ডায়েরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডায়েরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

আমরা আসলে কিছুই বুঝি না


লাভ বুঝি না লোকসান বুঝি না
ভালো বুঝি না মন্দ বুঝি না
কিংবা তাদের মিসেল বুঝি না
হাসি বুঝি না কান্না বুঝি না
কাছের মানুষ হারাবার আগে
তাদের চোখের ভাষাটা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা


গ্রাম ভেঙে শহর করার আগে
গ্রাম্য জীবনের সরলতা বুঝি না
নদী ভরাট জমি করার আগে
নিরালা বাতাসের শীতলতা বুঝি না
মাটির ঘর পাঁকা করার আগে
আপন নিবাসের ঠিকানা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা


ধুলো মাখা পথে পিচ ঢালার আগে
খালি পায়ে হাঁটার সুখটা বুঝি না
ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বালাবার আগে
আঁধারে বসার শান্তি বুঝি না
জোনাকি দল হারাবার আগে
অন্ধকারের ভাষাটা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা


উজ্জ্বল এলইডিতে হারাবার আগে
কুপির বাতির নাচন বুঝি না
স্ক্রিনের আড্ডায় হারাবার আগে
উঠোনে গল্পের আসর বুঝি না
গোছানো ফ্ল্যাটে হারাবার আগে
মুক্তপ্রাঙ্গণের বিস্তার বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা 


হাঁসে ভরা বিল হারানোর আগে
মন জুড়ানো বিকাল বুঝি না
ধান ক্ষেতের দোল হারানোর আগে
সবুজের মোহ মাত্রা বুঝি না
বরই-পেয়ারা গাছ হারানোর আগে
লংকা-লবণের স্বাদ বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা 


ডাঙ্গুলির শৈশব হারানোর আগে
মায়ের বকুনির মমতা বুঝি না
কৈশোরের দুরন্ত হারান‌োর আগে
নিস্বার্থের বন্ধুর মায়াটা বুঝি না
সুতো ছেঁড়া ঘুড়ি হারানোর আগে
মুক্তো আকাশের বিশালতা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা 


যান্ত্রিক চাকায় শান্তি হারাবার আগে
ধীর জীবনের ছন্দ বুঝি না
নগর বিনিদ্রায় হারাবার আগে
নিশি গ্রামের নিদ বুঝি না
শ্রুতিকটু অ্যালার্মে ভোর হারাবার আগে
পাখির ডাকে ঘুম ভাঙা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা 


শহুরে ভিড়ে হারাবার আগে
চেনা মুখের মায়া বুঝি না
জেব্রাক্রসিং এ হারাবার আগে
আঁকা বাঁকা পথের জাদু বুঝি না
শহুরে জঞ্জালে হারাবার আগে
সরল গ্রামের বিপুলতা বুঝি না
আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা...

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬

অন্ধকারের দর্শন

 


বহুকাল আমি নিজেকে একজন ভুল মানুষ ভেবে এসেছি। আমার পৃথিবীটা ছিল কুয়াশায় ঢাকা, যেখানে স্পষ্ট বলতে কিছুই ছিল না। আমার ভেতরে নিজেকে প্রকাশ করার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, কিন্তু যতবারই আমি মুখ খুলতে চেয়েছি, ততবারই মনে হয়েছে যেন কেউ একজন আমার কথাগুলো বন্দি করতে ছুটে আসছে। ভয় ছিল আমার ছায়াসঙ্গী। তাই আলো থেকে পালিয়ে বারবার আমি ফিরে এসেছি আমার পরিচিত অন্ধকারে, আর সেই অন্ধকারই হয়ে উঠেছিল আমার একমাত্র পরিচয়। আমি মেনেই নিয়েছিলাম- আমি আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত ভুলে ভরা এক মানুষ, যার জন্মই হয়েছে ভুল করার জন্য।

কিন্তু একদিন সবকিছু বদলে গেল, যেদিন আমার ভাবনার সাগর নিজের গতিপথ বদলে গিয়ে পড়ল ছোট্ট একটি বীজের উপর।

মাটির গভীরে, নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে একটি বীজ পড়ে থাকে। তাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, "কেন তুমি এই অন্ধকারে? বাইরে এসো, আলোর পৃথিবী তোমাকে ডাকছে," সে হয়তো কোনো উত্তরই দেবে না। কারণ সে জানে, ঐ অন্ধকার তার শত্রু নয়, বরং তার আশ্রয়। ঐ মাটি, ঐ চাপ, আর ঐ একাকিত্ব.. এগুলো ছাড়া তার শেকড় গজাবেই না। আলোতে মাথা তোলার আগে, ঐ অন্ধকারকে তার আপন করে নিতে হয়, মাটির প্রতিটি কণার সাথে বন্ধুত্ব পাতাতে হয়।

সেই বিকেলে আমার হঠাৎ মনে হলো, আমি তো সেই বীজটার মতোই। আমার ভয়, আমার অস্পষ্টতা, আমার ভুলগুলো… ওগুলো আসলে আমার শত্রু ছিল না, ওগুলোই ছিল আমার মাটি। যতবার আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি, ততবার আমি আসলে নিজের শেকড়কে আরও গভীরে চালনা করেছি। 

এই ভাবনাটা আমাকে পৃথিবীর দিকে নতুন করে তাকাতে শেখালো। আমি দেখলাম, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মতো শিল্পীও তাঁর সেরা কাজগুলো অসম্পূর্ণ রেখে গেছেন, কিন্তু তাতে তাঁর মহত্ত্ব কমেনি। আমি বুঝলাম, পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অমাবস্যার রাতের প্রয়োজন বেশি, কারণ সেই অন্ধকারই আমাদের আকাশের আসল রূপ চেনায়, কোটি কোটি তারার জগৎ চোখের সামনে মেলে ধরে। প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো এই যেমন আমাদের চিরচেনা ক্ষণস্থায়ী সূর্যাস্ত বা পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা -কোনোটিই চিরস্থায়ী বা নিখুঁত নয়, কিন্তু তাদের সৌন্দর্য অসীম। 

আর ঠিক তখনই, আমার নিজের পরিচয়টা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি "অন্ধকারের মানুষ" নই। আমি সেই মানুষ, যে অন্ধকারকে চেনে। যে অন্ধকারের অতল গভীরতাকে ভয় পায় না, বরং তাকে আলিঙ্গন করে নিতে শিখেছে। আমার ভুলগুলো আমার ব্যর্থতার ইতিহাস নয়, বরং আমার পথচলার চিহ্ন। আমার ভেতরের দ্বিধাগুলো আমার দুর্বলতা নয়, সেগুলো আমার চিন্তাশীল মনের প্রমাণ। 

সেদিন আমি বুঝতে পারলাম, আমি ভুলে ভরা এক মানুষ নই, বরং আমি অভিজ্ঞতায় ভরা এক জীবন্ত সত্তা।

⠀⠀


⠀⠀

এখন আর আমি আলো খোঁজার জন্য দৌড়াই না। ভয় এলে তাকে তাড়িয়ে দিই না, বরং তার কথা শুনি। ভুল করলে নিজেকে দোষারোপ করি না, বরং হাসি মুখে ভাবি, "বেশ, এখান থেকে নতুন কী শিখলাম?" আমার সেই অন্ধকার ঘরটা এখন আর ভয়ের জায়গা নয়, ওটা আমার শক্তির উৎস -আমার শেকড়ের মাটি। 

আলোর দিকে দৌড়ানোর প্রয়োজনটাই হয়তো ফুরিয়ে গেছে। কারণ যখন একজন মানুষ নিজের অন্ধকারকে আপন করে নিতে পারে, তখন সে নিজেই নিজের আলো হয়ে ওঠে।

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬

রাজকীয় ছাগল উৎপাদনে আমাদের অবদান

 


মানুষ ঠিক ততটুকুই সম্মানেই সবচেয়ে মানবিক থাকে, যতটুকু তার প্রাপ্য। এর বেশি দিলেই বিপদ। এটি কোনো দার্শনিক অনুমান নয়, এটি জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া একটি অকাট্য সত্য। 

অতিরিক্ত সম্মান মানুষের মস্তিষ্কে এক বিচিত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। প্রথমে সে এই অযাচিত সম্মান পেয়ে একটু অবাক হয়, তারপর তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এবং তারপর- এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ; সে ধরেই নেয় যে এটাই তার ন্যায্য প্রাপ্য ছিল!!

