![]() |
| বিনামূল্যে AI দিয়ে ছবি তৈরির ৭টি সেরা টুল |
ব্লগের জন্য একটা ছবি দরকার। কিংবা ফেসবুকে পোস্ট দেবেন, অথবা নিজের লেখা গল্পের জন্য মনের মতো একটা প্রচ্ছদ চাই। কিন্তু তুলি ধরতে জানেন না, গুগলে খুঁজেও পছন্দসই ছবি মিলছে না, ফটোশপ দেখলে আবার মাথা ঘুরে যায়। তাহলে উপায়?
উপায় আছে, আর সেটা এখন হাতের মুঠোয়। এআই ইমেজ জেনারেটরকে শুধু বলে দিন আপনি কেমন ছবি চান, বাকিটা সে-ই করে দেবে। ধরুন, বৃষ্টির সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার সরু গলি দিয়ে একজন মানুষ হেঁটে যাচ্ছে, দু'পাশে পুরোনো বাড়ি, আর রাস্তার আলোয় ভেজা পিচ চকচক করছে। এই দৃশ্যের জন্য আর ক্যামেরা কাঁধে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না। কয়েকটা বাক্য লিখলেই হলো।
তবে একটা ঝামেলাও আছে। অনেকেই একটা টুল দিয়ে শুরু করেন, দু-তিনটা ছবি বানাতেই দেখেন ব্যবহারের সীমা শেষ। আবার কেউ চমৎকার ছবি পেলেও তাতে লেখা বসাতে গিয়ে বানান গুলিয়ে ফেলেন। সত্যি বলতে, সব কাজের জন্য একটাই টুলের দরকার নেই। তাই আজ সাতটা টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, দেখুন কোনটা আপনার কাজে লাগে।
⠀⠀
১. Google Gemini: চ্যাট করতে করতেই ছবি
লিংক: Google Gemini
Gemini-র মজা হলো, আলাদা কোনো জটিল সেটিংস নেই। কথা বলার মতো করেই ছবি চাইতে হয়। আর ছবি পছন্দ না হলে নতুন করে সব লেখার দরকার নেই, শুধু বলুন কী বদলাতে চান।
ধরুন, গল্পের জন্য ঢাকার একটা পুরোনো মহল্লার ছবি বানালেন। দেখে মনে হলো, সন্ধ্যা হলে আরও জমত। তখন শুধু লিখুন, "আলো কমিয়ে সন্ধ্যার আবহ তৈরি করো, রাস্তার বাতিগুলো জ্বালিয়ে দাও।" ব্যস, ধাপে ধাপে ছবিটা নিজের মনের মতো হয়ে উঠবে। মোবাইলেও চলে, তাই কম্পিউটার না থাকলেও সমস্যা নেই।
কখন কাজে লাগবে: গল্পের দৃশ্য, ব্লগের ফিচার ইমেজ, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট কিংবা মাথায় ঘুরতে থাকা যেকোনো সৃজনশীল ভাবনা।
ফ্রি অ্যাকাউন্টে কয়টা ছবি পাবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। সীমা ও সুবিধা সময়ের সঙ্গে বদলায়।
⠀⠀
২. ChatGPT: যেমন ভাবছেন, ঠিক তেমন করে বুঝিয়ে বলুন
লিংক: ChatGPT
ChatGPT-র সবচেয়ে ভালো দিক আমার কাছে এর কথোপকথনের ধরন। একটা নির্দেশ দিয়েই থেমে যেতে হয় না। ছবিতে কী থাকবে, পরিবেশ কেমন হবে, কোন জিনিসটা সবার আগে চোখে পড়বে, এসব নিয়ে একটু একটু করে এগোনো যায়।
গল্পের প্রচ্ছদ বানাতে গেলে এটা বেশ কাজে দেয়। মনে করুন, বইয়ের কভারে একজন জানালার পাশে বসে আছে। ঘর অন্ধকার, বাইরে বৃষ্টি, কাচে শহরের আলোর প্রতিফলন। প্রথমবার সব ঠিকঠাক না এলে পরিবর্তন চেয়ে নিন।
একটা সতর্কতা: ছবির ভেতরে বাংলা বা ইংরেজি লেখা পুরোপুরি নিখুঁত না-ও আসতে পারে। শিরোনামে বানান বা অক্ষর গোলমাল হলে আলাদা সফটওয়্যারে লেখাটা বসিয়ে নেওয়াই নিরাপদ।
ছোট্ট পরামর্শ: শুধু "সুন্দর একটা ছবি বানাও" লিখে বসে থাকবেন না। ছবিটা কোথায় ব্যবহার করবেন, সেটাও বলে দিন। বইয়ের প্রচ্ছদ, ব্লগের ছবি আর ফেসবুক পোস্ট তো এক জিনিস নয়।
ফ্রি অ্যাকাউন্টেও ছবি বানানো যায়, তবে সীমা বদলাতে পারে।
শুরুর জন্য একটা প্রম্পটের উদাহরণ:
প্রম্পট লিখতে গিয়ে অনেকেই আটকে যান। আসলে শুরুতে জটিল কিছুর দরকার নেই। ছবির বিষয়, পরিবেশ, আলো আর দৃশ্যের ধরন, এই চারটা পরিষ্কার লিখলেই কাজ চলে। এটা দিয়ে শুরু করে দেখুন:
Cinematic street photography of a 20-year-old South Asian student wearing a casual denim jacket, walking through a lively Dhaka street in the golden hour before sunset. Warm natural lighting, intricate facial details, realistic skin texture, shallow depth of field with creamy bokeh background, shot on 85mm f/1.4 lens, high resolution, ultra-photorealistic.
