হয় তাহলে কিস্ট্রোক গুলো সার্থক হবে। 




শনিবার, জুন ০১, ২০১৯

Telegram - ফিচারে পরিপূর্ণ একটি নিরাপদ ইনস্ট্যান্ট মেসেঞ্জার


চলুন পরিচিত হওয়া যাক নতুন একটি এ্যাপের সাথে। শিরোনাম দেখেই সবাই জেনে গেছেন, যে এ্যাপটি নিয়ে আজকের আলোচনা তার নাম হচ্ছে টেলিগ্রাম (Telegram)। আপনি আমি যখন এই এ্যাপটি নিয়ে কথা বলছি সেই সময়টাতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ কোটি লোক এটি ব্যবহার করছে।

টেলিগ্রাম একটি অবানিজ্যিক প্রকল্প যেটি ২০১৩ সালে নিকোলাই এবং পাভেল ড্যুরভ এর হাত ধরে শুরু হয়েছিল। এই এ্যাপটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সকল ডিভাইসেই ব্যবহারের সুবিধা পায়। আইফোন, এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন, উইন্ডোজফোন কিংবা আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, ম্যাক অথবা লিনাক্সের জন্যে এর আলাদা আলাদা এ্যাপ রয়েছে। আপনি যে কোন প্লার্টফর্মে থেকেই একে ব্যবহার করতে পারবেন। কিংবা কোন ক্লায়েন্ট এ্যাপ ছাড়াই এর ওয়েব এ্যাপ এর সহায়তায় আপনার ব্রাউজারের মাধ্যমেই এর ব্যবহার করা সম্ভব।



আপনি হয়তো ভাবছেন মেসেঞ্জার, ভাইবার কিংবা হয়াট্‌সএ্যাপ থাকতে কেন এই এ্যাপ নিয়ে এত কথাবার্তা হচ্ছে! কি এমন ফিচার রয়েছে যেটি বাকি গুলোতে নেই?

হ্যাঁ, প্রাথমিক দর্শনে আপনি একে সাধারণ মেসেঞ্জার হিসেবেই দেখবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাকি সব এ্যাপ থেকেও এটি ভিন্ন। সেটিও বলছি ধীরে ধীরে... 

টেলিগ্রাম এ্যাপ সরাসরি ক্লায়েন্ট এনক্রিপশন সার্ভার ব্যবহার করে ক্লাউড ভিত্তিক বার্তা আদান প্রদাণ করে থাকে। সহজ করে বললে একে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সরাসরি সার্ভার থেকে কিংবা Man-in-the-middle (MITM) এ্যাটাক পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনার পাঠানো বার্তাটি কেউ দেখে নিতে না পারে। আরও একটু সহজ করে বুঝাতে গেলে উদাহরণ হিসেবে বলবো, যারা নিয়মিত সোস্যাল সাইট গুলো ব্যবহার করেন তারা প্রায়ই শুনে থাকবেন যে ওমুক-তমুকের কথপোকথন কেউ তাদের অগোচরেই হ্যাক করে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে ভিক্টিমের ডিভাইস বা একাউন্টের কোন ক্ষতি না করেই তাদের মধ্যকার কথপোকথন চোর(হ্যাকার) চুরি করে বের করে আনে। আর টেলিগ্রাম সেখানেই আপনাকে নিরাপত্তা প্রদাণ করছে। আপনার ডিভাইস থেকে আপনার বন্ধুকে যখন আপনি কোন বার্তা পাঠানোর জন্যে Send বাটনে ক্লিক করছেন তখনই আপনার ঐ বার্তাটি টেলিগ্রাম এ্যাপের একটি গোপন এনক্রিপশন কী (যার তথ্য টেলিগ্রাম কম্পানি নিজেও জানে না) এর মাধ্যমে বার্তাটিকে এনক্রিপ্ট (নিরাপত্তা বিষয়ক একটি ব্যাপার) করে তারপর সেটি প্রাপকের কাছে পৌছে দিচ্ছে। এখন এর মাঝে বসে যদি কেউ আপনার পাঠানো বার্তাটি পড়তেও যায় তাহলে সে ঐ নির্দিষ্ট 'এনক্রিপশন কী' জানা না থাকবার কারণে বার্তাটি সরাসরি পড়তে বা বুঝতে ব্যার্থ হবে। কারণ হিসেবে বললে বলতে হবে, ঐ অবস্থায় মেসেজটি দেখতে কিছুটা হিজিবিজি কিছু অক্ষর ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না। 


