ডায়েরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডায়েরি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

প্রণয়িনী, তোমায় ঘিরে আমার ভাবনা...

প্রণয়িনী,

এই যে এত বিশাল মহাবিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড, এর মাঝ থেকে যদি কোন কেন্দ্র তৈরী হয় কেবলই আমার জন্যে; তবে সেই কেন্দ্র হচ্ছ তুমি। এই মহাবিশ্বের যে কোণেই আমাকে ছেড়ে দেয়া হোক না কেন, ফের তোমার পানে ফিরে আসবার তাগিদে ছুটে চলবো গ্রহ থেকে গ্রহান্তর। আর সেই যাত্রার বিরতি হবে শুধুমাত্র তোমার মনের আঙ্গিনায়। 

আমি জানি, এই সবই অতিরঞ্জন মনের কল্পনা। বাস্তবতার চাকা যখন তপ্ত মরুর পথ ধরে চলতে শুরু করে, তখন এই আবেগ অনেকটাই উবে যায় স্বেদ-বাষ্পে। কিন্তু তবুও যখন কোন মরুদ্যানের ছায়াতলে শীতল হয় মন, তখন সে শুধু তোমাকেই কল্পনা করে; তোমার কথাই ভাবে। রোদের তাপে তপ্ত এ শরীর যেমনি শীতল পানি পানের সময় তার বয়ে চলা অনুভব করতে পারে; একই ভাবে এই অতৃপ্ত লোভী হৃদয় তোমার কিছুমাত্র স্পর্শ পেলে পুরো অনুভূতি জুড়ে তোমার আনাগোনা অনুভব করে।

ভালোবাসা নামের অনুভূতিটা যবে থেকে বুঝতে শিখেছি, সেই তখন থেকেই আমি বুঝি, 'ভালোবাসা'র মানে হচ্ছো 'তুমি'। বিশাল এক সময় সমুদ্র পার করে যখন তোমার হাতটি ধরেছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম 'ভালোবাসা'র বীজটির অঙ্কুরোদগম শুরু হয়ে গেছে। তারপর ঠিক বুঝে উঠবার আগেই সেটি বীজ থেকে চারা, আর চারা থেকে মহীরুহে রূপ নিয়েছে। তবুও নিজেকে ঢাল বানিয়ে আমি কিছু কাল সেই মহীরুহ ঢেকে রাখবার চেষ্টা করে গিয়েছিলাম। কিন্তু হৃদয় আঙ্গিনায় তোমার আনাগোনায় যে হিম বাতাস বয়ে চলতো, তাতেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে পড়েছিল আমার ঢাল। ভাঙ্গা ঢাল পেরিয়ে সেই মহীরুহ ধীরে ধীরে আমাকেই ঢেকে দিয়েছে তার মায়া মেশানো ভালোবাসার ছায়ায়। আমি দেখেছি, মহীরুহের প্রতিটি পাতায় তোমার নাম, তোমার স্পর্শ, তোমার উপস্থিতি। এরপর আমি আর কোনদিন সেই মহীরুহের ছায়াতল থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি নি। হয়তো ক্ষনিকের জন্যে অভিমানে মহীরুহ পেরিয়ে সামনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রেখেছিলাম। কিন্তু তোমাকে ঘীরে ছায়ার মায়া আবারও আমাকে সেই মহীরুহের দিকেই ফিরিয়ে নিয়েছে। 

কেউ একজন বলেছিল, ভালোবাসা দিনে দিনে ভাগ হয়। আজ যাকে ভালোবাসো, যাকে ছাড়া ভালোবাসা শব্দটাই অচল মনে হয়, চিন্তায় চেতনায় শুধুমাত্র যার অনুভূতিই আজ তুমি অনুভব কর; কাল সেখানে অন্য কেউ আসবে, তোমার সমস্ত অনুভূতি সে চুরি করে মনোযোগ আকর্ষনী মুকুটটা মাথায় দিয়ে তোমার হৃদয় সিংহাসনটা দখল করে নিবে। সে মুহুর্তে কথাটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করলেও, আজ আমি জানি; কথাটা মোটেই মিথ্যে নয়। শূন্য থেকে তিলে তিলে নিজের মধ্যে ধারণ করে, সুদীর্ঘ ক্লিষ্ট পথটি পাড়ি দিয়ে যে উপহারটি তুমি আমার জন্যে নিয়ে এসেছ; সেটি এসেই আমার হৃদয় সিংহাসনটি দখল করেছে, কেড়ে নিয়ে মাথায় দিয়েছে হৃদয় আকর্ষনী মুকুটখানি। হ্যাঁ, আমি সেই উপহারটিও ভালোবাসি। নিজের চেয়ে অধিক নয়, বরং নিজের সমান ভালোবাসি। কিন্তু যার নামে পুরো রাজ্য গড়ে উঠেছে। যে রাজ্যের প্রতিটি নিশানায়, প্রতিটি পতাকায় কেবল তোমার নাম লেখা। সেখানে কেউ মুকুট মাথায় দিলেই ভালোবাসার পূর্ণ দাবিদার হয়ে উঠে না। বরং তার জন্যে ভালোবাসার নতুন হালখাতা তৈরি হয়, তৈরি হয় উপরাজ্য। তোমার জন্যে যে হৃদয় ব্যাকুল করা ভালোবাসা, সেটি ঠিক আগের মতই আছে। অধিকন্তু দিনকে দিন তা ফুলে ফেপে হৃদয় আঙ্গিনা ভরিয়ে তুলছে।

দিনকে দিন কত শত রূপে যে আমি তোমাকে আবিস্কার করেছি, তা কেবল আমিই জানি। আলসে তোমাকে আবিস্কার করেছি,  যে সারাটি দিন বিছানায় নিজেকে বন্দী করে নেয়। আবার কর্মঠ কর্মী রূপেও তোমাকে দেখেছি, যে ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত নিজেকে বিলিয়ে দেয়। বিরক্ত তোমাকে দেখেছি, যে সবকিছু ছুড়ে ফেলে ভেঙ্গে ফেলতে চায়। আবার মায়াময় তোমাকেই আবিস্কার করেছি, যে সবকিছু আগলে নিয়ে মুঠিতে জমায়। দেখেছি মায়াময় জননী রূপে, দেখেছি সেবিকায়, দেখেছি সুনাম প্রতিষ্ঠায়। দেখেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তেজস্বী তোমার প্রতিবাদী রূপ, আবার তার বিপরীতে দেখেছি কারো কোন ছোট অন্যায় নিজের ভালোবাসার চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে। বিশ্বাস কর, তোমার তোমার এই প্রতিটি রূপকেই আমি আমার মত করে ভালোবেসেছি।

তোমাকে হারাবার যে ভয় শুরু থেকে ছিলো; জানো কি, আমি আজও সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারি নি। আজও মনে হয় কোন এক দমকা হাওয়াতে আমি তোমায় হারিয়ে ফেলব। প্রায়ই মনে হয়, নিঝুম রাতটি শেষ করে যে ভোরটি নতুন দিন নিয়ে আসবে; সেই দিনটিতে তুমি হারিয়ে যাবে। যে বাগান ভর ফুলেল ঘ্রাণে আমি বিমোহিত হয়ে থাকি, সেই বাগান শুদ্ধ তুমি হারিয়ে যাবে। পড়ে থাকবে কেবল উদ্যান, আর পড়ে থাকব কেবল এই একলা আমি। আমি এই ভয়টা কোন ভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারি না। তবুও ভোর হলে যখন তোমাকে দেখতে পাই, তবুও দমকা হাওয়ার তোড় কমলে যখন শক্ত মুঠিতে তোমাকে পাই, তবুও চোখ বুজে ফুলেল ঘ্রানে ফুসফুস পূর্ণ করে যখন চোখ মেলে দেখি তুমি এখনো রয়েছ দৃষ্টির সীমানায়। কেবল তখনই মনকে সান্তনা দেই এই বলে, "আজ নয়, আজ আর হারাবে না তুমি"।

আমার এই অর্থহীন আবেগী শব্দের স্রোত তোমাকে কতটুকু স্পর্শ করবে, তা আমি জানি না। জানি না বাক্যের এই মালা আদৌ তোমার মনকে গলাতে পারবে কি না। তবে আমি জানি, এইসব বর্ণের বাইরেও যে ভালোবাসা আছে তা আমার হৃদয়ে অনন্তকাল ধরেই থাকবে। সময়ের গর্ভে আমি বিলিন হবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত তোমাকে নিয়ে এইসব অনুভূতি আমি ধারন করে যাবো। আর আমি বিশ্বাস রাখি, এই নশ্বর জগত পার করে যে অনন্ত জগতে গিয়ে পৌছবো, সেখানেও আমি তোমারই অপেক্ষা করবো, তোমাকেই চাইবো। প্রার্থনা থাকবে সমস্ত ইচ্ছে পূরণকারী সেই মহান স্বত্তা যেন আমার এই চাওয়াকে পূর্ণতা দেন। এই জগতের সকল ভালোবাসার অপূর্ণতা তিনি যেন ঐ জগতে পরিপূর্ণরূপে পূরন করে দেন। 



ইতি
তুমিহীন অপূর্ণ যুবক

ছবিঃ kellerdoll ( মূল ), ractapopulous ( মূল ), ঘষামাজা ( !?! )

বুধবার, ডিসেম্বর ০১, ২০২১

শীত ও বিয়ে! শীতকালীন বিয়ে এবং হিজিবিজি

 