এই উপলব্ধির পর থেকে সে হঠাৎ আবিষ্কার করে যে তার মতামত অমোঘ, তার রুচি অতুলনীয়, এবং পৃথিবীর বাকি সবাই মূলত তার জ্ঞানের অপেক্ষায় ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, অতিনগণ্য। এরপর থেকে সে আর মানুষের মতো আচরণ করে না; সে আচরণ করে একজন রাজকীয় ছাগলের মতো। যেদিকে খুশি যায়, যা খুশি বলে, যা খুশি করে, যা খুশি তাতে মুখ লাগায়, যা খুশি তাই খায়, আর কেউ সামান্য বাধা দিলে উলটো শিং নাড়িয়ে তেড়ে আসে।

এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

⠀⠀

একটাই উপায় তার, তা হলো 'সম্মান প্রত্যাহার'।
কিন্তু সেটি ধীরে ধীরে করলে কাজ হয় না, কারণ মানুষ নিজের সম্মান হারানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সৃজনশীল(!)। প্রতিটি ধাপে সে নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। সে ভাবে এবং বলে- “ওরা আসলে আমাকে বোঝে না”, “ওরা হিংসুটে, আমাকে হিংসা করে”, “ওরা আমার কদর বুঝলো না”, “আমি যে ওদের জন্য কী করেছি তা ওরা বুঝলো না”, কিংবা “এই যুগ/লোকগুলো আমার উপযুক্ত নয়”। এমনকি প্রয়োজনে সে ইতিহাসের দুই-একজন মহামানবের সাথে নিজের তুলনাও টেনে বসে, কারণ তারাও নাকি জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পাননি। এই জাতীয় দার্শনিক সান্ত্বনা সে নিজেই নিজেকে অবিরাম দিতে থাকে, এবং ছাগলামি নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখে। 

সম্মান পুরোপুরি শূন্য না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থামে না। শূন্যের কোঠায় এসে সে কিছুটা থমকায়, চারদিকে তাকায়, এবং ধীরে ধীরে আবার মানুষ হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যায়, এবং দর্শকরাও ততদিনে তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে থাকে। 

তাই কাউকে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা করলে, তাকে যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই সম্মান দিন, তার বিন্দু বেশি নয়। 

কারণ অতিরিক্ত সম্মান আসলে সম্মান নয়, এটি একটি ধীরগতির বিষ, একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিশাপ। এই অভিশাপ মানুষকে নিজের অজান্তেই, ধীরে ধীরে, অত্যন্ত নিপুণভাবে অন্য একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত করে।

এবং সেই প্রাণীটির নাম ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

⠀⠀

~ বাস্তবতার ঘটনাপ্রবাহ ছেঁকে সংগৃহীত

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

জীবনের জটিল সমীকরণঃ সফলতার ভ্রম ও বাস্তবতা

⠀⠀

আমরা সাধারণত চোখের সামনে যা দেখি, তাকেই সত্য ধরে নিই। আজ কার লাভ হলো, কে উন্নতি করল, কে ক্ষমতার চেয়ারে বসল -এসব দিয়েই আমরা সফলতা আর ব্যর্থতার বিচার করি। অথচ জীবন এত সরল নয়। জীবনের হিসাব অনেক গভীর, অনেক বিস্তৃত। এখানে সময়ের সাথে সাথে জীবনের সমীকরণ বদলায়, আরও বদলে যায় সফলতার সংজ্ঞা।

একদিন তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে গিয়ে বাদামের ঝুড়ি হাতে রফিক মিয়া হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্র্যাফিক ছেড়ে দেওয়ায় কয়েকটি গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হলো তার সারা দিনের পুঁজি -বাদামের ঝুড়ি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তার রুজি-রুটি। অসহায় মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। 

অন্যদিকে একই রুটে বাদাম বিক্রি করা শফিক মিয়ার সেদিন দারুণ লাভ হলো। রফিক না থাকায় দ্বিগুণ বিক্রি করল সে। হাতে এলো ভালো অঙ্কের টাকা। আপাতদৃষ্টিতে ঐদিনের জন্য শফিক হলো সফল, আর রফিক হলো ব্যর্থ, নিঃস্ব একজন। কিন্তু সন্ধ্যায় সারা দিনের আয় নিয়ে শফিক বসে গেল জুয়ার আসরে। রাত শেষ হতেই উপার্জিত সব টাকা হারিয়ে সেও শূন্যে নেমে এলো। সকালে দেখা গেল- রফিক আর শফিক দুজনকেই আবার শূন্য শুরু করতে হবে। তবে পার্থক্য এক জায়গায়। 

রফিক মিয়া ছিল সৎ, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। সবাই তাকে বিশ্বাস করত। তাই সে যখন নতুন করে ব্যাবসা শুরু করতে চাইল, তখন মানুষ বিনা দ্বিধায় তাকে বাকীতে মাল দিল। মানুষের বিশ্বাসই হয়ে উঠল তার নতুন মূলধন। অন্যদিকে শফিকের জুয়ার নেশা আর অবিশ্বস্ততা কথা সবাই জানত। তাই কেউ তাকে বাকীতে মাল দিতে চাইল না। বিশ্বাসহীন মানুষের জন্য পৃথিবীর কোনো দরজাই কখনো খোলা থাকে না। 

এবার চলুন আরেকটি গল্প শুনি। গল্পটা সুমন নামের এক অফিসের সহকারী ম্যানেজারের। সারাদিন বসকে তোষামোদ করে সময় কাটাত, আবার আড়ালে তারই বদনাম করে বেড়াত। তবে তার একটা সুপ্ত ও গোপন ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছেটি ছিল- কবে বসের চাকরি যাবে আর সে সেই চেয়ারে বসবে। অনেক দিন পর তার সেই চাওয়া পূরণ হলো। তার বস চাকরি ছেড়ে চলে গেল, আর সুমন পদোন্নতি পেয়ে হলো ম্যানেজার। 

মানুষের চোখে সে সফল। কিন্তু সফলতা আর ইচ্ছে পূরণ তো আর তার চরিত্র বদলাতে পারে না। আগের মতোই চললল তার অফিস পলিটিক্স, ষড়যন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর তোষামোদের রাজনীতি। ফলে বিশ্বস্ত, কর্মঠ ও যোগ্য কর্মচারীরা একে একে চাকরি ছাড়তে লাগল। শূন্য পদে নিয়োগ পেল অদক্ষ, তেলবাজ ও অনভিজ্ঞ লোকজন। আর এসব কারণে কোম্পানির ক্ষতি বাড়তে থাকল। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সুমন ও তার গড়া পুরো দলকেই ছাঁটাই করলো। 

আরও একটি গল্প শোনা যাক। পরীক্ষায় একজন নকল করে ভালো রেজাল্ট করল, আর অন্যজন সততার সাথে পরিশ্রম করে মাঝারি ফল পেল। সবাই প্রথমজনকে মেধাবী বলল। কিন্তু সময়ের সাথে দেখা গেল- নকলের সাফল্য টেকেনি, আর পরিশ্রমী মানুষটি ধীরে ধীরে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। 

এই গল্পগুলো আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে। গল্প গুলো আমাদের শেখায়- সফলতা একদিনের অর্জন নয়, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল। সাময়িক লাভ, ক্ষমতা কিংবা বাহবা প্রকৃত সাফল্যের পরিচয় নয়। প্রকৃত সাফল্য গড়ে ওঠে সততা, পরিশ্রম, নৈতিকতা, ধৈর্য ও মানবিকতার ওপর ভর করে।

⠀⠀

⠀⠀

জীবনে দ্রুত সফল হওয়ার চেয়ে সঠিক পথে এগোনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জীবন এক নিরন্তর প্রবহমান ধারা। এই ধারার সামনে টিকে থাকার জন্যে সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য ও নৈতিকতা -এই চারটি স্তম্ভ শক্ত করে গড়তে হবে। আর এই স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য। তাই কাউকে সফল বা ব্যর্থ বলার আগে একটু থামা উচিত। কারণ আমরা দেখি ঢেউয়ের তোড়, কিন্তু জানি না স্রোতের গতি। আর এই অদেখা স্রোতের কাছেই তো শেষ কথা বলার অধিকার থাকে।

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀

⠀⠀



শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬

ডায়েরির পাতা: মনের জ্যোৎস্না ও জ্বর



মৌসুমী ভৌমিকের গানটা আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল- "কেন শুধু শুধু ছুটে চলা, একে একে কথা বলা, নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে.."। গানটা কেমন যেন আজকের দিনগুলোর মুখপাত্র হয়ে উঠেছে। শব্দগুলো শুধু সুর নয়, এখন আমার নিঃশ্বাসের অনুষঙ্গ।

দিনগুলি এখন হিসাবের বাইরে, বিচ্ছিন্ন পাথরের মতো যার যার মত ছড়িয়ে পড়ে আছে। গতকালের সকাল আর আজকের বিকালের মধ্যে কোনো সীমানা খুঁজে পাই না। দুই দিনকে আলাদা করার জন্য নতুন কোনো শব্দ নেই অভিধানে। প্রতিদিন একই জানালা, একই আলোছায়া, একই ঘড়ির কাঁটার দৌড়। বিরক্তির ভাঁজ কপালে জমে, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়- এইটুকুই বা কম কী? সময় তো আরো ভাঙচুর করতে পারত, তবু কিছুটা শৃঙ্খলা এখনো টিকে আছে।

গত কয়েকদিন ধরে শরীর বিদ্রোহ করে চলেছে। একদিন তো জ্বর এসে সময়ের হিসাবই লোপাট করে দিল। চোখ মেললাম- সকাল, আবার মেললাম- দুপুর, আরেকবার- দেখলাম সন্ধ্যা ইতোমধ্যে বিদায় জানাচ্ছে। জ্বর যদিও সেরে গেছে, কিন্তু ছেড়ে গেছে গলা-ব্যথা আর তার নিষ্ঠুর সঙ্গী মাথা-ব্যথাকে। সঙ্গে সঙ্গ দেয়ার জন্যে রয়ে গেছে মৃদু কাশি- অতি পরিচিত শত্রু। কাশির স্মৃতি আমার জন্য সাবান পানিতে ভেজা চামড়ার মতো, পুরোনো এক অসুখের ছায়া মনে ভর করে। কখনো কখনো শরীর মনে করিয়ে দেয়, স্মৃতি শুধু মনের নয়, দেহের কোষেও লেখা থাকে। 