যেমন আপনি মেসেজে লিখলেন - Hi there!
আর এনক্রিপশনের পর মেসেজটি খুঁজে পেলে দেখা হবে সেখানে লেখা রয়েছে - LQCIGFOG8VxNPW1qapkFWLpz
এখন এই 'LQCIGFOG8VxNPW1qapkFWLpz' এর মাঝে কি লেখা রয়েছে তা কেবল আপনার টেলিগ্রাম একাউন্টের সাথে গোপন চাবি হিসেবে যুক্ত 'এনক্রিপশন কী' এর সহায়তা নিয়েই পড়া যাবে, নচেৎ এই অক্ষরের আড়ালে লুকায়িত বার্তা উদ্ধার করতে বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 

আবার আপনি যদি চান আপনার আর আপনার বন্ধুর মধ্যকার কথপোকথন আপনি তাদের সার্ভারেও জমা রাখবেন না, তাহলে খুব সহজেই টেলিগ্রাম এ্যাপের 'Secret Chat' ফিচার ব্যবহার করে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা সেড়ে নিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র আপনার আর আপনার বন্ধুর ডিভাইস ছাড়া এই মেসেজ আর কোথাও সংরক্ষন করা হবে না। আর যখনই আপনারা আপনাদের ঐ Secret Chat সেশন শেষ করবেন তখনই ঐসব মেসেজ আপনাদের ডিভাইস থেকেও চিরতরে মুছে যাবে। আরও রয়েছে মেসেজকে 'Self-destruct' করার সুবিধা। প্রয়োজনে আপনার বার্তা পড়ার সময় আপনি নির্ধারণ করে দিতে পারেন। বার্তা পাঠানোর পর নির্ধারিত ঐ সময়ের পর নিজে নিজেই সেটি সব জায়গা থেকে নিজেকে মুছে ফেলবে। 


ভাইবার কিংবা হয়াটস্‌এ্যাপ ব্যবহার করে কারও সাথে যোগাযোগ করতে গেলে আপনার ফোন নম্বরটি সরাসরি এক্সপোজ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কেউ আপনার ফোন নম্বরটির অপব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে থাকে। টেলিগ্রামে আপনি আপনার নম্বরটি কাউকে না জানিয়েও টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। আপনি যখন টেলিগ্রামে আপনার username টি সেট করে নিবেন তারপর থেকে যাদের মোবাইলে আপনার ফোন নম্বরটি সরাসরি সংরক্ষণ করা নেই তারা ব্যতিত ভিন্ন কেউ আপনার নম্বরটি আর দেখতে পাবে না। 

আরও একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে এটি একই সাথে আপনার সকল ডিভাইসে মেসেজ সিনক্রোনাইজ করতে থাকে। ধরুন আপনার একটি এন্ড্রয়েড ফোন, একটি আইফোন, একটি ট্যাব আর একটি পিসি রয়েছে। আপনি পিসি থেকে কোন বার্তা কাউকে পাঠালে কিংবা কারও কাছে থেকে আপনি কোন বার্তা পেলে সেটি একই সাথে সকল ডিভাইসেই আপডেট হয়ে যাবে। আবশ্য সে ক্ষেত্রে আপনার সবগুলো ডিভাইসই ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে। 



এছাড়াও আপনি আপনার বন্ধুর সাথে এ যাবৎকালে যত মেসেজ পাঠিয়েছেন কিংবা যত ছবি শেয়ার করেছেন অথবা যত ফাইল আদান প্রদাণ করেছেন তার পুরোটাই আপনি যে কোন সময় যে কোন ডিভাইস থেকে এক্সেস করতে পারবেন। 