শীত এবং বিয়ে, সম্ভবত এই টপিকটা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর সবচেয়ে বেশি ট্রল হয়ে আসছে। অবশ্য শুধুমাত্র ট্রলকারীদের এককভাবে দোষারোপ কারও উচিৎ হবে না। শীতের এই সময়টাতে সত্যি-সত্যিই বিয়ের ধুম পড়ে যায় দেশজুড়ে। এমনও হয় যে এই মৌসুমটাতে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতে গিয়ে সম্ভাব্য তারিখ গুলোতে মেকআপ আর্টিস্ট বা পার্লার, ক্যামেরাম্যান, বাবুর্চি এমনকি কম্যুনিটি সেন্টারটি গ্রহনসাধ্য হবে কি না কিংবা অন্য কোন আত্নীয়দের একই দিনে ঠিক করে রাখা কোন অনুষ্ঠান আছে কি না -- এই সবকিছুর উপর নির্ভর করতে হয়! এমনও হয় যে কম্যুনিটি সেন্টারে একই দিনে একই ফ্লোরে দুটি অনুষ্ঠান বুক করতে হয়, সেক্ষেত্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একজনের জন্য বরাদ্দ হলে সন্ধ্যা থেকে রাত বরাদ্দ পায় অন্যজন। এক অনুষ্ঠানের অতিথিরা কম্যুনিটি সেন্টার ত্যাগ করবার আগেই অন্য অনুষ্ঠানের অতিথিরা এসে অপেক্ষা শুরু করে। আবার একই দিনে দু'জন আত্নীয়ের অনুষ্ঠান পড়ে গেলে মেহমান কোনটি রেখে কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবে তা মনস্থির করতে দ্বিধা-দন্দে পড়ে যায়। 

সে যেমনই হোক, "শীত এবং বিয়ে"-র এই মেলবন্ধন কিন্তু অযৌক্তিক নয়। বরং হিসেব করলে দেখা যাবে এর পেছনে যৌক্তিক কারণটাই মূখ্য বিষয়। আজ সেইসব বিষয় নিয়েই একটু বলা যাক। 


মেহমানদের উপস্থিতি

যে কোন অনুষ্ঠানের জন্যেই মেহমানদের উপস্থিতি বিশেষরকম গুরুত্ব বহন করে। দেখা যায় যে আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শীতের এই সময়টাতে একটু ঢিলেঢালা ভাব থাকে। বার্ষিক ছুটি, পরীক্ষার ছুটি, মিড বা সেমিষ্টার ফাইনাল এক্সাম শেষ হয়ে নতুন সেশন শুরু হয় এই সময়টাতে, তাই ইচ্ছে হলেই ২/৪ দিনের জন্যে কোন অনুষ্ঠানে সে সময়টাতে উপস্থিত হওয়া যায়। তাছাড়া বেশিরভাগ প্রবাসীদের এই সময়টাতে দেশে আসবার সুযোগ ঘটে, তাই পরিবার নিয়ে এমন একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং প্রায় বাকি সকল আত্নীয়দের সাথে দেখা করবার দারুণ একটা সুযোগ পায় তারা। সেই সুবাদে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহমানদের উপস্থিতি বছরের অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি থাকে। 

মুখরোচক খাবার

আপনি স্বীকার করুন চাই না করুন, বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হয় খাবার! বছরের অন্য সময়ে বিয়ের আয়োজন করলে খাবারের গুণগত মান ও স্বাদ ঠিক রাখতে যতটা কাঠখর পোড়াতে হয় তা শীতের মৌসুমে অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। অতিরিক্ত বা একটু লম্বা সময় নিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে এই সময়টাতে ঝাক্কিঝামেলা অনেক কম পোহাতে হয়। শুধু মূল অনুষ্ঠান নয়, বরং এই সময়টাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মেহমানদের জন্যে নানা পদের সুস্বাদু খাবার রান্না হয়ে থাকে। অন্য দিকে শীতের এই মৌসুমে প্রচুর সবজি পাওয়ার কারণে নানান আইটেমের খাবার পরিবেশন সহজ ও খরচ সহায়কও হয়ে থাকে। গ্রামের দিকে দেখা যায় হলুদ অনুষ্ঠান কিংবা মূল অনুষ্ঠানের সকলের দিকে মেহমানদের খিচুরি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আর সেই খিচুরিতেও ব্যবহার হয় নানান ধরনের মৌসুমী সবজি। অন্যদিকে শীতের এই সময়টাতেই চলে পিঠা উৎসব। বিয়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষ অতিথি এবং উভয় পক্ষ একে অপরকে বাহারি রকম আঞ্চলিক পিঠা উপহার হিসেবে দিয়ে থাকে। আর সত্যি বলতে কিনে খাওয়া পিঠার চেয়ে এইসব পিঠার স্বাদ হাজারগুণ ভালো হয়। ছোটবেলায় দেখতাম বিয়ের আগে বেয়াই বাড়িতে পিঠা উপহার দেয়ার জন্যে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবার দিন পনের আগে থেকেই চাল ভাঙ্গানো কিংবা চাচী-ফুপুরা সবাই মিলে নকশী পিঠা তৈরী করছে মহোৎসবে। 

আবহাওয়া ও পরিবেশ 

আবহাওয়া বিয়ের আনুষ্ঠানিতকায় কত বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে তা যে নিজে এমন বিরূপ অবস্থায় না পড়েছে সে অনুধাবনও করতে পারবে না। সুন্দর সাজগোজ করে বিয়েতে উপস্থিত হলেন, এর মাঝে শুরু হলো বৃষ্টি কিংবা দারুন তাপদাহ। অবস্থাটা ভাবুন একবার। সুন্দর পরিহীত পোষাকটা তখন সাপটে থাকবে আপনার সাথে; চুপচুপে ঐ পোষাকে থাকলে যতই দারুন আপ্যায়ন কিংবা খাবার হোক না কেন, কোনটাই আপনাকে স্বস্তি দিতে পারবে না। তাছাড়া শেরওয়ানি কিংবা সুট আর দামী দামী ভারী সব বিয়ের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গাতে বর-কনে‌'র যে কি অবস্থা হয়, তা একমাত্র তারাই বলতে পারবে। এর সাথে যুক্ত হয় ক্যামেরার অসহনীয় উজ্জ্বল ও তপ্ত লাইট; ঐ সময়টা মনে হয় প্রখর রৌদ্রে কেউ জোর করে গাড়ি থেকে উত্তপ্ত পিচের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। 

এছাড়া এই সময়টাতে মেহমানদের ম্যানেজ করাও কিছুটা সহজ হয়। অন্য সময়টাতে একত্রে অনেক মানুষ জমায়েত হলে দেখা যায় কয়েকটি ফ্যান কিংবা এসিও সেখানে পর্যাপ্ত ভাবে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে পারে না। সেদিক থেকে শীতের এই সময়টা অনেকটাই সুবিধা প্রদান করে। এমনও হয় যে হোষ্টের বাড়ির বিছানা সরিয়ে সেখানে ঢালাও ভাবে ফ্লোরে বিছানা পাতা হয়। আর আমন্ত্রিত অতিথিরাও আনন্দ চিত্তে সেই বিছানা দখল করে নিচ্ছে। যদিও লেপ কিংবা কম্বল ভাগে পাওনা নিয়ে অনেকেই অনেক অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই একত্রে ঢালাও বিছানায় সবাই মিয়ে শুয়ে শুয়েও রাতভর গল্প করবার একটা দারুন সুযোগ পেয়ে বসে। আর অনেকের কাছে এই সুযোগটাও একটা গোল্ডেন মেমরি হয়ে রয়।

কনের সাজ

পাড়া-প্রতিবেশী আর বেশ কিছু আত্নীয়-স্বজন যে বিয়ের দিনে কনের সাজ‌'টা কেমন হলো তা নিয়ে জাজ করে তা আশা করি আপনাদের আর নতুন করে বলতে হবে না। কিন্তু এই সাজ বা মেকআপ ধরে রাখা কিন্তু সহজ কোন বিষয় না। এমনকি শীতের এই সময়টাতেও মেকআপ নিয়ে স্টেজে বসলে দেখা যায় পাশ কনের এই মেকআপ ঠিক রাখতে একজন হেল্পিং হ্যান্ড প্রয়োজন পড়ছে। গরমে তো সেই ঘটনাটা হয় আরও ভয়াবহ। 

বাহারি রকম ফুল

শীতে নানান সবজীর মত দেখা মেলে বাহারি রকম ফুলের। বছরের অন্য সময়টাতে প্রয়োজন মত ফুল পাওয়া না গেলেও এই মৌসুমটাতে প্রচুর ফুল পাওয়া যায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় এটি মেজর কোন ইস্যু না হলেও এটি একটি একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার বিয়ের আনুষ্ঠানিক সাজসজ্জার ব্যাপারে। 

পরিশ্রম ও ক্লান্তি

একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে এত এত কাজ থাকে যে সময়মত একটু বিশ্রামেরও ফুরসত মেলে না। আগে দাদী-নানীরা বলতো 'বিয়ে করা আর ঘর করা সমান খাটনি'; মানে একটা ঘর বা বাড়ি বানাতে যে ইফোর্ট দিতে হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতেও সেই একই ইফোর্টের প্রয়োজন পড়ে। এখানে মূল অনুষ্ঠানের মাস খানিক আগে থেকেই শুরু হয় ছোটাছুটি। আর তা শেষও হয় বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের অন্তত ৫‌/৭ দিন পরে। আর এই সময়টাতে টানা চলতে থাকে একটা না একটা কাজ। বাড়ির মহিলারা সেই ভোর থেকে ভোররাত পর্যন্ত ঘরের মেহমান সামলাবার কাজ করে, আর পুরুষরা আনুষ্ঠানিকতার বাকি সব দেখভাল করতে করতেই সময় পার করে। বছরের অন্য সময়টাতে অনেকেই এত লম্বা সময় সমানতালে কাজ করতে পারে না, কিংবা অনেকেই কাজের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে তুলনায় শীতের এই ঠাণ্ডা সহজেই এই পরিশ্রমের ক্লান্তিকে কমিয়ে নিয়ে আসে, আর ক্লান্তিও দূর করে নিমিষে। 



'শীত এবং বিয়ে' নিয়ে মানুষ যতই হাসাহাসি করুক, ট্রল করুক, কৌতুক বলুক দিন শেষে উপরোল্লিখিত বিষয় গুলো আপনি মোটেই অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। যে বা যারা ট্রল করছে, হাসাহাসি করছে তাদেরও যদি জিজ্ঞাস করা হয় তার স্মৃতিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিয়ের অনুষ্ঠান কোনটি, তাহলে দেখা যাবে সেটিও কোন এক শীতে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠান। অথবা জিজ্ঞাস করলে তাদের মধ্যে অবিবাহিত বড় একটা সংখ্যাই হয়তো শীতেই বিয়ে করতে চাইবে। 