আগে যা ভালো লাগত, এখন তা ধূসর মনে হয়। বইপত্র, গান, মুভি -সব যেন পানিতে ভেজা ধূসর কাগজের মতো নিষ্প্রাণ। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- শিশুদের দেখলে আগে যে হৃদয় গলে যেত, এখন সেখানে কোনো না কোনো জায়গায় একটি বিরক্তি দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয়, ওদের কোলাহল থেকে দূরে থাকি, নিঃশব্দে থাকি। এই পরিবর্তনটাই বেশি ভয়ংকর -আগে যা জীবনকে স্পর্শ করত, আজ তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। 

ছুটি!
শব্দটা এখন প্রার্থনার সমার্থক। কিন্তু, এ ছুটি কেবল দৈনন্দিন রুটিন থেকে নয়, এ ছুটি এই অভ্যন্তরীণ নীরবতা থেকে, এই আবেগহীন প্রবাহ থেকে। কখনো কখনো জীবন থেকেই ছুটি নেওয়ার ইচ্ছে জাগে, একটা দীর্ঘ, শান্ত নিদ্রার মতো। কিন্তু জীবনের প্রতি এক গভীর অনুক্ত মায়া, এখনো রয়ে গেছে। যেমন- একটা পুরোনো বাড়ি, যার দরজা-জানালা ভাঙছে, কিন্তু যার প্রতিটি ধূলিকণায় স্মৃতি লেগে আছে। তাই মায়াটাও এখনো রয়ে গেছে। 

জীবন কালের এই বয়সে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি হয় যে, জীবন একইসাথে 'বোঝা' ও 'বরাদ্দ'। অনেকটা পাহাড়ের মাঝপথে উঠে পেছনে ফিরে তাকানোর মতো। নিচের পথটুকু পেরিয়েছি, কিন্তু শীর্ষ ছোঁয়া এখনও বহুদূর। আর শরীরে জমা হয়েছে ক্লান্তি। তবুও এগোতে হচ্ছে, কারণ নিচে নামার পথটা অসম্ভব দুর্গম। 

আজকের এই এলোমেলো ভাবনা গুলো ডায়েরির পাতায় লিখে রাখলাম; হয়তো এই শূন্যতা পূর্ণতারই আরেক রূপ। সময় হয়তো হৃদয়কে শূন্য করে তুলছে পরবর্তী কোনো গভীর অনুভবের জন্য জায়গা তৈরি করতে। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীর যেমন একটু বেশি সংবেদনশীল হয়, তেমনই হয়তো এই আত্মিক স্তব্ধতার পর কিছু দেখা বা বোঝার সূক্ষ্ম ক্ষমতা ফিরে আসবে। 

আজ শুধু এই কথাগুলোই লিখে রাখি, যেন এই মুহূর্তের ভার্চুয়াল সাক্ষী থাকে এই শব্দগুলো। হয়তো কোনো এক ভবিষ্যৎ দিনে ফিরে দেখব, এই শব্দগুলো পড়ব, আর তখন বোঝার চেষ্টা করব- যে ব্যক্তি এগুলো লিখেছিল, সে আসলে হারিয়ে যাচ্ছিল নাকি নতুন কোনো উপকূলের খোঁজ পেয়েছিল। 

জানালার বাইরে এখন রাত। দূরে কোনো বাড়ির জানালায় একটি বাতি জ্বলে আছে, এক টুকরো মানবিক উষ্ণতা। হয়তো জীবন আসলে এটাই- একটা অন্ধকারে জ্বলা বাতি খোঁজা, যে বাতি হয়তো অন্যের বারান্দায়, কিন্তু তার আলো আমাদের জানালাতেও পড়ে। আজকের মতো এটুকুই যথেষ্ট। আজ শুধু থাকব, আর শ্বাস নেব। এই অস্থির হৃদয় নিয়েই, এই অসুস্থ শরীর নিয়েই, এই স্তব্ধ সময় ধরেই। 

হয়তো, নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকার অর্থই হলো- এই ভাঙাচোরা মুহূর্তগুলোকেও আস্তে আস্তে, একটু একটু করে, স্পর্শ করে যাওয়া...

বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

মানুষ, প্রয়োজন আর অনুভূতির অদ্ভুত হিসাবঃ Rental Family


কিছু সিনেমা আমরা গল্পের টানে দেখি, কিছু দেখি অভিনেতার জন্য। Rental Family (2025) আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলে পড়লেও, সিনেমা শেষ করে উঠে দাঁড়ানোর সময় বুঝলাম- এটা শুধু একজন অভিনেতার কামব্যাক নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন, শূন্যতা আর অনুভূতির এক গভীর পাঠ।


ব্রেন্ডন ফ্রেজার - এই নামটা আমার কাছে মানেই সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যুব পথে এগিয়ে যাওয়া বয়সের রোমাঞ্চ। The Mummy, Journey to the Center of the Earth - এই সিনেমাগুলোয় তার উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী, আলোয় ভরা। বহুদিন পর তার চেহারাটি পোস্টারে চোখে পড়তেই যেন পুরোনো স্মৃতি গুলো ঝলমল করে উঠলো, আর সেই টানেই বসে পড়েছিলাম "ভাড়া পরিবার" বা 'Rental Family' দেখতে। কিন্তু এবারের ব্রেন্ডন ফ্রেজার ছিলেন একেবারেই ভিন্ন একজন - নীরব, ভাঙা, ক্লান্ত এক মানুষ।

এই সিনেমার Philip চরিত্রটিকে দেখে বারবার মনে হয়েছে, সে যেন ব্রেন্ডন ফ্রেজারের বাস্তব জীবনেরই এক ছায়া। একসময় যিনি অভিনয় জগতে জনপ্রিয়তার শিখরে ছিলেন, আজ তার নামই যেন ভুলে যেতে বসেছে মানুষ। জীবনের দায়ে, টিকে থাকার তাগিদে সে অভিনয় করছে। কিন্তু সেটি কোনো মঞ্চে নয়, বরং মানুষের জীবনের ফাঁকা জায়গাগুলোতে। বাবা নেই এমন শিশুর ভাড়া করা বাবা, পরিবারের সামনে একজন নারীর পরিপূর্ণতা লাভে ভাড়াটে স্বামী - এ যেন অভিনয়েরও আরেক রূপ, যেখানে ক্যামেরা নেই, কিন্তু অনুভূতি আছে।

সিনেমাটি দেখতে দেখতে সবচেয়ে যে ভাবনাটি মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে, তা হলো- মানুষ কত বিচিত্র উপায়ে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে। সমাজের প্রতিটি শূন্যস্থান কেউ না কেউ এসে ভরাট করে দেয়। কেউ পেশার খাতিরে, কেউ বাঁচার তাগিদে, কেউ বা নিঃসঙ্গতা থেকে। Rental Family যেন সেই অদ্ভুত অথচ বাস্তব পৃথিবীর দরজাটা ধীরে খুলে দেয়, যেখানে ভালোবাসা ভাড়া নেওয়া যায়, পরিবার সাময়িক হয়, কিন্তু অনুভূতিগুলো অস্থায়ী হলেও মিথ্যে নয়।


Philip চরিত্রের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তটি আসে তখনই, যখন সে নিজের বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পাওয়া একটি ডিটেকটিভ সিনেমার অফার ফিরিয়ে দেয়। এই শহর, এই দেশ ছেড়ে যেতে হবে- এই শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে সে মনে করে ছোট্ট মেয়েটির কথা, যার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে সে নিজেই আবেগে জড়িয়ে পড়েছে। 


বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো রক্তের টান নেই - তবু সে মেয়েটিকে কথা দিয়েছিল, সে আর তাকে ছেড়ে যাবে না। এই দৃশ্যটি নিঃশব্দে বলে দেয়- অনুভূতির প্রতিশ্রুতি কখনো কখনো জীবনের লক্ষ্যকেও হার মানায়।


সিনেমার আরেকটি গভীরভাবে নাড়া দেওয়া চরিত্র Kikuo Hasegawa। একসময়ের বিখ্যাত অভিনেতা, আজ স্মৃতিভ্রমে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ। তার একটাই ইচ্ছা- শৈশবের বাড়ি, যৌবনের স্মৃতি, পরিবার নিয়ে কাটানো গ্রামের সেই নিবাসকে, সেই দিনগুলো আরেকবার দেখে আসা। কিন্তু বয়স আর রোগের দেয়ালে আটকে যায় সেই আকুতি। নিজের মেয়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে Philip-কে সঙ্গী করে সে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ে। এই যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বটুকু ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা।


আর Shinji Tada, এই চরিত্রটি যেন সবচেয়ে নগ্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মানসিক শান্তির জন্য সে ভাড়া করে নেয় স্ত্রী ও সন্তান। নিজের ভেতরের শূন্যতা ঢাকতে সে মিথ্যের আশ্রয় নেয়, কারণ তার কল্পনার পরিবার বাস্তবে নেই। তবু এই মিথ্যে সম্পর্কের মাঝেও তার বেঁচে থাকার লড়াইটা করুণভাবে সত্য।

Rental Family কোনো উচ্চকণ্ঠ সিনেমা নয়। এখানে নেই নাটকীয় সংলাপ, নেই বড়ো কোনো মোড়। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্য নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়- আমরা কি সত্যিই একা? নাকি প্রয়োজন আর অভিনয়ের মাঝামাঝি কোথাও আমাদের অনুভূতিগুলো সত্যি হয়ে ওঠে?


সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু পর্দার নয়- এটা আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। ভাড়ার সম্পর্ক, অভিনীত অনুভূতি, আর তার ভেতর জন্ম নেওয়া অপ্রত্যাশিত মানবিক বন্ধন- সব মিলিয়ে Rental Family এমন একটি সিনেমা, যা দেখে বেরিয়ে এসে মানুষ আর জীবনের দিকে নতুন করে তাকাতে ইচ্ছে করে।

যদি আপনি নীরব, মানবিক আর ভাবনার খোরাক দেওয়া সিনেমা পছন্দ করেন, তাহলে এই সিনেমাটি আপনার দেখার তালিকায় থাকতেই পারে।

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

শব্দ আছে, কণ্ঠ নেই..


এই ছবিটা আমাদের রাজনীতির নীরব আত্মকথা
এখানে নেতা বলেন আর জনতা মুগ্ধ হয়
শব্দগুলো আলো জ্বালায়, আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র আঁকে
মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে তালি পড়ে

সোমবার, আগস্ট ২৫, ২০২৫

ডায়েরিঃ আগস্ট ২৫, ২০২৫ঈ ॥ ১০১ দিন

পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে চলছে। সূর্য ওঠছে, আবার নিয়ম মেনে অস্ত যাচ্ছে; রাত নামছে, ফের ভোর আসছে; মানুষ আসছে-যাচ্ছে, বাঁচছে-মরছে; সবকিছু আগের মতোই চলছে। কিন্তু আমার কাছে পৃথিবীর রূপ আর আগের মতো নেই। পৃথিবীটাকে আমি আর আগের চোখে দেখতে পারি না। কারণ এই পৃথিবীতে জীবনধারণের ধরণ বদলে গেছে। সম্পর্কের ধরন পাল্টে গেছে, বিশ্বাসের ভিত্তি নড়ে গেছে, আর ভরসার জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে।


আমি ভেবেছিলাম- কষ্ট গুলো ধীরে ধীরে মুছে যায়, সময়ের সাথে সাথে ক্ষতস্থান শুকিয়ে আসে। কিন্তু বাস্তবতা আমাকে অন্য শিক্ষা দিয়েছে। কষ্ট আসলে কখনোই মুছে যায় না, ম্লান হয়ে বিবর্ণও হয় না; বরং সময় তাকে আরও প্রকট ভাবে দৃশ্যমান করে তোলে। যত দিন যায়, কষ্ট তত গভীরভাবে হৃদয়ে গেঁথে বসে। ক্ষণিকের আঘাত সময়ের প্রবাহে গাঢ় ক্ষতচিহ্নে পরিণত হয়, আর সেই দাগ চিরস্থায়ী হয়ে যায়।


মানুষের প্রতি বিশ্বাস, ভরসা আর সম্মান- যা একসময় আমার কাছে অবিচল সত্য মনে হয়েছিল; এখন ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। জীবনের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, মানুষকে সহজভাবে বিশ্বাস করা ছিল মস্ত ভুলের একটি। আমি যাদের কাছে আদর্শ খুঁজি, যাদের চোখে সাধুতা দেখি, তাদের ভেতরে আসলে এমন কিছু নেই। সবাই প্রয়োজনের খাতিরে সাধু হয়, আর প্রয়োজন ফুরোলেই সাধু ভং ধরা মুখোশটা খুলে কুটিলতায় ভরা প্রকৃত মুখটি প্রকাশ পায়। মানুষের এই দ্বিমুখী চরিত্র এত কাছ থেকে না দেখলে হয়ত কখনো বিশ্বাস করতাম না।


এই অল্প কয়েকদিনে জীবনের আরেকটি কঠিন সত্যও উপলব্ধি করেছি। যে সকল মানুষের হৃদয়ের ভেতর কুটিলতা ভর করেছে, যার হৃদয় কালশিটে ময়লা পড়ে পচে গেছে, যার চিন্তাধারায় কুটিলতা আর অনিষ্ট ছাড়া ভিন্ন কিছু কাজ করে না; তার সাথে আপনি যতই ভালো ব্যবহার করেন না কেন, যতই ধৈর্য ধারে সহ্য করে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান না কেন, কোনো লাভ নেই। তাদের স্বভাব পাল্টায় না, পাল্টাবার নয়। এদের মোহর লাগানো হৃদয়ের কথাই ওপরওয়ালা আমাদের বলেছেন, বিধাতার হুকুম ছাড়া এই মোহর আর কখনোই পরিষ্কার হবে না। বরং এই কুটিলতায় পূর্ণ নরকের কীট গুলো খুঁজে খুঁজে আপনার দুর্বলতা খুঁজে বের করে আপনাকে আরও গভীর সমস্যায় ফেলে দেবে।


আমার শূন্য হয়ে পড়া পৃথিবীটার বয়স আজ ১০১ দিন। ঠিক ১০০ দিন পূর্বে আমার আম্মা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আপন শান্ত পরিবেশ খুঁজে নিয়েছেন। দিন হিসেবে ১০০ দিন খুব নগণ্য হলেও এই ১০০ দিনের পৃথিবী আমাকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে, যেখানে নেই মায়ের মমতা, নেই সেই নির্ভরতার ছায়া। আছে কেবল ভান করা মায়া, সমাজের সামনে যাত্রা-নাটক প্রদর্শন করার মতো ভদ্রতা, আর স্বার্থের ফাঁদে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক। এই ১০০ দিনেই ‘পরিচিত’ আর ‘কাছের’ নামধারী সম্পর্ক গুলো চোখের পলকেই গিরগিটির মত রঙ বদলে নিয়েছে।


আমি কখনো ভাবিনি আম্মা আমাদের এত দ্রুত ছেড়ে চলে যাবেন। আমি ভেবেছিলাম আম্মা অন্তত আরও বিশটি বছর আমাদের সঙ্গে থাকবেন। তাঁর ছায়াশীতল মমতা আমাদের আগলে রাখবে, আমাদের আঁচল ভরসার আকাশ হয়ে থাকবে মাথার উপরে। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু থেমে গেল। যে মানুষটিকে ভরসার স্তম্ভ ভেবেছিলাম, তিনি হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। আর তার অনুপস্থিতি আমার হৃদয়ে এক বিশাল অবিশ্বাসের দেয়াল তুলে দিল।


আজ মনে হয়, ছোটবেলা থেকে যে মূল্যবোধের শিক্ষা পেয়েছিলাম, সেগুলো আসলে বাস্তব জীবনে অকার্যকর। সততা, নীতিকথা, সত্য-বচন- এসব আঁকড়ে ধরে আমি শুধু পিছিয়েই পড়েছি। আর চারপাশের মানুষগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য কোনোকিছু করতে দ্বিধা করেনি। এই ১০০ দিনে আমি দেখেছি রক্তের সম্পর্কও কেমন করে বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়। যাদের একসময় নিজের বলতে শিখেছিলাম, যাদের আপন ভেবে স্বস্তি আর মনের তৃপ্তি বুঝে নিতাম; তারাই স্বার্থ হাসিলে বেইমান হয়ে উঠেছে। মানুষ যে এতটা স্বার্থপর হতে পারে, এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এত বড় মাপের নিমকহারাম হতে পারে; এমন করে না দেখলে কখনোই বিশ্বাস করতাম না।


সব আক্ষেপ, সব হতাশা, সব কষ্ট আর সব বেদনার শেষে আমার একমাত্র প্রার্থনা- মহান আল্লাহ যেন আমার আম্মাকে পরিপূর্ণ শান্তি দান করেন। তিনি যেন হাসরের ময়দানে আম্মাকে হাউজে কাউসারের শীতল পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করান। আর জান্নাতুল ফেরদৌসকে আম্মার জন্যে স্থায়ী আবাস হিসেবে ঘোষণা করে দেন।


আমার জীবন আজ শূন্যতায় ভরা। কিন্তু সেই শূন্যতার ভেতরও আমি মায়ের শান্তির জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে দোয়া করি। কারণ আমার সমস্ত বিশ্বাস, ভরসা আর আশ্রয় এক মানুষেই ছিল- আমার আম্মা। আর আজ তিনি নেই… ১০১ দিন।

সোমবার, আগস্ট ১৮, ২০২৫

একদিন ঠিক হারাবো গিয়ে বনে…

 

⠀⠀⠀⠀

প্রায়ই আমার এই শহরের ভিড় থেকে পালাতে ইচ্ছা করে। 

এই যে অলিগলি রাস্তা জুড়ে হাজর মানুষের হাঁটা-চলা, যান্ত্রিক জীবনের অনবরত শব্দ; এসবের মাঝে নিজেকে আমার দারুণ বন্দী মনে হয়। যদিও খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার জন্যই এই শহর জীবন, কিন্তু সে তো আমাকে মুক্ত ভাবে শ্বাস নিতে দেয় না। কংক্রিটের এই জঙ্গলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন মনে হয়, আমি ভুলে যাচ্ছি মুক্ত জীবনের স্বাদ।

হয়ত এই কারণেই মনে মনে ইচ্ছে হয় কোন এক হাঁটা-পা এর রাস্তা ধরে অচেনা কোন গহিন বনে হারাতে। আঁকাবাঁকা পথ, পাতায় ঢাকা, রঙে রঙে মোড়া পথ, কোলাহল বিহীন সেই পথে হেঁটে বেড়াতে। সেই বন আর বনের পথটি হবে একান্তই আমার নিজের।