ফাইল প্রেরণের কথা যখন আসলো তখন যেটা না বললেই না। টেলিগ্রাম ব্যবহার করে আপনি আপনার বন্ধুকে যত খুশি তত ছবি, গান, ভিডিও কিংবা অন্য যে কোন ফাইল পাঠাতে পারবেন। আবার যে কোন সময় সে সব ফাইল সরাসরি ডাওনলোড করে নিতে পারবেন। আর ফাইল সাইজের লিমিট হিসেবে আপনি সরাসরি ১ গিগাবাইট পর্যন্ত সাইজের ফাইল কোন লিমিট ছাড়াই পাঠাতে কিংবা ডাওনলোড করে নিতে পারবেন। আর এই ফাইল আপনি নিজে থেকে ডিলিট না করলে আপনার একাউন্টের বিপরীতে টেলিগ্রাম সার্ভারেই জমা হয়ে থাকবে। 

রয়েছে গ্রুপ এবং চ্যানেল ব্যবহারের সুবিধা। বন্ধুদের নিয়ে খুব সহজেই আড্ডা দেবার জন্যে এখানে গ্রুপ তৈরি করা যায়। আর চ্যানেল এর ব্যাপারটা তুলনা করলে করা যায় ফেসবুক পেইজ -এর সাথে। রয়েছে বন্ধুদের সাথে সরাসরি ভয়েস কল করার সুবিধা। পছন্দ মত থিম ব্যবহারের স্বাধীনতা, ইন-এ্যাপ Emoticon, GIF এবং Sticker ইনসার্ট সুবিধা, কাস্টম প্রাইভেসি ফিচার সহ রয়েছে আরও নানান সুবিধা। 



তা ছাড়া ফেসবুক, মেসেঞ্জার কিংবা গুগলের মত টেলিগ্রাম আপনার তথ্য বিক্রি করার চেষ্টা করে না। তাদের ফিলোসফি হচ্ছে- যদি টেলিগ্রাম সার্ভার মেইনটেইন করার খরচ তাদের সাধ্যের বাইরে চলেই যায় তাহলে তারা টেলিগ্রামের বিশেষ কিছু ফিচার (যা সকলের প্রয়োজন পড়বে  না, এমন) তারা সাবস্ক্রিপশন হিসেবে ব্যবহারকারীর নিকট বিক্রি করবে। তবুও কখনো ব্যবহারকারীর তথ্য তারা নিজেরা ব্যবহার করবে না, কিংবা তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করবে না। 

সবশেষে বলছি রেপন্স টাইমের কথা। ব্যক্তিগত ভাবে হয়াটস্‌এ্যাপ আমার পছন্দের তালিকায় না থাকলেও কিছু সময় এটি ব্যবহার করেছি। যদি মেসেঞ্জার, হয়াটস্‌এ্যাপ এবং টেলিগ্রাম তুলনা করি তাহলে অন্তত আমার দৃষ্টিতে টেলিগ্রাম এ্যাপ বাকি দুইটি এ্যাপের তুলনায় এগিয়ে থাকবে। বাকি দুইটি এ্যাপের বিপরীতে এটি বরাবরই যথেষ্ট দ্রুত কাজ করেছে আমার ডিভাইস গুলোতে। ইমেজ লোডিং এবং কোয়ালিটি মেইনটেইন করে ইমেজ পাঠাবার ব্যাপারেও বাকিদের তুলনায় একে এগিয়ে রাখছি।


আপাতত যে ফিচার গুলো আমার ভালো লেগেছে তার বর্ননা করলাম। এর বাইরেও যদি কিছু জানবার থাকে তাহলে নির্দিদ্ধায় জিজ্ঞাস করতে পারেন। আর সেটি করতে না চাইলে গুগল তো রয়েছেই আপনার সহায়তায়। 

আশা করছি ইতোমধ্যে টেলিগ্রাম ব্যবহার করে থাকলে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। আর আপনি যদি এই পোষ্ট পড়বার পর টেলিগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই ব্যবহারের পর কতটুকু সন্তুষ্ট বা অসুন্তুষ্ট হলে তা জানাতে ভুলবেন না।