সে যাই হোক, 'বিয়ে' এবং বিয়ের 'অনুষ্ঠান'টি হোক সকলের জন্যে আনন্দদায়ক উপভোগ্য একটি ঘটনা সমৃদ্ধ স্মৃতি। বিয়ে হোক নতুন ও পুরাতন সকল আত্নার আপন আত্নীয়দের মিলনমেলা। এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করে আজকে এখানে ইতি টানলাম। 

বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২০

ফিরে যায় আলোর মশাল



শয়তানের দোসর হয়ে ওরা এসেছিলো সর্স্তপণে
মুঠি মুঠি শাপ-সন্দেশ বিলিয়েছিলো সমাগমে
কেউ হাত বাড়িয়ে নিয়েছিলো, তো কেউ লুকিয়ে
আর বাকিরা নিয়েছিলো অজান্তে, অনিচ্ছায় আর অসতর্কে

অতঃপর সবাই মিলে সন্দেশের মিঠাই চেটেপুটে খেয়েছিলো।

যতক্ষণে ঐ সন্দেশ তাদের পেটে পাক ধরিয়েছিলো
ততক্ষণে ওরা বিনিময়ের বিপণি খুলে বসেছিলো
হাজার হাজার বিনিময় ছিলো সেখানে,
রূপ, যৌবন, বিত্ত কিংবা বৈভব --কোনটারই কমতি ছিলো না

ওরা জনে জনে, আর গুনে গুণে এইসবই বিনিময় করে যাচ্ছিলো।

এরমাঝেই এক সাধু ধ্যান ভেঙ্গে ফিরেছিলো
উচ্ছাসে, উশৃঙ্খলে, আর অহংকারে অন্ধ অমানুষ সে দেখেছিলো
পড়ে থেকে গলে যাওয়া ভাববাদীর লাশ সে পেয়েছিলো
মোড়ে মোড়ে ডেকে যাওয়া খাদিমের আহ্বান সে শুনেছিলো

সাবধানে, নিঃশব্দে আর নিস্তব্দে সাধু ঐ লোকালয় ছেড়েছিলো।

এরা সব অন্তর পচে যাওয়া অর্ধমৃত নরকের পোকা
এরা সব ধর্ম-পিতার অন্তর খুবলে খাওয়া লোভী কীড়া
এরা সব পয়গম্বরকে নিজ পায়ে পিষে মারা পাপী
এরা সব মুন্ড ছাড়া লাফিয়ে চলা বোকচন্দর জাতী

আর এদের কৃতকর্মে ত্যাক্ত হয়েই আলোর মশাল সেবারে আলো না ছড়িয়েই ফিরেছিলো।
 
  

রবিবার, আগস্ট ১১, ২০১৯

মজার ছবি-ব্লগঃ ভাস্কর্যের সাথে তাহারা! (দ্বিতীয় পর্ব)

জীবনে আনন্দের সঙ্গা ব্যক্তি  ভেদে ভিন্ন। কেউ আনন্দে জীবনটাই কাটায়, তাকে বাইরে আর নতুন কিছুর খোঁজ করতে হয় না। আর কেউ আনন্দের অপেক্ষায় জীবনটা পার করে দেয়। আর কেউ কেউ নিজের আনন্দটাকে নিজেই তৈরি করে নেয়। এমনই কিছু ব্যক্তি যারা নিজেদের আনন্দ নিজেরাই খুঁজে নিতে জানে তাদের কিছু ছবি ছড়িয়ে আছে আর্ন্তজালিকার নানা কোন জুড়ে। আজকের আয়োজন তেমনি কিছু আনন্দময় দুষ্টামিতে ভরপুর ছবি নিয়ে। ভালোকথা, এই মানুষগুলোর সাথে ছবিতে অংশগ্রহণ করেছে বেশ কিছু ভাস্কর্য। চলুন দেখে নেয়া যাক তাদের সম্মিলিত দুষ্টুমি যুক্ত প্রতিভা...

চলো আমরা আমাদের ডান্স মুভ দেখিয়ে দেই!

ফের যদি স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে বসতে দেখি, তোমার আম্মুকে একদম পুরো ঘটনা বলে দিবো। হুহ্‌

জিগরি দোস্ত! কত্ত দিন পর তোর সাথে দেখা!! আয় বুকে আয় ভাই... 

দেখলা দেশের অবস্থা! দেশটা পুরোই রসাতলে যাচ্ছে...

অনেক ফাঁকিবাজি করেছিস। বাসায় চল, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন...

আইনস্টাইন সাহেব, চলেন একটা সেল্ফি নেই। কাল ইন্সটাগ্রামে আপলোড দিবো!

দুষ্ট মেয়েদের সাথে আর মিশবি? বল! মিশবি?

উম্ম্ম্ম্ম্ম্ম্ম্মআ! 😝

প্লিজ! প্লিজ!! আমি আর কোনদিন ডিম খাবো না, প্লিজ! আমাকে ছাড়ো!!

প্রিয়তমা, কেবল তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষায় পাথর বনেছি...

এরপর থেকে পপকর্ণ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে না ফেলে এক জায়গায় ফেলবি,
আর আমার ভাগে যেন ভুলেও কম না পড়ে...

চল, তোমাকে শপিং-এ নিয়ে যাই...

দূরবিনে খুঁজে লাভ নেই, আমি এখানেই, তোমার পাশে...

বুঝলে! ঐ যে দিনের ঘটনাটা বললাম না। তারপর কি হয়েছে জানো....

লেটস্‌ ফাইট! ভিসুম...!

লেডিস, আই ক্যান হোল্ড ইয়্যু বোথ ইন মাই আর্ম!

তারপর দাদু, তারপর কি হয়েছিলো..?

আআআআআআআআআআ.........

না! তোমাকে ওদের সাথে যেতে হবে না। তুমি আমার সাথেই খেলা কর!

হা হা হা ‍হা! আজ পেয়েছি বাগে....!

এই যে, এইভাবে জোড়ে ঘুসি দিবা একদম

আই লাভ চিকেন 😁

হাই ফাইভ!!










 ………………………………………………………
পিক কার্টেসিঃ স্ব-স্ব ফটোগ্রাফার
পিক সোর্সঃ Google Image Search
Pinterest.com
imgur.com

মঙ্গলবার, আগস্ট ০৬, ২০১৯

ঝামেলা ছাড়াই বড় ফাইল গুলো পাঠিয়ে দিন তার গন্তব্যে

ইন্টারনেটে কাউকে কোন কিছু পাঠাবার সবচেয়ে জনপ্রিয় আর গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো ইলেকট্রনিক মেইল ওরফে ই-মেইল। এখনো জরুরী যে কোন জিনিষেরই আদান প্রদাণ হয় এই ই-মেইল মাধ্যমে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ই-মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে পাঠানো ফাইল সাইজের লিমিট। অধিকংশ মেইল প্রোভাইডর মেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে ২০ মেগাবাইট থেকে ১০০ মেগাবাইট পর্যন্ত সাইজের ফাইল পাঠাবার সুযোগ দিয়ে থাকে। এর চেয়ে বড় সাইজের ফাইল হলে তখন বিপাকে পড়তে হয়।

আবার অধিকাংশ ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে ফাইল প্রেরণের পূর্বে তাদের সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। অনেক সময় এই বাড়তি ঝামেলাটা পোহাতে ইচ্ছে হয় না।

আর এই সমস্যা গুলো থেকে উত্তরণের জন্যে আজকের এই লেখাটি। এখানে এমন কয়েকটি ফাইল-শেয়ারিং সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো ব্যবহারের জন্যে আপনাকে কোন ধরণের সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে না। প্রয়োজন হবে না কোন ধরণের বাড়তি রেজিস্ট্রেশনের। আর সার্ভিস ভেদে আপনি ১ গিগাবাইট থেকে ৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ফাইল আদান-প্রদাণ করতে পারবেন একদম বিনামূল্যে।

তো চলুন ঝটপট এমন কিছু সার্ভিস দেখে নেয়া যাক!


Firefox Send

মোজিলা ফায়ারফক্স এর একটি অতিরিক্ত সুবিধা এই Firefox Send। এই সুবিধাটি ব্যবহার করে আপনি যে কোন ধরণের ফাইল অতি সহজেই আদান প্রদান করতে পারবেন। Firefox Send ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে আপনার ফাইলটি দ্রুততর সময়ের মধ্যে আদান-প্রদাণ করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ২.৫ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের সময় হতে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা থেকে ৭ দিন পর্যন্ত।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ ১ হতে ১০০ সংখ্যক নির্ধারিত করে দেয়া ডাওনলোড।

We Transfer

২০০৯ সাল থেকে We Transfer তাদের এই সেবাটি প্রদাণ করে আসছে। সহজে কোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সরাসরি আপনি আপনার ফাইলটি এই পরিষেবার মাধ্যমে আদান-প্রদান করতে পারবেন।
  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ২ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Transfernow ফাইল শেয়ারিং সার্ভিসটি ২০১৩ সাল থেকে তাদের এই সেবা দিয়ে আসছে। Transfernow বিনামূল্যে এবং মূল্য পরিশোধিত – দু’ধরণের সার্ভিসই প্রদাণ করে থাকে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারী বিনামূল্যেই Transfernow এর মাধ্যমে তার ফাইলটি পাঠাতে পারবে। Transfernow ব্যবহার করে ফাইল ডাওনলোড করার জন্যে আপনি সরাসরি লিংক নিতে পারেন, অথবা তাদের সাইট থেকেই প্রাপকের কাছে মেইলটি পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৪ গিগাবাইট।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ফাইল আপলোডের দিন হতে পরবর্তী ৭ দিন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


pCloud Transfer


২০১৩ সাল থেকে এই সুইস সার্ভিসটি ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যকাআপ করার সুবিধা দিয়ে আসছে। বিনামূল্যের সার্ভিসের সাথে এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সব পেইড সার্ভিস। তবে দ্রুত ফাইল আদান-প্রদাণের জন্যে বিনামূল্যে এই সার্ভিসটিও ব্যবহার যোগ্য। পাশাপাশি ফাইল আদান-প্রদাণের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে আপনি আপনার ফাইল গুলো এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ৫ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ অপ্রকাশিত / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ প্রযোজ্য নয়।