শহরে বুকে কখনো যে গন্ধ মিলে না, সেই গন্ধে ভরে থাকবে আমার সেই বুনো পথ। মাটির কাঁচা গন্ধ, ঝড়া পাতার অচেনা সুরভি, আর হয়ত কোন অদৃশ্য ফুলের মৃদু সুবাস। সেখানে শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হবে- আমি বেঁচে আছি, সত্যিই বেঁচে আছি। শহরের ধোঁয়া, গ্যাস, বর্জ্য কিংবা কৃত্রিম সুবাস এই সবই সেখানে থাকবে কেবলই এক দুঃস্বপ্ন হয়ে।

বনের গভীর নিস্তব্ধতাকে আগলে নেবো নিজের অস্তিত্বের সাথে। সেখানে থাকবে না এলোমেলো ব্যস্ত পদচারণা, থাকবে না কুৎসিত হর্ন, থাকবে না ট্র্যাফিক জ্যাম, থাকবে না পিচের গরম। থাকবে কেবল পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ, থাকবে শুকনো পাতার উপর দিয়ে দৌড়ে যাওয়া অচেনা কোন প্রাণীর পদচারণা, থাকবে বাতাসের ফিস‍্‍‍ফিসানি আর থাকবে অন্তর জুড়ানো গাছের ছায়া। এই সবই প্রকৃতির আপন স্পর্শ, এগুলোই পৃথিবীর আসল ভাষা; যা আমরা ভুলে গেছি এই কোলাহলে মত্ত হয়ে। 

ফ্লুরোসেন্টের আলোর নিচে বসে এখন আমি এক অন্ধকার পৃথিবী দেখি। এই আলো হৃদয়ের গহিন কোণকে আলোকিত করতে পারে না। অথচ আমার সেই অরণ্যে খেলা করে বিস্ময়ের আলো নিয়ে। পাতার ফাঁক গলে যখন সূর্যের আলো যখন মাটির গায়ে পড়ে, মনে হয় যেন ছোট ছোট আলোর কণা মিছিল করছে সেখানে। আবার মাঝে মাঝে আলোর রশ্মি গুলো এমন এক বিভ্রম তৈরি করে, যেন মনে হয় সেখানে রয়েছে এক আলোর ঝলমলে দেয়াল। দেয়ালের ওপারে রয়েছে অন্য এক জগৎ, যেখানে নেই কোন দায়িত্ব, নেই কোন দৌড়ঝাঁপ, নেই কোন একঘেয়েমি। শুধু শান্তি- নির্মল, অনাবিল শান্তির বাস সেখানে।

এই যে শহরজুড়ে গায়ের সাথে গা ঘেঁষে তৈরি হয়েছে আকাশছোঁয়া দালানের জঞ্জাল। একের পর এক বিল্ডিং, যার জানালা দিয়ে নিচে তাকালে কেবল দেখা মেলে ছুটে চলা শহর, ধুলো, কালো ধোঁয়া আর মেকি জীবনের দৌড়ঝাঁপ। এখানকার প্রতিটি দালান, প্রতিটি ফ্ল্যাট, প্রতিটি খোপ-খোপ রুম যেন এক একটি কারাগার। জীবনের মায়ায় অন্ধ হওয়ার দোষে সবাইকে সেই কারাগার যাপনের আদেশ দেয়া হয়েছে এখানে। অথচ আমার বনে প্রতিটি গাছই জানালা, প্রতিটি পথ মুক্তির, আর বহমান বাতাসে বাজে জীবনের সুর।

আমার ভেতরের আমিটা বারবার বলে উঠে- “বারবার হারিয়ে যাও তোমার আরণ্যের গভীর থেকে গভীরে; ক্লান্তি ঘিরে ফেলার আগ পর্যন্ত হেঁটে বেড়াও আঁকাবাঁকা পথটি ধরে।” হয়ত কোনো একদিন সত্যিই সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো। খুঁজে বের করবো আমার সেই প্রিয় বনটিকে অজানা কোন প্রান্তে। যেখানে আমার সাথে থাকবে কেবল ‘আমি’। গাছ, পাখি, পো‌ঁকা আর মাটি -সবাই মিলে ঘুচিয়ে দিবে আমার হৃদয়ের অসীম নিঃসঙ্গতা। 

⠀⠀⠀⠀

তখন আর আমি এই শহুরে মানুষ থাকবো না; আমি হবো বনের সন্তান… 

⠀⠀⠀⠀

⠀⠀⠀⠀

⠀⠀⠀⠀

ছবি-সূত্রঃ u/myriyevskyy

বুধবার, আগস্ট ১৩, ২০২৫

বিকেলের রঙে হারানো দিনগুলো

 

⠀⠀⠀


মনিটরের পর্দায় এই ছবিটা দেখে মনে হল যেন কেউ আমার ভেতরের স্মৃতির দরজাটা আস্তে করে খুলে দিচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই শৈশবের বিকেলগুলো- যখন গরমের দুপুর গুলিতে ভাতঘুম দিয়ে বিকেলের আগে আগে উঠতাম। তারপর বিকেল নামলে পরে যেতাম মাঠের দিকে। চারপাশে শুধু বিস্তীর্ণ সবুজ, দূর-সুদূরে অল্প কয়টিা বাড়ি আর ওপরে অনন্ত নীল আকাশ। মনে হতো, যদি কোনোভাবে ওই আকাশে উঠার সিঁড়িটা খুঁজে পেতাম! ভাবতাম নিশ্চই আকাশের একটা গোপন রাস্তা আছে, যা কেবল আমার চোখে ধরা পড়ে না!

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

প্রণয়িনী, তোমায় ঘিরে আমার ভাবনা...

প্রণয়িনী,

এই যে এত বিশাল মহাবিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, এর মাঝ থেকে যদি কোন কেন্দ্র তৈরী হয় কেবলই আমার জন্যে; তবে সেই কেন্দ্র হচ্ছ তুমি। এই মহাবিশ্বের যে কোণেই আমাকে ছেড়ে দেয়া হোক না কেন, ফের তোমার পানে ফিরে আসবার তাগিদে ছুটে চলবো গ্রহ থেকে গ্রহান্তর। আর সেই যাত্রার বিরতি হবে শুধুমাত্র তোমার মনের আঙ্গিনায়। 

আমি জানি, এই সবই অতিরঞ্জন মনের কল্পনা। বাস্তবতার চাকা যখন তপ্ত মরুর পথ ধরে চলতে শুরু করে, তখন এই আবেগ অনেকটাই উবে যায় স্বেদ-বাষ্পে। কিন্তু তবুও যখন কোন মরুদ্যানের ছায়াতলে শীতল হয় মন, তখন সে শুধু তোমাকেই কল্পনা করে; তোমার কথাই ভাবে। রোদের তাপে তপ্ত এ শরীর যেমনি শীতল পানি পানের সময় তার বয়ে চলা অনুভব করতে পারে; একই ভাবে এই অতৃপ্ত লোভী হৃদয় তোমার কিছুমাত্র স্পর্শ পেলে পুরো অনুভূতি জুড়ে তোমার আনাগোনা অনুভব করে।

ভালোবাসা নামের অনুভূতিটা যবে থেকে বুঝতে শিখেছি, সেই তখন থেকেই আমি বুঝি, 'ভালোবাসা'র মানে হচ্ছো 'তুমি'। বিশাল এক সময় সমুদ্র পার করে যখন তোমার হাতটি ধরেছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম 'ভালোবাসা'র বীজটির অঙ্কুরোদগম শুরু হয়ে গেছে। তারপর ঠিক বুঝে উঠবার আগেই সেটি বীজ থেকে চারা, আর চারা থেকে মহীরুহে রূপ নিয়েছে। তবুও নিজেকে ঢাল বানিয়ে আমি কিছু কাল সেই মহীরুহ ঢেকে রাখবার চেষ্টা করে গিয়েছিলাম। কিন্তু হৃদয় আঙ্গিনায় তোমার আনাগোনায় যে হিম বাতাস বয়ে চলতো, তাতেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে পড়েছিল আমার ঢাল। ভাঙ্গা ঢাল পেরিয়ে সেই মহীরুহ ধীরে ধীরে আমাকেই ঢেকে দিয়েছে তার মায়া মেশানো ভালোবাসার ছায়ায়। আমি দেখেছি, মহীরুহের প্রতিটি পাতায় তোমার নাম, তোমার স্পর্শ, তোমার উপস্থিতি। এরপর আমি আর কোনদিন সেই মহীরুহের ছায়াতল থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি নি। হয়তো ক্ষনিকের জন্যে অভিমানে মহীরুহ পেরিয়ে সামনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রেখেছিলাম। কিন্তু তোমাকে ঘীরে ছায়ার মায়া আবারও আমাকে সেই মহীরুহের দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছে। 