এখানে ঢাকার রাস্তায় ডেনিম জ্যাকেট পরা এক তরুণের ছবি চাওয়া হয়েছে। চাইলে "Dhaka street"-এর জায়গায় গ্রামের মেঠো পথ, পাহাড়ি রাস্তা বা সমুদ্রসৈকত বসিয়ে দিন। পোশাক, বয়স, আলোও বদলে নিতে পারেন। প্রথমবারে মনমতো ছবি না এলে মন খারাপ করবেন না, এদিক-ওদিক করে দেখাটাই এ কাজের অংশ।
⠀⠀
৩. Bing Image Creator: দ্রুত কয়েকটা ছবি দেখতে চাইলে
লিংক: Bing Images
প্রাণোচ্ছলমাথায় একটা আইডিয়া এসেছে, কিন্তু দেখতে কেমন হবে বুঝতে পারছেন না? তখন Bing Image Creator-এ ভাবনাটা লিখে দিন। এটি একসঙ্গে কয়েক রকমের ছবি দেখাতে পারে, তার মধ্য থেকে পছন্দেরটা নিয়ে আরও কাজ করা যায়।
প্রযুক্তি নিয়ে লিখছেন? ভবিষ্যতের শহরের ছবি চেয়ে দেখুন। আকাশে উড়ন্ত গাড়ি থাকবে কি না, রঙটা কেমন হবে, সবই লিখে দিন। তারপর কয়েকটা সম্ভাব্য রূপ পাশাপাশি দেখে নিন।
এটি Microsoft-এর সেবা, তাই সাধারণত একটা Microsoft অ্যাকাউন্ট লাগে। বিনা মূল্যে ব্যবহার করা গেলেও দ্রুত ছবি তৈরির ক্রেডিট ও অন্যান্য সীমা বদলাতে পারে।
কাজে লাগবে: ব্লগ ও ফেসবুক পোস্টের ছবি, কল্পনার দৃশ্য, ডিজাইনের প্রাথমিক ধারণা, একই বিষয়ের একাধিক রূপ।
শুধু মনে রাখবেন, অনেকগুলো ছবি তাড়াতাড়ি পাওয়া আর প্রতিটা ছবি ভালো হওয়া এক কথা নয়। সেরাটা বেছে নিতে একটু সময় হাতে রাখুন।
⠀⠀
৪. Google ImageFX: ছবিতে বাস্তবের ছোঁয়া চাইলে
লিংক: Google Image-FX | Flow
কিছু ছবি দেখলে মনে হয় সত্যিকারের ক্যামেরায় তোলা। আবার কোনোটায় এআইয়ের কৃত্রিম ভাব ধরা পড়ে যায় এক নজরেই। ছবি যদি ফটোগ্রাফির কাছাকাছি চান, তাহলে ImageFX একবার পরখ করে দেখতে পারেন। মানুষের প্রতিকৃতি, প্রাকৃতিক আলোর দৃশ্য কিংবা সিনেমার স্থিরচিত্রের মতো ছবির জন্য এটা ভালো। প্রম্পট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সহজ।
তবে ImageFX Google Labs-এর পরীক্ষামূলক টুল। তাই সবার জন্য সব সময় খোলা থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সাইটে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে চালু আছে কি না, আগে দেখে নিন।
কাজে লাগবে: গল্পের চরিত্রের প্রতিকৃতি, বাস্তবসম্মত দৃশ্য, আর ব্লগের এমন ছবি যেখানে কার্টুন-কার্টুন ভাব চান না।
⠀⠀
৫. Leonardo AI: একটু শিল্পীর মেজাজে
লিংক: Leonardo AI
সব ছবি তো আর বাস্তবের মতো হতে হবে না। কখনো গেমের চরিত্র লাগে, কখনো কল্পনার কোনো প্রাণী, আবার কখনো এমন দৃশ্য, যা বাস্তবে কোনোদিন ঘটেনি। এসব কাজে Leonardo AI ভালো সঙ্গী হতে পারে।