Mediafire

ফাইল শেয়ারিং এবং ব্যাকআপ হিসেবে খুব পরিচিত একটি নাম হলো Mediafire। যারা ইতোপূর্বে অনলাইনে ফাইল সংরক্ষণ কিংবা শেয়ার করেছেন তারা অবশ্যই Mediafire সম্পর্কে ধারণা রাখেন। ২০০৬ সাল থেকে Mediafire তাদের সার্ভিস প্রদাণ করে আসছে। যদিও Mediafire এর মূল সেবা পেতে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তবুও রেজিস্ট্রেশন ব্যতিতই দ্রুত ফাইল আদান প্রদানের জন্যে আপনি Mediafire ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ফাইল সাইজ লিমিটঃ ১ গিগাবাইট / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে ১০ গিগাবাইট বিনামূল্যে।
  • ফাইল সংরক্ষণের মেয়াদঃ ১৪ দিন / রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে লিমিট বিহীন।
  • ডাওনলোড লিমিটঃ উক্ত সময়ের মধ্যে অগুনিত বার।


  
  
   
      


Creative Commons License
লেখাটি ক্রিয়েটিভ কমন্‌স এর CC BY-NC-SA 4.0 আন্তর্জাতিক লাইসেন্স এর আলতায় প্রকাশিত।

বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯

ডেঙ্গু বন্দনা


শহর জুড়ে এডিস উড়ে ভন ভন,
ডেঙ্গু মোদের আকড়ে ধরছে জনে জন,
মরছি মোরা লাইন ধরে একে একে,
ভাবছি সবাই উপায় কি আর বসে বসে।

তুমি বাবু চালাক মানুষ জানি জানি,
পরিবারের নিরাপত্তা তোমার দারুন ভারী।
তাই তো তুমি পেয়েছ উপায় বেশ বেশ,
পাড়ি দিচ্ছো স্বদেশ ছেড়ে দূর বিদেশ!

আমরা নাহয় মরবো স্বদেশে ভুখা নাঙ্গা,
বাবু তুমি বাঁচবে জানি পেরিয়ে গঙ্গা।
তবু যেদিন হিসেব হবে কড়া-গণ্ডা,
খোদারে তুমি দিও হিসেব পাপী-গুণ্ডা!
  
   
     
      
   

শুক্রবার, জুন ২১, ২০১৯

চাঁদের পথে...



চাঁদের সাথে পথ ধরে হেটে যেতে নেই কোন বাধা। বরং যুগে যুগে বহু মানুষ এই চাঁদের মায়ায় ডুবে সংসার ছেড়ে পথ হেঁটেছে চাঁদের পেছনে পেছনে। কেউ হয়েছে বৈরাগি, কেউ সন্যাসী আবার কেউ গিয়ে ঠেকেছে নির্জনে-মৃত্যুতে। গল্পে, কবিতায়, ভালোবাসা কিংবা অক্ষমতার আক্ষেপের বিক্ষিপ্ত বহিঃপ্রকাশে চাঁদ বরাবরই মানুষকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। সেই অনাদিকাল থেকে এখন অব্দি মানুষ চাঁদকে দেখে নিজের ভেতরকার উদাসীনতা অনুভব করে। নিজের মনের কোমলতাকে চাঁদের কোমল আলোর সাথে তুলনায় মেপে দেখে। ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৫৫ মাইল দূরে থেকেও কি অদ্ভুত মায়াতেই না চাঁদ আমাদের বিমুগ্ধ করে রেখেছে।

সবার মত আমিও চাঁদের সাথে পথ হেটে হারাতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম চাঁদের মায়ায় ডুবে লোকান্তর ত্যাগ করে সন্যাসী হতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, চাঁদ তার নেশা ধরিয়ে তার পিছু পিছু হাটিয়ে নিলেও কখনো হারিয়ে যাবার পথ বলে দেয় না। সে যেখানে নিয়ে যায় তারও একটা না একটা পরিচয় থাকে। সেখানেও কোন না কোন ভাবে অন্য কারও পৌছবার পথ জানা থাকে। ভিন পথে হাটিয়ে ভিন্ন করেও শেষ পর্যন্ত আবারও মিলের খাতায় ঠিকই জুড়ে দেয় সে। চাই তার ঠিকানা হোক মরু কিংবা মেরুতে। কেউ না কেউ ঠিকই সেখানে পৌছে যাবে। এই ভেবেই আর শেষ পর্যন্ত চাঁদের পেছনে আমার হারানো হয়নি।

তবে কি তাই ভেবে চাঁদের পিছু ছোটায় মানুষ খ্যান্ত দিবে? না, তা মোটেই হবার নয়। চাঁদে যে পথে হাটিয়ে নিয়ে যায় সে পথ সে প্রতিটা মানুষের জন্যেই আলাদা করে রাখে। দু'জন মানুষ একই পথে চাঁদের পিছু হেঁটেও কখনো এক পথের পথিক হয় না। তার প্রতিটি পথেই দেখা মেলে নতুন কোন নক্ষত্রের, যার প্রজ্বলনে মুসাফিরের অন্তর প্রজ্জলিত হয়। পথের প্রতিটা মোড়েই কোন না কোন কৃষ্ণগহবর তার গল্প নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। যারা শোনার, তারা ঠিকই সেই গল্প শুনতে পায়। সেই গল্পের ভাব তাদের অন্তরকে আরও প্রসস্ত করে, করে তোলে আরও গভীরতর।  আর ঐ গল্প ঐ একটি মাত্র মানুষ ছাড়া দ্বিতীয় কেউ কোনদিন কোনকালে শুনতে পায় না।

এখানেই কি শেষ? না, এখানেও তাদের অন্তর তৃষ্ণা তৃপ্ত হয় না। তারা ছুটে যায় চাঁদের কাছে। খুব কাছ থেকে, একদম নিবিড় ভাবে তারা অনুভব করতে চায় চাঁদকে। কিন্তু সেখানেও নিয়েও চাঁদ মুচকি হাসে। তারা তো চাঁদে ছুয়ে দেখে ঠিকই, কিন্তু তার কোমলতার পেছনে যে রহস্য, তার আকর্ষণের পেছনে যে হাতছানি; তার হিসেব তারা কোন ক্যালকুলেশনেই মিলাতে পারে না। শেষ পর্যন্ত মনে আরও বেশি আক্ষেপ নিয়ে, অভিমানে মনকে পূর্ণ করে ফিরে আসে ধরণীর বুকে। অথচ নিজের বুকের মাঝে তখনও চাঁদের পিছুনে ছুটে যাবার ইচ্ছাকে দমন রাখতে পারে না।

তবুও আমি কিংবা আমরা বেহায়াপনার চুড়ান্ত করে বারংবার চাঁদের পিছনে হেঁটেছি। চাঁদের পূর্ণতায় নিজের পূর্ণতার রূপ খুঁজেছি, চাঁদের হারিয়ে যাওয়ায় নিজের মাঝে নিজেকে হারিয়ে দেখেছি। ফের যখন গোস্বা ছেড়ে চাঁদ আবারও আকাশের বুকে উঁকি দিয়েছে, আমরাও আমাদের মাঝে হারিয়ে ফেলা আসল আমিটাকে খুঁজে ধরে আবারও চাঁদের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আর বারংবারই নতুন চাঁদের মত নিজের মধ্যে নতুন কিছুই খুঁজে পেয়েছি। অবাক হয়েছি, যেমন করে প্রতিবারই পুরানো চাঁদকে নতুন করে দেখেও কিছু দেখা অপূর্ণ রয়ে গেছে, তেমনি নিজের মধ্যে নিজেকে আবিস্কার করতে গিয়ে প্রতিবারই বুঝতে শিখেছি আমার মধ্যে আমাকে দেখাও এখনো অপূর্ণই রয়ে গেছে।

তারপর? তারপর চাঁদের কাছে শিখেছি জীবনটার জোয়ার-ভাটার প্রয়োজনীয়তা। চাঁদ যেমন করে জোড়ারে দুনিয়ার সবকিছু নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। তেমনি আমরাও আনন্দ আর উল্লাসের তিব্রতায় আমাদের সবকিছু নিয়েই ব্যাকুল হয়ে পড়ি। আমাদের জোয়ারের ঐ সময়টাতে সবচেয়ে তুচ্ছ ব্যাপারও আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। অযথাই হাসি ঠাট্টায় সব দুরুত্ব ঘুচিয়ে কাছে টেনে নিতে থাকি প্রিয়জনদেরকে। আবার ঠিক ভাটার মত করে তার উল্টোটাও করতে থাকি। তখন মনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিদ্বেষে সব দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিতে থাকে। গোছানো সব জিনিষই তখন ছুড়ে দিয়ে তছনছ করার ইচ্ছে জেগে উঠে। হয়তো মাঝে মাঝে মনের ভাটার পরিমানও বেড়ে যায়। আর তখন ইচ্ছেটা কেবল ইচ্ছেতে সীমাবদ্ধ থাকে না, তখন সেই ইচ্ছে আমাদের রাগ, আমাদের বদমেজাজ রূপে প্রকাশ পেতে থাকে। ছুড়ে ছিটিয়ে কটু কথার বানে দূর থেকে দূরে সরিয়ে দেয় প্রিয় মুখ গুলোকে।

এরপর? এরপর হয়তো কোনদিন সকল পিছুটান উপেক্ষা করে একদিন চাঁদের পিছু তার পথে হেঁটে বেড়াবো। কিংবা বাকি সবার মতই আমৃত্যু আক্ষেপ নিয়ে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবো...



বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

ইমেজ অপটিমাইজেশন এর জন্যে ওয়েব এ্যাপ


আমরা সকলেই নিজ নিজ গল্প, কবিতা, ছন্দ, ভাব কিংবা লেখার সাথে মিল রেখে অন্তত একটি ছবি পোষ্টের সাথে জুড়ে দেই। এই ছবি জুড়ে দেয়ার ব্যাপারটির গুরুত্ব আশা করি নতুন করে বলতে হবে না। এটি একাধারে যেমন আপনার লেখাটিকে নতুন একটি মাত্রা প্রদাণ করে তেমনি লেখাটির গ্রহণযোগ্যতা আর তার আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। অনেক সময় দেখা যায় পাশাপাশি কয়েকটি লেখা। কিন্তু একটি লেখার সাথে ছবি জুড়ে দেবার কারণে সেই পোষ্টটিই মানুষকে বেশি আকর্ষণ করছে বাকি গুলোর তুলনায়; যদিও বাকি লেখা গুলোও বেশ মানসম্মত। তাছাড়া আমাদের সবজান্তা গুগল মামারও এই ছবি সম্বলিত পোষ্টের দিকে বিশেষ দূর্বলতা আছে বলেই গোপন এক সংবাদে জেনেছি। 

কিন্তু কথা সেটা নয়। আমরা একটু চেষ্টা করলেই নিজের লেখার সাথে মিল রেখে ব্লগ পোষ্টে ছবি আপলোড করতেই পারি। সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের আপলোড করতে চাওয়া ছবির 'সাইজ'। আসলে এইখানে সাইজ শব্দটাকে দুই ভাবে উপস্থাপন করা যায়। এক হচ্ছে এর দৈর্ঘ-প্রস্থের মাপ যাকে আমরা সহজ ভাবে রেজুল্যুশন বলেই চিনি। আর অন্যটি হলো ঐ ছবির ফাইলটির দখল করা মেমরি স্পেস। 

ব্যাপারটা আরও একটু সহজ করে বলার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের প্রায় সকলের হাতে রয়েছে একটি করে স্মার্টফোন। এখন আপনি আপনার স্মার্টফোনটির ক্যামেরা এ্যাপ চালু করে তার সেটিংস এ গেলেই দেখতে পাবেন আপনার ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্যে কয়েক ধরণের সুবিধা রয়েছে। এই যেমন আপনার স্মার্টফোনটির ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল হলেও চাইলে আপনি সেটি দিয়ে ৮ মেগাপিক্সেল কিংবা ৫ মেগাপিক্সেল সেট করেও ছবি তুলতে পারবেন। এখন আপনি ৫ মেগাপিক্সেলে ছবি তুললে তার দৈর্ঘ  হবে ২৫৬০ এবং প্রস্থ হবে ১৯২০ পিক্সেল। আবার ৮ মেগাপিক্সেল সেট করে ছবি তুললে তার দৈর্ঘ হবে ৩২৬৪ এবং প্রস্থ হবে ২৪৪৮ পিক্সেল। সাধারণ ভাবেই বোঝা যাচ্ছে ৫ মেগাপিক্সেল এর তুলনায় ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে ছবি তুললে তাতে বেশি পরিমাণ ডেটা সংরক্ষিত হবে আর ছবিটি ৫ মেগাপিক্সেলের তুলনায় আরও বেশি স্পষ্ট থাকবে। সেক্ষেত্রে ৫ মেগাপিক্সেলে তোলা ছবিটি যদি ২.৫ মেগাবাইট মেমরি স্পেস দখল করে তবে ৮ মেগাপিক্সেল ছবিটি দখল করবে ৩ থেকে ৫ মেগাবাইট পর্যন্ত মেমরি স্পেস। 

এখন চলুন একটি হিসেব করি। ধরলাম আপনি আপনার মোবাইলে ৮ মেগাপিক্সেল দিয়ে তোলা একটি ছবি আপনার পোষ্টের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আরও ধরে নিলাম ছবিটি ব্লগ সাইটের ৫ মেগাবাইট মেমরি দখল করল। এখন কেউ যখনই আপনার পোষ্টটি পড়বে কিংবা ব্রাউজারে লোড করবে তখনই ব্লগ এর ব্যান্ডউইথ থেকে ৫ মেগাবাইট খরচ হতে থাকবে। এখন যদি আপনার পোষ্টটি ১০০ জন পাঠক পড়ে থাকে কিংবা ১০০ বার আপনার পোষ্টটি হিট হয় তাহলে গড়পড়তা আপনার পোষ্টের জন্যে ব্লগের ব্যান্ডউইথ খরচ হবে ৫ x ১০০ = ৫০০ মেগাবাইট। এটা শুধুমাত্র একটি  নির্দিষ্ট পোষ্টের নির্দিষ্ট ছবির হিসেব। এখন চিন্তা করুন এমন ১০০টি ছবি যদি কোন ব্লগে আপলোড করা থাকে তাহলে সবগুলো ছবি মিলিয়ে ব্লগ স্পেস থেকে দখল থাকবে ৫০০ মেগাবাইট আর তার বিপরীতে ১০০ জন ভিজিটর ছবি গুলো দেখলে গড়পড়তা ব্যান্ডউইথ খরচ হবে প্রায় ৫০০ x ১০০ = ৫০০০০ বা  প্রায় ৫০ গিগাবিট। পাবলিক ব্লগে ৫০ গিগাবিট ব্যান্ডউইথ কিন্তু একদম ফেলে দেবার মত হিসেব না। 

তো এর থেকে পরিত্রাণের উপায়? ছবি বিহীন পোষ্ট??

না, আমি মোটেই সে কথা বলছি না। বরং আমি অবশ্যই আপনাদের ছবি সম্বলিত পোষ্ট দেবার জন্যে উৎসাহিত করবো। তার বিপরীতে আমরা কিছু টেকনিক ব্যবহার করলেই এই বিষাল(!) ব্যান্ডউইথ কমিয়ে আনতে পারি। আর সেই টেকনিকটির নাম ইমেজ অপটিমাইজেশন। 

ইমেজ অপটিমাইজেশন নিয়ে লিখতে বসলে সেটা নিয়েই বেশ বিষাল আকারের একটা পোষ্ট করা যাবে। হয়তো চেষ্টা করলে পোষ্টের সিরিজও তৈরি করা সম্ভব এই টপিকে। আপাতত আমি সেই দিকে গেলাম না (কিংবা বলা যায় ইচ্ছে করে চেপে গেলাম, কারণ বলতে গেলেই খালি কলসির ঢ‍ং ঢং আওয়াজ বের হয়ে আসবে কি না 😋)।




ইমেইজ আপটিমাইজ আসলে দু ভাবে করা যায়। মূল ছবির দৈর্ঘ আর প্রস্থের পিক্সেলের পরিমাণ (রেজুল্যুশন) কমিয়ে এনে অপটিমাইজ করা কিংবা ছবির সাইজ ঠিক রেখে একে কিছুটা কমপ্রেস করা। অনেক ধরণের টুল কিংবা সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজটি করা যায়। চাইলে আপনি Adobe Photoshop দিয়েও যেমন কাজটি করতে পারেন তেমনি আবার ফ্রি ওপেন-সোর্স সফটওয়্যার GIMP দিয়েও ইমেজ কমপ্রেস করে নিতে পারেন। তবে আপাতত আমি ডেক্সটপ ভিত্তিক সফটওয়্যারের দিকে না গিয়ে আরও একটু সহজ আর কম টোকাটুকিতে কাজ সাড়া যায় এমন পদ্ধতির দিকে আপনাদের মনযোগ টেনে নিচ্ছি। 

ডেক্সটপ, ল্যাপটপ কিংবা স্মার্টফোন যে কোন ডিভাইসেই আপনি আপনার ব্রাউজারের সহায়তা নিয়ে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইনে বেশ কিছু ইমেজ অপটিমাইজ করার ওয়েব এ্যাপ রয়েছে। আমরা এগুলোর সহায়তা নিয়ে খুব সহজেই ছবির ক্ষতি না করে (ঘোলা কিংবা অতিরিক্ত ছোট করে পিক্সেল নষ্ট করা) ছবির সাইজ কমিয়ে আনতে পারি। 

সাধারণত ব্লগ পোষ্টের জন্যে ছবির আদর্শ মাপ ধরা যায় দৈর্ঘে ১২০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৬৭৫ পিক্সেল (রেশিও ১৬:৯)। কিংবা ছবির ছোট আকারের জন্যে দৈর্ঘে ৬০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৩৩৫ পিক্সেল। এই মাপটিকে আদর্শ বলার কারণ হল, এই মাপের ছবি যে কোন সোস্যাল নেটওয়ার্ক (ফেসবুক, টুইটার, গুগলপ্লাস, লিংক্‌ডইন প্রভৃতি)-এ শেয়ার করার জন্যেই আদর্শিক। এই মাপের ছবি সোস্যাল নেটওয়ার্ক গুলোর পোষ্ট হিসেবে ঠিকঠাক মপেই দেখা যায়। তাছাড়া বড় আকারের ছবি ব্যবহার করলে তা প্রায়ই ব্লগের বডি ব্লকের সাইজ মেইনটেইন করতে গিয়ে ছোট আকারে চলে আসে, তখন অনেক সময় সেটি দেখতে আর ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। এছাড়াও বেশি বড় সাইজের ইমেজ সাইজ হলে তা লোড হতেও অনেক সময় লাগায়, যা ব্লগ রিডারদের মনযোগ নষ্ট করে কিংবা পোষ্ট বিমুখী করে দেয়। 

আপনি চাইলে এর মাপের বাইরেও ছবি ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেটি নির্ভর করবে আপনার পোষ্টের বিষয়বস্তু, আর পোষ্ট সাজানোর উপর ভিত্তি করে।