কেউ একজন বলেছিল, ভালোবাসা দিনে দিনে ভাগ হয়। আজ যাকে ভালোবাসো, যাকে ছাড়া ভালোবাসা শব্দটাই অচল মনে হয়, চিন্তায় চেতনায় শুধুমাত্র যার অনুভূতিই আজ তুমি অনুভব কর; কাল সেখানে অন্য কেউ আসবে, তোমার সমস্ত অনুভূতি সে চুরি করে মনোযোগ আকর্ষনী মুকুটটা মাথায় দিয়ে তোমার হৃদয় সিংহাসনটা দখল করে নিবে। সে মুহুর্তে কথাটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করলেও, আজ আমি জানি; কথাটা মোটেই মিথ্যে নয়। শূন্য থেকে তিলে তিলে নিজের মধ্যে ধারণ করে, সুদীর্ঘ ক্লিষ্ট পথটি পাড়ি দিয়ে যে উপহারটি তুমি আমার জন্যে নিয়ে এসেছ; সেটি এসেই আমার হৃদয় সিংহাসনটি দখল করেছে, কেড়ে নিয়ে মাথায় দিয়েছে হৃদয় আকর্ষনী মুকুটখানি। হ্যাঁ, আমি সেই উপহারটিও ভালোবাসি। নিজের চেয়ে অধিক নয়, বরং নিজের সমান ভালোবাসি। কিন্তু যার নামে পুরো রাজ্য গড়ে উঠেছে। যে রাজ্যের প্রতিটি নিশানায়, প্রতিটি পতাকায় কেবল তোমার নাম লেখা। সেখানে কেউ মুকুট মাথায় দিলেই ভালোবাসার পূর্ণ দাবিদার হয়ে উঠে না। বরং তার জন্যে ভালোবাসার নতুন হালখাতা তৈরি হয়, তৈরি হয় উপরাজ্য। তোমার জন্যে যে হৃদয় ব্যাকুল করা ভালোবাসা, সেটি ঠিক আগের মতই আছে। অধিকন্তু দিনকে দিন তা ফুলে ফেপে হৃদয় আঙ্গিনা ভরিয়ে তুলছে।

দিনকে দিন কত শত রূপে যে আমি তোমাকে আবিস্কার করেছি, তা কেবল আমিই জানি। আলসে তোমাকে আবিস্কার করেছি,  যে সারাটি দিন বিছানায় নিজেকে বন্দী করে নেয়। আবার কর্মঠ কর্মী রূপেও তোমাকে দেখেছি, যে ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেকে বিলিয়ে দেয়। বিরক্ত তোমাকে দেখেছি, যে সবকিছু ছুড়ে ফেলে ভেঙ্গে ফেলতে চায়। আবার মায়াময় তোমাকেই আবিস্কার করেছি, যে সবকিছু আগলে নিয়ে মুঠিতে জমায়। দেখেছি মায়াময় জননী রূপে, দেখেছি সেবিকায়, দেখেছি সুনাম প্রতিষ্ঠায়। দেখেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তেজস্বী তোমার প্রতিবাদী রূপ, আবার তার বিপরীতে দেখেছি কারো কোন ছোট অন্যায় নিজের ভালোবাসার চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে। বিশ্বাস কর, তোমার তোমার এই প্রতিটি রূপকেই আমি আমার মত করে ভালোবেসেছি।

তোমাকে হারাবার যে ভয় শুরু থেকে ছিলো; জানো কি, আমি আজও সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারি নি। আজও মনে হয় কোন এক দমকা হাওয়াতে আমি তোমায় হারিয়ে ফেলব। প্রায়ই মনে হয়, নিঝুম রাতটি শেষ করে যে ভোরটি নতুন দিন নিয়ে আসবে; সেই দিনটিতে তুমি হারিয়ে যাবে। যে বাগান ভর ফুলেল ঘ্রাণে আমি বিমোহিত হয়ে থাকি, সেই বাগান শুদ্ধ তুমি হারিয়ে যাবে। পড়ে থাকবে কেবল উদ্যান, আর পড়ে থাকব কেবল এই একলা আমি। আমি এই ভয়টা কোন ভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারি না। তবুও ভোর হলে যখন তোমাকে দেখতে পাই, তবুও দমকা হাওয়ার তোড় কমলে যখন শক্ত মুঠিতে তোমাকে পাই, তবুও চোখ বুজে ফুলেল ঘ্রানে ফুসফুস পূর্ণ করে যখন চোখ মেলে দেখি তুমি এখনো রয়েছ দৃষ্টির সীমানায়। কেবল তখনই মনকে সান্তনা দেই এই বলে, "আজ নয়, আজ আর হারাবে না তুমি"।

আমার এই অর্থহীন আবেগী শব্দের স্রোত তোমাকে কতটুকু স্পর্শ করবে, তা আমি জানি না। জানি না বাক্যের এই মালা আদৌ তোমার মনকে গলাতে পারবে কি না। তবে আমি জানি, এইসব বর্ণের বাইরেও যে ভালোবাসা আছে তা আমার হৃদয়ে অনন্তকাল ধরেই থাকবে। সময়ের গর্ভে আমি বিলিন হবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত তোমাকে নিয়ে এইসব অনুভূতি আমি ধারন করে যাবো। আর আমি বিশ্বাস রাখি, এই নশ্বর জগত পার করে যে অনন্ত জগতে গিয়ে পৌছবো, সেখানেও আমি তোমারই অপেক্ষা করবো, তোমাকেই চাইবো। প্রার্থনা থাকবে সমস্ত ইচ্ছে পূরণকারী সেই মহান স্বত্তা যেন আমার এই চাওয়াকে পূর্ণতা দেন। এই জগতের সকল ভালোবাসার অপূর্ণতা তিনি যেন ঐ জগতে পরিপূর্ণরূপে পূরন করে দেন। 



ইতি
তুমিহীন অপূর্ণ যুবক

ছবিঃ kellerdoll ( মূল ), ractapopulous ( মূল ), ঘষামাজা ( !?! )

বুধবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২১

শীত ও বিয়ে! শীতকালীন বিয়ে এবং হিজিবিজি

 


শীত এবং বিয়ে, সম্ভবত এই টপিকটা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর সবচেয়ে বেশি ট্রল হয়ে আসছে। অবশ্য শুধুমাত্র ট্রলকারীদের এককভাবে দোষারোপ কারও উচিৎ হবে না। শীতের এই সময়টাতে সত্যি-সত্যিই বিয়ের ধুম পড়ে যায় দেশজুড়ে। এমনও হয় যে এই মৌসুমটাতে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতে গিয়ে সম্ভাব্য তারিখ গুলোতে মেকআপ আর্টিস্ট বা পার্লার, ক্যামেরাম্যান, বাবুর্চি এমনকি কম্যুনিটি সেন্টারটি গ্রহনসাধ্য হবে কি না কিংবা অন্য কোন আত্নীয়দের একই দিনে ঠিক করে রাখা কোন অনুষ্ঠান আছে কি না -- এই সবকিছুর উপর নির্ভর করতে হয়! এমনও হয় যে কম্যুনিটি সেন্টারে একই দিনে একই ফ্লোরে দুটি অনুষ্ঠান বুক করতে হয়, সেক্ষেত্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একজনের জন্য বরাদ্দ হলে সন্ধ্যা থেকে রাত বরাদ্দ পায় অন্যজন। এক অনুষ্ঠানের অতিথিরা কম্যুনিটি সেন্টার ত্যাগ করবার আগেই অন্য অনুষ্ঠানের অতিথিরা এসে অপেক্ষা শুরু করে। আবার একই দিনে দু'জন আত্নীয়ের অনুষ্ঠান পড়ে গেলে মেহমান কোনটি রেখে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবে তা মনস্থির করতে দ্বিধা-দন্দে পড়ে যায়। 

সে যেমনই হোক, "শীত এবং বিয়ে"-র এই মেলবন্ধন কিন্তু অযৌক্তিক নয়। বরং হিসেব করলে দেখা যাবে এর পেছনে যৌক্তিক কারণটাই মূখ্য বিষয়। আজ সেইসব বিষয় নিয়েই একটু বলা যাক। 


মেহমানদের উপস্থিতি

যে কোন অনুষ্ঠানের জন্যেই মেহমানদের উপস্থিতি বিশেষরকম গুরুত্ব বহন করে। দেখা যায় যে আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শীতের এই সময়টাতে একটু ঢিলেঢালা ভাব থাকে। বার্ষিক ছুটি, পরীক্ষার ছুটি, মিড বা সেমিষ্টার ফাইনাল এক্সাম শেষ হয়ে নতুন সেশন শুরু হয় এই সময়টাতে, তাই ইচ্ছে হলেই ২/৪ দিনের জন্যে কোন অনুষ্ঠানে সে সময়টাতে উপস্থিত হওয়া যায়। তাছাড়া বেশিরভাগ প্রবাসীদের এই সময়টাতে দেশে আসবার সুযোগ ঘটে, তাই পরিবার নিয়ে এমন একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং প্রায় বাকি সকল আত্নীয়দের সাথে দেখা করবার দারুণ একটা সুযোগ পায় তারা। সেই সুবাদে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহমানদের উপস্থিতি বছরের অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি থাকে। 