এখানে নানান মডেল আর আর্ট স্টাইল নিয়ে খেলা যায়। একই ধারণা কখনো বাস্তবসম্মত ছবি, কখনো ডিজিটাল পেইন্টিং, কখনো কল্পনার ইলাস্ট্রেশন হিসেবে বানিয়ে দেখতে পারবেন। গেমের কনসেপ্ট আর্ট, চরিত্রের নকশা বা ডিজিটাল আর্ট যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য এটা বিশেষ কাজের।
ফ্রি অ্যাকাউন্টে টোকেনের হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ মেলে। কতটা টোকেন পাবেন আর একটা ছবিতে কত খরচ হবে, তা নির্ভর করে মডেল ও সেটিংসের ওপর। তাই রোজ নির্দিষ্ট সংখ্যক ছবি পাবেন, এমন হিসাব ধরে এগোবেন না।
⠀⠀
৬. Krea AI: যাঁরা ছবি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ভালোবাসেন
লিংক: Krea AI
ছবি বানানোর পর সেটা আরও স্পষ্ট করতে চান? কিংবা আইডিয়া বদলাতে বদলাতে ফলাফল দেখতে চান? Krea AI-এর কিছু ফিচার এ কাজে সাহায্য করে। এর রিয়েল-টাইম জেনারেশন দিয়ে চটপট ভিজ্যুয়াল আইডিয়া পরখ করা যায়, আর আপস্কেলিং টুলে ছবির রেজল্যুশনও বাড়ানো যায়।
ধরুন, একটা পোস্টারের জন্য কয়েক রকম ডিজাইন ভাবছেন। প্রতিবার গোড়া থেকে না শুরু করে নানান ধারণা পাশাপাশি দেখুন। কোনটা আপনার কাজের সঙ্গে মানায়, সহজেই বুঝে যাবেন।
একটা কথা মাথায় রাখুন। আপস্কেল করলেই ছবির হারানো সব তথ্য ফিরে আসে না। এআই মাঝে মাঝে এমন ডিটেইল বানিয়ে ফেলে, যা আসল ছবিতে ছিলই না। মুখ বা লেখার মতো জরুরি অংশ থাকলে ভালো করে মিলিয়ে নিন। ফ্রি প্ল্যানের সুবিধা ও সীমাও সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
⠀⠀
৭. Perchance AI: অ্যাকাউন্ট ছাড়াই প্রম্পট পরখ
লিংক: Perchance
নতুন প্রম্পট ঝালিয়ে দেখতে গিয়ে বারবার অ্যাকাউন্ট খোলা বা লগইনের ঝক্কি কার ভালো লাগে? Perchance-এর কিছু ইমেজ জেনারেটর এখানে সুবিধা দেয়, কারণ সেগুলো অ্যাকাউন্ট ছাড়াই চলে।
সাইটে ঢুকে প্রম্পট লিখুন, অপশন থাকলে ঠিক করে নিন, তারপর "Generate" বাটনে ক্লিক। ছবি এলে দেখুন মনের ছবির সঙ্গে কতটা মিলল। কোন বর্ণনায় কেমন ছবি আসে, সেটা বোঝার জন্য এটা দারুণ খেলার মাঠ।
তবে সতর্কতা আছে। Perchance-এ নানা জেনারেটর ও সংস্করণ আছে, সব একরকম নয়। তাই অ্যাকাউন্ট লাগবে না, সীমাহীন ব্যবহার করা যাবে বা ওয়াটারমার্ক থাকবে না, এমন দাবি সব সংস্করণের জন্য সত্যি ধরে নেবেন না।
⠀⠀
⠀⠀
কোন কাজে কোনটা?