১২০০ x ৬৭৫ পিক্সেলের মূল ছবি - সাইজ ৪৯৯.৬ কিলোবাইট
তুলনা করার জন্যে আমরা একটি ছবি নিলাম। যেটির মাপ দৈর্ঘে ১২০০ পিক্সেল এবং লম্বায় ৬৭৫ পিক্সেল, ছবিটির ফাইল সাইজ ৪৯৯.৬ কিলোবাইট। এই ছবিটি এখন আমরা কয়েকটি অনলাইন ইমেজ অটপিমাইজার টুল দিয়ে অপটিমাইজ করে দেখবো কি অবস্থা হয়। 



Compressor.io

এই সাইটটি থেকে খুব সহজেই আপনি আপনার ছবি অপটিমাইজ করতে পারবেন। সাইটটি JPG, JPEG, PNG, GIF এবং SVG ফাইল নিয়ে কাজ করতে পারে। সাধারণত ছবির কোন ক্ষতি না করেই এর ফাইল সাইজ কমিয়ে আনার ব্যাপারে এটি দারুণ কাজ করে থাকে। তবে এই সাইটটি একই সময় কেবল একটি ছবি অপটিমাইজ করার সুবিধা প্রদাণ করে। আপনার অনেক গুলো ছবি থাকলে একটি একটি করে আপলোড করে তা অপটিমাইজ করে নিয়ে ডাওনলোড করতে হবে। 



TinyJPG

ইমেজ অপটিমাইজেশনের সাজেশন চাইলে গুগলে যে কয়েকটি রেজাল্ট পাওয়া যায় তার প্রথম ২/৩ এর মধ্যেই এই সাইটটির অবস্থান। এটি মোটামুটি পুরনো ও নির্ভরযোগ্য একটি সাইট, পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগিং করার জন্যে এদের আলাদা প্লাগ-ইন রয়েছে। সাইটটি কেবল JPEG এবং PNG ফরম্যাটের ছবি নিয়ে কাজ করতে পারে। ফাইল সাইজ কমিয়ে আনবার ব্যাপারে সেও খুব দারুণ কাজ করে। ছবির ক্ষতি না করে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই কমিয়ে নিয়ে আসে ফাইল সাইজ। পাশাপাশি আপনি একই সাথে ৫ মেগাবাইট করে ২০ টি ছবি একই সাথে এই ওয়েব এ্যাপের মাধ্যমে প্রসেস করতে পারবেন। 



Optimizilla

Optimizilla আপনার ছবিটির যথাসম্ভব সাইজ কমিয়ে আনে ছবির প্রকৃতি নষ্ট না করেই। পাশাপাশি আপনি চাইলে আপনি আপনার ছবিটি কতটুকু কমপ্রেস করতে চান তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন এই ওয়েব এ্যাপটিতে। সাইটটি JPEG এবং PNG ফরম্যাটের ছবি নিয়ে কাজ করতে পারে। আর একই সাথে এ্যাপটি ২০ টি ছবিকে অপটিমাইজ করার কাজ করতে সক্ষম। 



ShortPixel

ShortPixel ওয়েব এ্যাপের মাধ্যমে আপনি ১০ মেগাবাইট ফাইল সাইজের ৫০ টি ছবি একসাথে অপটিমাইজ করার সুযোগ পাবেন। সাইটটি JPEG, PNG এবং নন-এনিমেটেড GIF ফাইল অপটিমাইজ করতে পারবে। অপটিমাইজেশন শেষে ডাওনলোডের পূর্বেই ইচ্ছে হলে আপনি ছবির হাল খুব সহজেই তুলনার অনুপাতে দেখে নিতে পারবেন। 



লেখাটি অনেক লম্বা হয়ে গেলো, তারপরও যদি কেউ এটি থেকে বিন্দুমাত্র উপকৃত হয় তাহলে কিস্ট্রোক গুলো সার্থক হবে। 




বৃহস্পতিবার, মে ৩০, ২০১৯

অনুবাদ গল্পঃ রাজা এবং চিত্রশিল্পী


সে অনেক...অনেকদিন আগের কথা। সেই দূর সিমান্ত পেরিয়ে সাগরের নীল ঘেষে ছিল এক রাজ্য। গল্পে গল্পে আমরা যে সুখ-সম্মৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ রাজ্যের কথা বলি, এই রাজ্যটি ছিলো ঠিক তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। সেই রাজ্যে গরীব থাকলেও কেউ অনাহরী ছিলো না। ক্ষুধা পেটে নিয়ে কেউ ঘুমাতে যেতো না। অভাবে স্বভাব নষ্ট করে কেউ সেখানে চুরি করতে যেতো না। পরিপূর্ণ সুখের নগরি বলতে আমরা যেমনটা কল্পনা করি, রাজ্যটি ছিল ঠিক সেই রকমের। 

কিন্তু এত সব পূর্নতার মাঝেও সেখানে একটি অপূর্ণতা ঠিকই উপস্থিত ছিলো। সেই রাজ্যের যে রাজা, সে সুখে থাকলেও শারিরিক ভাবে সে ছিলো অপূর্ণ। সেই ছোট্ট কালে একবার দারুণ অসুস্থ হয়ে তাকে হারাতে হয় তার একটি পা আর একটি চোখ। অথচ শারিরিক এই অপূর্ণতা কখনোই তার হৃদয়ে ভালোবাসার কমতি ফেলেনি। যেমনটি তার হৃদয় ছিলো কোমলোতায় পরিপূর্ণ তেমনি তার মগজ ছিলো সুক্ষ্মবুদ্ধিতে ভরপুর। আর তাইতো রাজ্যের সবাই তাদের এই প্রজাবৎসল রাজাকে সত্যিকার অর্থেই হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতো, তার মঙ্গল কামনা করতো। 

তো একদিনের কথা, সেদিন রাজা দরবারের কাজ শেষ করে তার প্রাসাদ ঘুরে ঘুরে দেখছিলো। প্রাসাদের হলঘর ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে গিয়ে চোখ পড়লো তার পূর্বপুরুষদের তৈলচিত্রের দিকে। চিত্রে তার সব পূর্বপুরুষ ব্যক্তিত্ব দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। এই হল দিয়ে পার হবার সময় ছবিগুলোতে চোখ পড়লেই গর্বে তার বুক ফুলে উঠে। সে জানে, তার মতই তার অনুজেরা এই হল দিয়ে হেঁটে যাবার সময় গর্বিত হবে। তারা এই তৈলচিত্র দেখেই তাদের পূর্বপুরুষদের বুঝতে শিখবে, স্মৃতিতে জড়িয়ে রাখবে। তাদের ব্যক্তিত্ব আর মহত্বকে নিজেদর মধ্যে ধারণ করবে। 

এইসব ভাবতে ভাবতেই মনে পড়লো, পূর্বপুরুষদের এই সারি সারি ছবির মধ্যে এখনো তার ছবিটি স্থান পায় নি। আর পারবেই বা কিভাবে! তার এই অপুর্ণ শারিরিক অবস্থা এতটা প্রসন্ন হয়নি যে বলিষ্ঠ একটি চরিত্র ঐরকম একটি তৈলচিত্রে ফুটে উঠবে। এই ভেবেই হঠাতই তার মন খারাপ হয়ে উঠলো। তারপরও সে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। পরবর্তি দিনই রাজসভায় সে এই কথা উঠালো। আর তারপরই নানা রাজ্যের চিত্রকরদের তার রাজদরবারে নিমন্ত্রণ জানিয়ে আনা হলো। 

দূর দূরান্ত থেকে অনেক নামীদামী চিত্রকর উপস্থিত হলো সেই দরবারে। উপস্থিত সেই মজলিসে রাজা বললেন- 

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ আমার আমন্ত্রণে সাড়া দেবার জন্যে। আমি খুবই আনন্দিত যে আপনারা এত অল্প সময়ে নিজ নিজ ব্যস্ততা ফেলে আমরার আমন্ত্রণ রক্ষা করতে আমার দরবারে উপস্থিত হয়েছেন। অবশ্য এভাবে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। 

আপনারা সকলেই জানেন আমাদের এই রাজপরিবারের শেকড় এই রাজ্যের গোড়াপত্তন থেকেই রাজ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে আসছে। আমার সকল পূর্বপুরুষেরা বেশ সফলতার সাথেই তাদের এই রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণ আর নিরাপত্তা প্রদাণ করেছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় আজকে এই সিংহাসনে আমার অবস্থান। 

পূর্বপুরুষদের মত না হলেও আমি চেষ্টা করেছি আমার সর্বোচ্চোটা দিয়ে তাদের এই সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। কিন্তু তবুও আমার শারিরিক অপূর্ণতা আমাকে কিছু বিষয় থেকে হয়তো পিছিয়ে রেখেছে। হয়তো আমার এই অপূর্ণতা আমার মাঝেও একটি হীনমন্যতা সৃষ্টি করেছে। আর সেই হীনমন্যতার কারণেই এখন অব্দি আমি আমার পূর্বপুরুষদের পারিবারিক তৈলচিত্রের সাথে নিজের একটি চিত্র এখনো স্থান দিতে পারি নি। 

বন্ধুগন, অনেক দেরিতে হলেও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার পূর্বপুরুষেরা তৈলচিত্রের যে মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের নিজ নিজ বৈশিষ্ট আর বলিষ্ঠতার বার্তা তাদের অনুজদের নিকট পৌঁছানোর জন্যে রেখে গেছেন; সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমিও আমার একটি চিত্র আমার পূর্বপুরুষদের সাথে রেখে যেতে চাই। যাতে আমার পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের তৈলচিত্র দেখে আমাদের বুঝতে পারে, অনুধাবন করতে পারে, তৈরি করতে পারে আপন বৈশিষ্ট আমাদের আদলে। 

সম্মানিত বন্ধুগন, আপনারা সকলেই আমার শারিরিক অপূর্ণতা লক্ষ করেছেন। আমি চাই না আমার এই শারিরিক অপূর্ণতা সেই চিত্রে স্থান পাক। বরং আমি চাই এই শারিরিক অপূর্ণতা ঢেকে এমন একটি তৈলচিত্র তৈরি হোক, যা দেখে আমার পরবর্তী প্রজন্মের অনুজেরা অনুপ্রেরণা পাবে; যেমনটি আমি আমার পূর্বপুরুষদের চিত্র দেখে পেয়েছি। 