মুখরোচক খাবার

আপনি স্বীকার করুন চাই না করুন, বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হয় খাবার! বছরের অন্য সময়ে বিয়ের আয়োজন করলে খাবারের গুণগত মান ও স্বাদ ঠিক রাখতে যতটা কাঠখর পোড়াতে হয় তা শীতের মৌসুমে অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। অতিরিক্ত বা একটু লম্বা সময় নিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে এই সময়টাতে ঝাক্কিঝামেলা অনেক কম পোহাতে হয়। শুধু মূল অনুষ্ঠান নয়, বরং এই সময়টাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মেহমানদের জন্যে নানা পদের সুস্বাদু খাবার রান্না হয়ে থাকে। অন্য দিকে শীতের এই মৌসুমে প্রচুর সবজি পাওয়ার কারণে নানান আইটেমের খাবার পরিবেশন সহজ ও খরচ সহায়কও হয়ে থাকে। গ্রামের দিকে দেখা যায় হলুদ অনুষ্ঠান কিংবা মূল অনুষ্ঠানের সকলের দিকে মেহমানদের খিচুরি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আর সেই খিচুরিতেও ব্যবহার হয় নানান ধরনের মৌসুমী সবজি। অন্যদিকে শীতের এই সময়টাতেই চলে পিঠা উৎসব। বিয়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষ অতিথি এবং উভয় পক্ষ একে অপরকে বাহারি রকম আঞ্চলিক পিঠা উপহার হিসেবে দিয়ে থাকে। আর সত্যি বলতে কিনে খাওয়া পিঠার চেয়ে এইসব পিঠার স্বাদ হাজারগুণ ভালো হয়। ছোটবেলায় দেখতাম বিয়ের আগে বেয়াই বাড়িতে পিঠা উপহার দেয়ার জন্যে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবার দিন পনের আগে থেকেই চাল ভাঙ্গানো কিংবা চাচী-ফুপুরা সবাই মিলে নকশী পিঠা তৈরী করছে মহোৎসবে। 

আবহাওয়া ও পরিবেশ 

আবহাওয়া বিয়ের আনুষ্ঠানিতকায় কত বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে তা যে নিজে এমন বিরূপ অবস্থায় না পড়েছে সে অনুধাবনও করতে পারবে না। সুন্দর সাজগোজ করে বিয়েতে উপস্থিত হলেন, এর মাঝে শুরু হলো বৃষ্টি কিংবা দারুন তাপদাহ। অবস্থাটা ভাবুন একবার। সুন্দর পরিহীত পোষাকটা তখন সাপটে থাকবে আপনার সাথে; চুপচুপে ঐ পোষাকে থাকলে যতই দারুন আপ্যায়ন কিংবা খাবার হোক না কেন, কোনটাই আপনাকে স্বস্তি দিতে পারবে না। তাছাড়া শেরওয়ানি কিংবা সুট আর দামী দামী ভারী সব বিয়ের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গাতে বর-কনে‌'র যে কি অবস্থা হয়, তা একমাত্র তারাই বলতে পারবে। এর সাথে যুক্ত হয় ক্যামেরার অসহনীয় উজ্জ্বল ও তপ্ত লাইট; ঐ সময়টা মনে হয় প্রখর রৌদ্রে কেউ জোর করে গাড়ি থেকে উত্তপ্ত পিচের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। 

এছাড়া এই সময়টাতে মেহমানদের ম্যানেজ করাও কিছুটা সহজ হয়। অন্য সময়টাতে একত্রে অনেক মানুষ জমায়েত হলে দেখা যায় কয়েকটি ফ্যান কিংবা এসিও সেখানে পর্যাপ্ত ভাবে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে পারে না। সেদিক থেকে শীতের এই সময়টা অনেকটাই সুবিধা প্রদান করে। এমনও হয় যে হোষ্টের বাড়ির বিছানা সরিয়ে সেখানে ঢালাও ভাবে ফ্লোরে বিছানা পাতা হয়। আর আমন্ত্রিত অতিথিরাও আনন্দ চিত্তে সেই বিছানা দখল করে নিচ্ছে। যদিও লেপ কিংবা কম্বল ভাগে পাওনা নিয়ে অনেকেই অনেক অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই একত্রে ঢালাও বিছানায় সবাই মিয়ে শুয়ে শুয়েও রাতভর গল্প করবার একটা দারুন সুযোগ পেয়ে বসে। আর অনেকের কাছে এই সুযোগটাও একটা গোল্ডেন মেমরি হয়ে রয়।

কনের সাজ

পাড়া-প্রতিবেশী আর বেশ কিছু আত্নীয়-স্বজন যে বিয়ের দিনে কনের সাজ‌'টা কেমন হলো তা নিয়ে জাজ করে তা আশা করি আপনাদের আর নতুন করে বলতে হবে না। কিন্তু এই সাজ বা মেকআপ ধরে রাখা কিন্তু সহজ কোন বিষয় না। এমনকি শীতের এই সময়টাতেও মেকআপ নিয়ে স্টেজে বসলে দেখা যায় পাশ কনের এই মেকআপ ঠিক রাখতে একজন হেল্পিং হ্যান্ড প্রয়োজন পড়ছে। গরমে তো সেই ঘটনাটা হয় আরও ভয়াবহ। 

বাহারি রকম ফুল

শীতে নানান সবজীর মত দেখা মেলে বাহারি রকম ফুলের। বছরের অন্য সময়টাতে প্রয়োজন মত ফুল পাওয়া না গেলেও এই মৌসুমটাতে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় এটি মেজর কোন ইস্যু না হলেও এটি একটি একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার বিয়ের আনুষ্ঠানিক সাজসজ্জার ব্যাপারে। 

পরিশ্রম ও ক্লান্তি

একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে এত এত কাজ থাকে যে সময়মত একটু বিশ্রামেরও ফুরসত মেলে না। আগে দাদী-নানীরা বলতো 'বিয়ে করা আর ঘর করা সমান খাটনি'; মানে একটা ঘর বা বাড়ি বানাতে যে ইফোর্ট দিতে হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতেও সেই একই ইফোর্টের প্রয়োজন পড়ে। এখানে মূল অনুষ্ঠানের মাস খানিক আগে থেকেই শুরু হয় ছোটাছুটি। আর তা শেষও হয় বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের অন্তত ৫‌/৭ দিন পরে। আর এই সময়টাতে টানা চলতে থাকে একটা না একটা কাজ। বাড়ির মহিলারা সেই ভোর থেকে ভোররাত পর্যন্ত ঘরের মেহমান সামলাবার কাজ করে, আর পুরুষরা আনুষ্ঠানিকতার বাকি সব দেখভাল করতে করতেই সময় পার করে। বছরের অন্য সময়টাতে অনেকেই এত লম্বা সময় সমানতালে কাজ করতে পারে না, কিংবা অনেকেই কাজের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে তুলনায় শীতের এই ঠাণ্ডা সহজেই এই পরিশ্রমের ক্লান্তিকে কমিয়ে নিয়ে আসে, আর ক্লান্তিও দূর করে নিমিষে। 



'শীত এবং বিয়ে' নিয়ে মানুষ যতই হাসাহাসি করুক, ট্রল করুক, কৌতুক বলুক দিন শেষে উপরোল্লিখিত বিষয় গুলো আপনি মোটেই অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। যে বা যারা ট্রল করছে, হাসাহাসি করছে তাদেরও যদি জিজ্ঞাস করা হয় তার স্মৃতিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিয়ের অনুষ্ঠান কোনটি, তাহলে দেখা যাবে সেটিও কোন এক শীতে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠান। অথবা জিজ্ঞাস করলে তাদের মধ্যে অবিবাহিত বড় একটা সংখ্যাই হয়তো শীতেই বিয়ে করতে চাইবে। 

সে যাই হোক, 'বিয়ে' এবং বিয়ের 'অনুষ্ঠান'টি হোক সকলের জন্যে আনন্দদায়ক উপভোগ্য একটি ঘটনা সমৃদ্ধ স্মৃতি। বিয়ে হোক নতুন ও পুরাতন সকল আত্নার আপন আত্নীয়দের মিলনমেলা। এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করে আজকে এখানে ইতি টানলাম। 

বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০

ফিরে যায় আলোর মশাল



শয়তানের দোসর হয়ে ওরা এসেছিলো সর্স্তপণে
মুঠি মুঠি শাপ-সন্দেশ বিলিয়েছিলো সমাগমে
কেউ হাত বাড়িয়ে নিয়েছিলো, তো কেউ লুকিয়ে
আর বাকিরা নিয়েছিলো অজান্তে, অনিচ্ছায় আর অসতর্কে

অতঃপর সবাই মিলে সন্দেশের মিঠাই চেটেপুটে খেয়েছিলো।

যতক্ষণে ঐ সন্দেশ তাদের পেটে পাক ধরিয়েছিলো
ততক্ষণে ওরা বিনিময়ের বিপণি খুলে বসেছিলো
হাজার হাজার বিনিময় ছিলো সেখানে,
রূপ, যৌবন, বিত্ত কিংবা বৈভব --কোনটারই কমতি ছিলো না

ওরা জনে জনে, আর গুনে গুণে এইসবই বিনিময় করে যাচ্ছিলো।

এরমাঝেই এক সাধু ধ্যান ভেঙ্গে ফিরেছিলো
উচ্ছাসে, উশৃঙ্খলে, আর অহংকারে অন্ধ অমানুষ সে দেখেছিলো
পড়ে থেকে গলে যাওয়া ভাববাদীর লাশ সে পেয়েছিলো
মোড়ে মোড়ে ডেকে যাওয়া খাদিমের আহ্বান সে শুনেছিলো

সাবধানে, নিঃশব্দে আর নিস্তব্দে সাধু ঐ লোকালয় ছেড়েছিলো।

এরা সব অন্তর পচে যাওয়া অর্ধমৃত নরকের পোকা
এরা সব ধর্ম-পিতার অন্তর খুবলে খাওয়া লোভী কীড়া
এরা সব পয়গম্বরকে নিজ পায়ে পিষে মারা পাপী
এরা সব মুন্ড ছাড়া লাফিয়ে চলা বোকচন্দর জাতী