এতগুলো নাম দেখে ঘাবড়াবেন না। সবকটা একসঙ্গে ধরার দরকারও নেই। কাজের ধরন বুঝে দু-একটা বেছে নিন।
- Gemini: চ্যাট করতে করতে ছবি বানানো ও বদলানো।
- ChatGPT: বিস্তারিত নির্দেশ দিয়ে গল্পের দৃশ্য বা প্রচ্ছদ।
- Bing Image Creator: চটপট নানা আইডিয়ার ছবি দেখা।
- ImageFX: বাস্তবসম্মত প্রতিকৃতি ও দৃশ্য, যদি আপনার অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায়।
- Leonardo AI: ডিজিটাল আর্ট, গেমের চরিত্র, কল্পনার নকশা।
- Krea AI: দ্রুত পরীক্ষা ও ছবি আপস্কেল।
- Perchance: সহজে প্রম্পট ঝালিয়ে নেওয়া।
এটা কোনো চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং নয়। একই প্রম্পটে একটা টুল দারুণ ছবি দিতে পারে, আরেকটা হয়তো মনের মতো হবে না। নিজে চালিয়ে দেখাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
⠀⠀
⠀⠀
ছবি বানানোর সময় পাঁচটি কথা
(এক) একটা টুলে আটকে থাকবেন না। একটার সীমা ফুরোলে অন্যটায় যান। তবে সেটারও নিজস্ব সীমা থাকতে পারে।
(দুই) প্রম্পট একটু একটু করে বদলান। আলো ভালো এসেছে কিন্তু পোশাক পছন্দ হয়নি? তাহলে পুরো প্রম্পট না ঘেঁটে শুধু পোশাকের অংশটা শুধরে নিন।
(তিন) ছবির লেখা যাচাই করুন। প্রচ্ছদ, পোস্টার বা সাইনবোর্ডে বানান ভুল থাকলে ছবি যত সুন্দরই হোক, কাজে লাগানো কঠিন। জরুরি লেখা আলাদা সফটওয়্যারে বসানো অনেক সময় সেরা সমাধান।
(চার) ফ্রি সুবিধার খবর যাচাই করে নিন। অনলাইনে দৈনিক ছবির সংখ্যা নিয়ে হরেক দাবি ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু এসব সংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি বদলে যায়। কাজ শুরুর আগে ওয়েবসাইটে বর্তমান সীমা দেখে নিন।
(পাঁচ) প্রকাশের আগে ব্যবহারের শর্ত পড়ুন। ব্যক্তিগত কাজ আর বাণিজ্যিক কাজের নিয়ম আলাদা হতে পারে। ম্যাগাজিন, বিজ্ঞাপন বা ক্লায়েন্টের কাজে এটা বিশেষভাবে জরুরি।
⠀⠀
⠀⠀
শেষ কথা
এআই দিয়ে ছবি বানানোর আসল মজা হলো, মাথার ভেতরের একটা দৃশ্য কয়েক মিনিটেই চোখের সামনে দেখা যায়। তবে শুধু টুলের নাম জানলেই হবে না। নিজের ভাবনাটা কীভাবে গুছিয়ে বলতে হয়, সেটাও শিখে নিতে হবে। আর সেই শেখাটা আসে হাতে-কলমে চেষ্টা করতে করতেই।
আমার পরামর্শ, প্রথম দিনেই সাতটা টুল নিয়ে বসবেন না। আগে Gemini বা ChatGPT-তে একটা ছবি বানান। তারপর একই আইডিয়া আরেকটা টুলে দিয়ে দেখুন। দুটো ফলাফল পাশাপাশি রাখলেই বুঝে যাবেন, কোনটা আপনার হাতের কাজের সঙ্গে মানায়।
আপনি যদি আগে থেকেই এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার অভিজ্ঞতা জানতে ইচ্ছে করছে। আপনার প্রিয় টুল কোনটা, আর সেটা দিয়ে কী ধরনের ছবি বানান? কমেন্টে জানিয়ে দিন। লেখাটা কাজে লাগলে বন্ধুদের সঙ্গেও শেয়ার করবেন।
⠀⠀
⠀⠀
⠀⠀
⠀⠀
⠀⠀