আর এমন একটি অসাধারণ চিত্র অঙ্কনের দায়িত্ব আমি আপনাদের উপর অর্পন করছি। যদি আপনাদের মাঝে কেউ এই অসম্ভবটি সম্ভব করতে পারেন তাকে এই দরবার হতে পুরস্কৃত এবং সম্মানিত করা হবে। 



রাজার এমন আহ্বানে সকল চিত্রশিল্পী চিন্তায় পড়ে গেলো। একজন রাজা, যার একটি চোখ এবং একটি পা নেই; আদৌ কি তার এমন কোন চিত্র অঙ্কন করা সম্ভব যা হবে তার পূর্ববর্তী পুরুষদের মত বলিষ্ঠ আর আকর্ষনীয়! নামী দামী সকল চিত্রকরই অনুধাবন করলেন এমন আকর্ষণীয় কোন চিত্র আসলে তৈরি করা সম্ভব নয়। আর যদি চিত্রে ভুল করে কেউ তার এই অপূর্ণ প্রতিকৃতি ফুটিয়েই তোলে তাতে রাজার আপন ব্যক্তিত্ব পরবর্তী প্রজন্মের নিকট প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে রইবে। আর সেটি দেখে রাজার মনক্ষুন্ন হতে পারে, যার ফলাফল হিসেবে মিলতে পারে কঠিন শাস্তি। তাই একে একে সকল চিত্রশিল্পীই নানান ছুতোয় নিজেদের ব্যর্থতা প্রকাশ করতে লাগলেন।  


কিন্তু আমন্ত্রিত এই চিত্রশিল্পীদের মাঝেই এক অখ্যাত চিত্রকর হাত তুলে রাজার দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করলেন। রাজা যখন তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে কথা বলবার অনুমতি দিলেন তখন সেই চিত্রকর বলল- আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি যা চাচ্ছেন তা আমি তৈরি করে দিতে পারবো। কিন্তু আমি যেহেতু কোন খ্যাতমান চিত্রকর নই তাই আপনি আদৌ কি আমাকে আপনার তৈলচিত্রটি অঙ্কন করার অনুমতি প্রদাণ করবেন?

চিত্রকরের এমন কথা শুনে রাজা বললো- আমি খুব আনন্দের সাথেই আপনাকে আমার এমন একটি চিত্র অঙ্কনের অনুমতি প্রদাণ করলাম। 

বাকি সব নামী-দামী চিত্রকর এমন প্রস্তাবে হতবাক হয়ে গেলো। তারা ভেবেই পেলো না কিভাবে এমন একটি চিত্র তৈরি হবে যেখানে রাজার অপূর্ণতা ঢেকে তাকে বেশ আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করা যাবে! তাও আবার সেটি আঁকবে এক অখ্যাত চিত্রকর, যার নাম আজকের এই মজলিসে উপস্থিত হয়েও অনেকের অজানা!


রাজার অনুমতি নিয়েই সেই অখ্যাত চিত্রকর তার কাজ শুরু করলেন। রাজদরবারের এক কোনে তাকে তার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রদাণ করা হলো। আর সকল সরঞ্জমাদি হাতে পেয়েই শুরু করলো চিত্রকর তার কাজ। 

ঘন্টার পর ঘন্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। সব চিত্রকরের মধ্যে ফিস্‌ফিস শব্দে নানা কথা ঘুরছে দরবার জুড়ে। সবাই আশঙ্কা করছে আজই গর্দান যাবে এই গর্দভ চিত্রকরের। 

দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা, সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে চিত্রকরের তৈরি সেই কাঙ্খিত চিত্রটি দেখবার জন্যে। দিন গরিয়ে সন্ধ্যায় সকলেই ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। কিন্তু তাদের আগ্রহের সামনে তাদের ক্লান্তি আর ক্ষুধার যেন মৃত্যু ঘটেছে আজ। 


সন্ধ্যার বেশ খানিকটা পর চিত্রকর তার হাতের ব্রাশটি রাখলেন। জানালেন তার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সাথে সাথেই দুইজন প্রহরী এসে চিত্রকরের ক্যানভাসটি রাজদরবারের  দিকে ঘুরিয়ে দিলো। মজলিসে উপস্থিত সকল মন্ত্রী, সকল সভাসদস্য, খ্যাতিমান চিত্রকরেরা এমনকি খোদ রাজা নিজেই সেই চিত্র দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে রইলেন! 

এ কি করে সম্ভব! এমনটাও যে হতে পারে তা কি ভেবে দেখেছিল কেউ! 

রাজা ঠিক যেভাবে তার তৈলচিত্রে তার ব্যক্তিত্ব আর বৈশিষ্টকে ফুটিয়ে তুলতে অনুরোধ করেছিলেন, ঠিক ঐভাবেই তাকে এই তৈলচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিস্ময়ে কারও মুখে কোন রা'ও ফুটলো না। 

চিত্রকর তার ঐ তৈলচিত্রে রাজাকে একেছেন এমন একটি ভঙ্গিমায় যেখানে রাজা একটি ঘোড়ার উপর বসে আছেন, আর সে তার একটি চোখ বন্ধ করে আরেকটি চোখ দিয়ে তীরের নিশানা ঠিক করছেন। তার ঐ ভঙ্গীমায় তার সেই অপূর্ণ একটি চোখ আর একটি পা সম্পূর্ণরূপে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। আর একই সাথে প্রকাশ পাচ্ছে রাজার বিচক্ষণতা, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আর রাজা হিসেবে তার রাজ্যের রক্ষণক্ষমতা! 


তৈলচিত্রটি দেখে রাজা দারুণ খুশি হয়ে উঠলেন। আর একই সাথে ঐ অখ্যাত চিত্রশিল্পীকে এই রাজ্যের প্রধাণ চিত্রশিল্পী হিসেবে ঘোষনা দিলেন। সাথে আরও দিলেন মূল্যবান অনেক পুরস্কার। 





⚍⚌⚎⚌⚍⚌⚎  নীতিনিষ্ঠ মূল্যায়ন  ⚍⚌⚎⚌⚍⚌⚎
আমাদের সকলেরই উচিৎ অন্যের ঘাটতিকে উপেক্ষা করে তাদের ইতিবাচক দিককে গ্রহণ করা, তাকে প্রকাশ করা। আমাদের শেখা উচিৎ কিভাবে নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রতিভাটি সকলের সামনে ইতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা যায়। যদি আমরা নেতিবাচক অবস্থাতেও ইতিবাচক চিন্তা করতে পারি, ইতিবাচক মনোভাব দেখাতে পারি তাহলে আমরা আরও বেশি দক্ষতার সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের সকল সমস্যাকে সমাধান করতে সক্ষম হবো। আমাদের ভেতর যেসকল দূর্বলতা ঘাপটি মেরে রয়েছে, সে সকল দূর্বলতা ঢাকতেই আমরা সদা সচেষ্ট থাকি। অথচ যদি ইতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ আমরা ঘটাতে পারি তখন আমাদের ঐসব দূর্বলতা কাটিয়ে আমরা সকলেই একই কাতারে এসে দাড়াতে পারবো। হতে পারবো নিজ নিজ ক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠতম একজন! 








…………………………………………
মূল লেখকঃ অজ্ঞাত
সোর্সঃ "Moral Stories" via pinterest.com

রবিবার, মার্চ ১০, ২০১৯

সম্প্রতি দেখা সিনেমাঃ Rampage (2018)


২০১৮ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায় ‘দ্যা রক’ ক্ষ্যাত ‘ডুয়েইন জনসন’ এর এ্যাকশন ঘরনার চলচিত্র 'Rampage'। মুভিটিতে ডুয়েইন জনসন অভিনয় করেন ডেভিস ওকোয়ে চরিত্রে।

মুভিতে দেখানো হয় ডেভিস একজন প্রাক্তন মর্কিন সেনা যে বর্তমানে বন্যপ্রাণী দেখাশোনার একটি পার্কে কর্মরত আছে। ডেভিস মানুষের চাইতে বন্যপ্রাণীদের সাথে বেশি বন্ধুভাবাপন্ন একজন ব্যক্তি। এই পার্কের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে ‘জর্জ’ নামের একটি গরিলা ডেভিসের প্রিয় বন্ধু। আর্মিতে বন্যপ্রাণীদের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকাকালীণ সময় সে এই বিলুপ্তপ্রায় গরিলাটিকে উদ্ধার করে এখানে নিয়ে আসে। আর একই সাথে ডেভিসের সাথে জর্জের বোঝাপড়াটা দারুণ ভাবে গড়ে উঠে। জর্জ গরিলা হলেও সে দারুণ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন একটি গরিলা, এটি মুভির শুরুতেই চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


এদিকে ‘এনার্জিন’ নামক এটি প্রতিষ্ঠান তাদের একটি প্রজেক্টে জিন মেনিপুলেশন করে একটি বায়ো-উইপন তৈরি করে, আর সেই উইপনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্যে একে পাঠায় তাদের স্পেসশিপে অবস্থিত ল্যাবে। সেখানে পরীক্ষাধীন সময় এই উইপনের মারাত্বক দিকটি প্রাকাশ পায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, নিয়ন্ত্রণের মাত্রা ছাড়িয়ে সেটি। টেস্ট সাবজেক্ট হিসেবে ব্যবহৃত ইদুরটি ততক্ষণে রূপান্তরিত হয়েছে এক ভয়ানক দানবে। সুযোগ বুঝেই খুন করেছে স্পেসশিপে কর্মরত প্রায় সকলকে। তার মাঝেই কোনভাবে টিকে যাওয়া একজন বিজ্ঞানী এই পরিস্থিতির আপডেট জানিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে ‘এনার্জিন’ এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লায়ার উইডেন এর কাছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির কথা জেনেও ক্লায়ার দৃঢ়কণ্ঠে জানায় যে, তাকে কখনই সহায়তা করা হবে যখন সে তাদের বায়ো-উইপনের স্যাম্পল এনার্জিন-এর কাছে পুনরায় হস্তান্তর করতে পারবে। প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও শেষ পর্যন্ত স্পেসশিপের ধ্বংসযজ্ঞে বেঁচে যাওয়া বিজ্ঞানি কাঙ্খিত ঐ স্যাম্পল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু তবুও দুর্ঘটনার কবল থেকে সে বাঁচতে পারে নি। বিদ্ধস্ত যে ইমার্জেন্সি স্কেপশিপে করে সে রওনা হয়েছিল তা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকতেই বিষ্ফোরণের স্বীকার হয়। আর একই সাথে ঐ স্পেসশিপে থাকা ঐ বায়ো-উইপনের স্যাম্পল ছড়িয়ে পড়ে আলাদা আলাদা তিন প্রান্তে।