আর এদের কৃতকর্মে ত্যাক্ত হয়েই আলোর মশাল সেবারে আলো না ছড়িয়েই ফিরেছিলো।
 
  

রবিবার, আগস্ট ১১, ২০১৯

মজার ছবি-ব্লগঃ ভাস্কর্যের সাথে তাহারা! (দ্বিতীয় পর্ব)

জীবনে আনন্দের সঙ্গা ব্যক্তি  ভেদে ভিন্ন। কেউ আনন্দে জীবনটাই কাটায়, তাকে বাইরে আর নতুন কিছুর খোঁজ করতে হয় না। আর কেউ আনন্দের অপেক্ষায় জীবনটা পার করে দেয়। আর কেউ কেউ নিজের আনন্দটাকে নিজেই তৈরি করে নেয়। এমনই কিছু ব্যক্তি যারা নিজেদের আনন্দ নিজেরাই খুঁজে নিতে জানে তাদের কিছু ছবি ছড়িয়ে আছে আর্ন্তজালিকার নানা কোন জুড়ে। আজকের আয়োজন তেমনি কিছু আনন্দময় দুষ্টামিতে ভরপুর ছবি নিয়ে। ভালোকথা, এই মানুষগুলোর সাথে ছবিতে অংশগ্রহণ করেছে বেশ কিছু ভাস্কর্য। চলুন দেখে নেয়া যাক তাদের সম্মিলিত দুষ্টুমি যুক্ত প্রতিভা...

চলো আমরা আমাদের ডান্স মুভ দেখিয়ে দেই!

ফের যদি স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে বসতে দেখি, তোমার আম্মুকে একদম পুরো ঘটনা বলে দিবো। হুহ্‌

জিগরি দোস্ত! কত্ত দিন পর তোর সাথে দেখা!! আয় বুকে আয় ভাই... 

দেখলা দেশের অবস্থা! দেশটা পুরোই রসাতলে যাচ্ছে...

অনেক ফাঁকিবাজি করেছিস। বাসায় চল, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন...

আইনস্টাইন সাহেব, চলেন একটা সেল্ফি নেই। কাল ইন্সটাগ্রামে আপলোড দিবো!

দুষ্ট মেয়েদের সাথে আর মিশবি? বল! মিশবি?

উম্ম্ম্ম্ম্ম্ম্ম্মআ! 😝

প্লিজ! প্লিজ!! আমি আর কোনদিন ডিম খাবো না, প্লিজ! আমাকে ছাড়ো!!

প্রিয়তমা, কেবল তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষায় পাথর বনেছি...

এরপর থেকে পপকর্ণ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে এক জায়গায় ফেলবি,
আর আমার ভাগে যেন ভুলেও কম না পড়ে...

চল, তোমাকে শপিং-এ নিয়ে যাই...

দূরবিনে খুঁজে লাভ নেই, আমি এখানেই, তোমার পাশে...

বুঝলে! ঐ যে দিনের ঘটনাটা বললাম না। তারপর কি হয়েছে জানো....

লেটস্‌ ফাইট! ভিসুম...!

লেডিস, আই ক্যান হোল্ড ইয়্যু বোথ ইন মাই আর্ম!

তারপর দাদু, তারপর কি হয়েছিলো..?

আআআআআআআআআআ.........

না! তোমাকে ওদের সাথে যেতে হবে না। তুমি আমার সাথেই খেলা কর!

হা হা হা ‍হা! আজ পেয়েছি বাগে....!

এই যে, এইভাবে জোড়ে ঘুসি দিবা একদম

আই লাভ চিকেন 😁

হাই ফাইভ!!










 ………………………………………………………
পিক কার্টেসিঃ স্ব-স্ব ফটোগ্রাফার
পিক সোর্সঃ Google Image Search
Pinterest.com
imgur.com

মঙ্গলবার, আগস্ট ০৬, ২০১৯

ঝামেলা ছাড়াই বড় ফাইল গুলো পাঠিয়ে দিন তার গন্তব্যে

ইন্টারনেটে কাউকে কোন কিছু পাঠাবার সবচেয়ে জনপ্রিয় আর গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো ইলেকট্রনিক মেইল ওরফে ই-মেইল। এখনো জরুরী যে কোন জিনিষেরই আদান প্রদাণ হয় এই ই-মেইল মাধ্যমে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ই-মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ফাইল সাইজের লিমিট। অধিকংশ মেইল প্রোভাইডর মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে ২০ মেগাবাইট থেকে ১০০ মেগাবাইট পর্যন্ত সাইজের ফাইল পাঠাবার সুযোগ দিয়ে থাকে। এর চেয়ে বড় সাইজের ফাইল হলে তখন বিপাকে পড়তে হয়।

আবার অধিকাংশ ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে ফাইল প্রেরণের পূর্বে তাদের সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। অনেক সময় এই বাড়তি ঝামেলাটা পোহাতে ইচ্ছে হয় না।

আর এই সমস্যা গুলো থেকে উত্তরণের জন্যে আজকের এই লেখাটি। এখানে এমন কয়েকটি ফাইল-শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো ব্যবহারের জন্যে আপনাকে কোন ধরণের সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে না। প্রয়োজন হবে না কোন ধরণের বাড়তি রেজিস্ট্রেশনের। আর সার্ভিস ভেদে আপনি ১ গিগাবাইট থেকে ৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আদান-প্রদাণ করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে।

তো চলুন ঝটপট এমন কিছু সার্ভিস দেখে নেয়া যাক!


Firefox Send

মোজিলা ফায়ারফক্স এর একটি অতিরিক্ত সুবিধা এই Firefox Send। এই সুবিধাটি ব্যবহার করে আপনি যে কোন ধরণের ফাইল অতি সহজেই আদান প্রদান করতে পারবেন। Firefox Send ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে আপনার ফাইলটি দ্রুততর সময়ের মধ্যে আদান-প্রদাণ করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ২.৫ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের সময় হতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭ দিন পর্যন্ত।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ ১ হতে ১০০ সংখ্যক নির্ধারিত করে দেয়া ডাওনলোড।

We Transfer

২০০৯ সাল থেকে We Transfer তাদের এই সেবাটি প্রদাণ করে আসছে। সহজে কোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সরাসরি আপনি আপনার ফাইলটি এই পরিষেবার মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ২ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Transfernow ফাইল শেয়ারিং সার্ভিসটি ২০১৩ সাল থেকে তাদের এই সেবা দিয়ে আসছে। Transfernow বিনামূল্যে এবং মূল্য পরিশোধিত – দু’ধরণের সার্ভিসই প্রদাণ করে থাকে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারী বিনামূল্যেই Transfernow এর মাধ্যমে তার ফাইলটি পাঠাতে পারবে। Transfernow ব্যবহার করে ফাইল ডাওনলোড করার জন্যে আপনি সরাসরি লিংক নিতে পারেন, অথবা তাদের সাইট থেকেই প্রাপকের কাছে মেইলটি পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৪ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


pCloud Transfer


২০১৩ সাল থেকে এই সুইস সার্ভিসটি ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যকাআপ করার সুবিধা দিয়ে আসছে। বিনামূল্যের সার্ভিসের সাথে এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সব পেইড সার্ভিস। তবে দ্রুত ফাইল আদান-প্রদাণের জন্যে বিনামূল্যে এই সার্ভিসটিও ব্যবহার যোগ্য। পাশাপাশি ফাইল আদান-প্রদাণের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে আপনি আপনার ফাইল গুলো এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৫ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ অপ্রকাশিত / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Mediafire

ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যাকআপ হিসেবে খুব পরিচিত একটি নাম হলো Mediafire। যারা ইতোপূর্বে অনলাইনে ফাইল সংরক্ষণ কিংবা শেয়ার করেছেন তারা অবশ্যই Mediafire সম্পর্কে ধারণা রাখেন। ২০০৬ সাল থেকে Mediafire তাদের সার্ভিস প্রদাণ করে আসছে। যদিও Mediafire এর মূল সেবা পেতে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবুও রেজিস্ট্রেশন ব্যতিতই দ্রুত ফাইল আদান প্রদানের জন্যে আপনি Mediafire ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ১৪ দিন / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ উক্ত সময়ের মধ্যে অগুনিত বার।


  
  
   
      


Creative Commons License
লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্‌স এর CC BY-NC-SA 4.0 আন্তর্জাতিক লাইসেন্স এর আলতায় প্রকাশিত।

বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯

ডেঙ্গু বন্দনা


শহর জুড়ে এডিস উড়ে ভন ভন,
ডেঙ্গু মোদের আকড়ে ধরছে জনে জন,
মরছি মোরা লাইন ধরে একে একে,
ভাবছি সবাই উপায় কি আর বসে বসে।

তুমি বাবু চালাক মানুষ জানি জানি,
পরিবারের নিরাপত্তা তোমার দারুন ভারী।
তাই তো তুমি পেয়েছ উপায় বেশ বেশ,
পাড়ি দিচ্ছো স্বদেশ ছেড়ে দূর বিদেশ!

আমরা নাহয় মরবো স্বদেশে ভুখা নাঙ্গা,
বাবু তুমি বাঁচবে জানি পেরিয়ে গঙ্গা।
তবু যেদিন হিসেব হবে কড়া-গণ্ডা,
খোদারে তুমি দিও হিসেব পাপী-গুণ্ডা!