বায়ো-উইপনের স্যাম্পল ছড়িয়ে পড়া তিন প্রান্তে আক্রান্ত হয় তিনটি বন্যপ্রাণী, যার একটি ছিল জর্জ। বায়ো-উইপনের প্রভাবে আক্রান্ত হয়ে জর্জ অশান্ত হয়ে উঠে। রাতের আধারেই সে হিংস্রাত্মক হয়ে আক্রমন করে বসে তার সাথে থাকা অন্য আরেকটি গরিলাকে, জর্জের হাতে খুন হয় সেই গরিলা। এদিকে একই সাথে জর্জের মধ্যে পরিবর্তন আসতে থাকে। জর্জ তার পরিবর্তন বুঝতে পেরে নিজেই ভীত হয়ে উঠে। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে আলাদা করে ফেলে বাকি গরিলাদের থেকে। পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে বুঝতে পারে তার মাঝে কোন একটা সমস্যা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিয়মে হবার নয়। বিচলিত হয়ে পড়ে ডেভিস।



অন্যদিকে মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট এভাবে হাতছাড়া হয়ে যাবার কারনে পাগল হয়ে উঠে ক্লায়ার। যে কোন মূল্যেই ফিরে চায় সে তার প্রজেক্টের স্যাম্পল। আর সেই ধারাবাকিহতায় ঐ স্যাম্পল উদ্ধারে পাঠায় ভাড়া করা কিছু খুনে সৈনিকদের। কিন্তু স্যাম্পল উদ্ধারের এই মিশন ব্যর্থ হয় যখন খুনে সৈনিকদের সবাই মারা পড়ে বায়ো-উইপনের প্রভাবে আক্রান্ত নেকড়ের কবলে।


ওদিকে নিজের আবিস্কারের এমন ভয়ানক অবস্থা জানতে পেরে প্রাক্তন এনার্জন এর কর্মী কেইট চলে যায় জর্জকে সংরক্ষণ করা পার্কে। সেখানে সে ডেভিসকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, এই অবস্থা থেকে সে জর্জকে রেহাই দিতে সক্ষম। আর এরই মাঝে জর্জ নিজের নিয়ন্ত্রন হারায়। ক্ষুদ্ধ হয়ে জর্জ আপন সেল ভেঙ্গে বেরিয়ে পড়ে লোকালয়ে। অবশ্য খুব বেশিদূর যেতে পারে নি সে। এফ.বি.আই এর অতর্কিত আক্রমনে জর্জ সঙ্গা হারায়। তারা জর্জকে নিয়ে যেতে চায় তাদের ক্যাম্পে। সাথে নিয়ে যায় ডেভিস আর কেইটকে। ডেভিসের অনুরোধ স্বত্তেও এই অভিযানের দায়িত্বে থাকা হার্ভে রাসেল জর্জকে নিয়ে রওনা হয় উড়োজাহাজে।

পথিমধ্যে জর্জ আবারও তার জ্ঞান ফিরে পেয়েই শুরু করে তার ধ্বংসযজ্ঞ। ডেভিস উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগে কেইট এবং রাসেলকে উদ্ধার করে এই ধ্বংসযজ্ঞ হতে। জর্জের তান্ডবে ভুপতিত হয় তাদের বহনকারী উড়োজাহাজ। তারা ধারণা করেছিল বিমান ভুপতিত হবার এই ঘটনাতেই মারা পড়বে জর্জ। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে জর্জ এই ধ্বংসস্তুপ থেকে পালায়।

এরই মাঝে ক্লেয়ার নতুন ফন্দি বের করে। সে তাদের যোগাযোগ মডিউলের বিশেষ পরিবর্তন এনে একত্রিত করতে চায় বায়ো-উইপনের প্রভাবে আক্রান্ত জানোয়ার গুলোকে। সে এমন এক মাইক্রোওয়েভ সাউন্ডের সৃষ্টি করে যা শুনে আক্রান্ত জানোয়ার গুলি ধেয়ে আসবে শব্দ উৎপাদনকারী এনার্জিকের টাওয়ারের দিকে। আর সেই শব্দের প্রভাবেই তিন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তিন জানোয়ার ধেয়ে আসতে থাকে শহরের দিকে। মার্কিন মেলিটারিরা চেষ্টা করে তাদের থামাতে, এম্বুস করে এদের ধ্বংস করতে চেষ্টা করে। বোমা হামলা চালায়, কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হচ্ছিল না। বরং তাদের গড়া একের পর এক নিরাপত্তা বলয় ভেঙ্গে চুরমার করে শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল জানোয়ারগুলো।



মার্কিন মেলিটারি অবস্থার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে শহর থেকে মানুষকে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে। আর জানোয়ার গুলোর ধ্বংসলীলা থামাতে বিষ্ফোরক দিয়ে পুরো শহর সহ গুড়িয়ে দেবার প্রস্তুতি নেয়। ডেভিস এমন সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করে যে এই অল্প সময়ে পুরো শহরের লোকজন বের করে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আর তাই কেইটকে নিয়ে মিলিটারি ক্যাম্প থেকে পালিয়ে রওনা হয় এনার্জিন-এর দিকে।

শেষ পর্যন্ত অনেক ক্লাইমেক্স পেরিয়ে ডেভিস আর কেইট বায়ো-উইপনের এন্টিডোট উদ্ধার করে জর্জকে তার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। আর একই সাথে জর্জের সহায়তায় বাকি দুই জানোয়ার শেয়াল ও কুমিরকে খুন করে দূর্যোগপূর্ণ অবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে নিজেদের দিকে। শহরশুদ্ধ মানুষকে হিংস্র জানোয়ার আর বোমার বিষ্ফোরনের নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বের করে নিয়ে আসে ডেভিস এবং জর্জ।




যারা নিয়মিত মুভি দেখেন তারা এই একই ধরণের স্ক্রিপ্ট ধরে এগিয়ে চলা অনেক-অনেক মুভিই ইতোমধ্যে দেখে ফেলেছেন বলেই আমার বিশ্বাস। খুব অল্প কিছু পরবর্তন ছাড়া এই একই ধরণের দুর্যোগপূর্ণ মারমার-কাটকাট মুভি রয়েছে বেশ অনেক সংখ্যক। গরিলার সাথে মানুষের যোগাযোগ আর দুষ্টামি-বুদ্ধিতে ভরপুর গরিলা ছাড়া বাকি মুভিতে কখন কি হতে পারে তা প্রায় সকল হলিউড ভিত্তিক মুভির দর্শকেরা সহজেই অনুমান করে নিতে পারবে। ডেভিসের চরিত্রে অভিনয় করা রককে কিছু স্থানে দেখানো হয়েছে অতিপ্রাকৃতিক শক্তিধর একজন হিসেবে। আবার বায়ো-উইপন দ্বারা আক্রান্ত জানোয়ার গুলোকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আকারে দেখানো হয়েছে, যা গল্পের সাথে একদমই বেমানান ঠেকেছে।

প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত এ্যাকশন সিনেমা হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে অনেক বেশি বিষ্ফোরণ আর ধ্বংসলীলা দেখানো হয়েছে। বারবার করে যেন নিজে ইচ্ছেতে ধরা দিচ্ছিল উদ্ধার করতে আসা যুদ্ধ বিমান গুলো। যদিও মুভি স্ক্রিপ্টে “বন্যপ্রাণীর সাথে মানুষের মেলবন্ধন”-এর ব্যাপারটাকে হাইলাইট করে দেখানো হয়েছে, তবুও এখানে গল্পে/স্ক্রিপ্টে অনেক বেশি পরিমানে বিচ্ছিন্নতা আর অসঙ্গতিপূর্ণ বিশৃঙ্খলাই নজরে এসেছে। মুভির একটি দৃশ্যস্তর পার করে অন্য দৃশ্যে প্রবেশের সময় চরিত্রগুলোও যেন তাদের দিক হারিয়ে ফেলছিল বারবার। এছাড়া ডেভিস এবং জর্জ চরিত্রদুটি ছাড়া বাকি চরিত্রগুলোর কোন প্রভাবই যেন মুভিজুড়ে অনুপস্থিত লেগেছে।

সিনেমার ঘটনা ছাড়াই যাদের কাছে ধুম-ধাম পছন্দ, তাদের কাছে মুভিটি ভালো লাগতে পারে। কিন্তু যারা এ্যাকশনের সাথে গল্পের ধারাবাহিকতা আর গভীরতা পছন্দ করেন, তাদের কাছে হয়তো মুভিটা পানসেই লাগবে।



যদিও IMDB-তে Rampage রেটিং পেয়েছে ১০ এর মধ্যে ৬.১
কিন্তু ব্যক্তিগত রেটিং হিসেবে আমি মুভিটিকে ১০ এর মধ্যে ৩ দেবো।



সস্তা বিনোদনের আশা নিয়ে মুভিটি দেখা যেতে পারে। ব্যাক্তিগত ভাবে মুভিটি আমার তেমন আকর্ষণীয় কিছু মনে হয়নি। আশা করছি যারা ইতোমধ্যে মুভিটি দেখেছেন তারা মুভিটি সম্পর্কে নিজেদের মতামত জানাবেন 🙂